Latest News

আড়াই হাজারের আরটি-পিসিআর টেস্ট ৮০০ টাকায়, চাপের মুখে দাম কমাল দিল্লি সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগামছাড়া সংক্রমণ। দৈনিক বৃদ্ধি বেড়েই চলেছে। সংক্রমণে মৃত্যুও বাড়ছে। এদিকে কোভিড টেস্ট কম হয়েছে বলে অভিযোগও উঠেছে। চাপের মুখে তাই রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টের দাম কমাতে বাধ্য হল দিল্লি সরকার।

দিল্লিতে এতদিন র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টই বেশি হয়েছে। আর এই অ্যান্টিজেন টেস্টে ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে অভিযোগও উঠেছে। যথেচ্ছ র‍্যাপিড টেস্টে বেশিরভাগ কোভিড রোগীকে শণাক্ত করা যায়নি বলে কেজরিওয়াল সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। দিল্লির স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা কমিয়ে আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সমস্ত হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও কোভিড সেন্টারগুলিতে যাতে করোনা পরীক্ষায় আরটি-পিসিআর টেস্ট করা যেতে পারে সে জন্য টেস্ট কিটের দামও কমানো হয়েছে।

দিল্লিতে এতদিন রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর কিটের দাম ছিল আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি। ৭০ শতাংশ দাম ছেঁটে সেটাই ৮০০ টাকা করা হয়েছে। টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লিতে আরটি-পিসিআর টেস্টের খরচ আরও কমানো হবে। সরকারি ল্যাবরেটরিগুলিতে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা করানোর সুযোগও দেওয়া হবে।

করোনা সংক্রমণ ধরার জন্য যতগুলি পরীক্ষা পদ্ধতি দেশে চালু রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভাল রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট। শুরুতে এই আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যাই ছিল বেশি। একশো শতাংশ এই পরীক্ষা পদ্ধতিতেই রোগীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েকমাসে আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কমেছে। চটজলদি ও কম খরচে করোনা পরীক্ষা করার জন্য র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে। আরটি-পিসিআর টেস্টে যতটা সঠিক ও নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়, অ্যান্টিজেন টেস্টে সেটা হয় না মোটেও। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই র‍্যাপিড টেস্টে ‘ফলস নেগেটিভ’ ডেটা দেয়। অর্থাৎ কোনও রোগী কোভিড পজিটিভ কিন্তু টেস্টের রেজাল্টে দেখা যাবে কোভিড নেগেটিভ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরটি-পিসিআর টেস্টে পজিটিভিটি রেট অ্যান্টিজেন টেস্টের চেয়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন গুণ বেশি। পজিটিভিটি রেট হল যতজন কোভিড রোগীর টেস্ট করানো হচ্ছে, তার মধ্যে যতজনের রোগ ধরা পড়ছে তার শতাংশের হিসেব। অ্যান্টিজেন টেস্টে এই রোগ ধরা পড়ার হার কম।

সূত্র বলছে, দেশে এখন আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। অ্যান্টিজেন টেস্ট কম করেও ৪০ শতাংশ। কয়েকটি রাজ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টের কারণেই করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা যায়নি। দিল্লি যার মধ্যে একটি। আর রাজধানীতে কোভিড সংক্রমণ যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে করোনা পরীক্ষা সঠিক পদ্ধতিতে না হলে সংক্রমণের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে তিন হাজারের বেশি কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে, একদিনে মৃত্যুও শতাধিক। কোভিডে মৃত্যুহার ১.৬ শতাংশ যা জাতীয় গড়ের থেকে বেশি। অন্যদিকে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হারও জাতীয় গড়ের থেকে বেশি, প্রায় ৭.৪ শতাংশ।

You might also like