Latest News

Exclusive: সিপিএম নাম নিল না সফদরের খুনির, উল্টো পথে সিটু

শোভন চক্রবর্তী

১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি। গাজিয়াবাদে (Gaziabad) তখন পুরসভা নির্বাচন। বাম প্রার্থীদের সমর্থনে পথ নাটিকা (Street Drama) চলছে। থিকথিক করছে ভিড়। নাটক করছেন সফদর হাসমি (Safdar Hasmi)। সঙ্গে সফদরের তৈরি করা নাট্যদল জনম-এর বাকি কলাকুশলীরা। বিকট একটা শব্দ। গুলিতে রক্তাক্ত সফদর লুটিয়ে পড়লেন রাস্তায়।

তারপর গুলিবিদ্ধ সৌম্যদর্শন কমিউনিস্ট নাট্যকারকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। পরদিন ২ জানুয়ারি মৃত্যু হয় ৩৫ বছরের সফদরের।

কারা গুলি করেছিল সফদরকে?

সিপিএমের দলীয় দলিলে লেখা রয়েছে ‘কংগ্রেসিরা’ খুন করেছিল বাম সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এই নেতাকে। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম দিনে সর্বভারতীয় সিপিএমের ফেসবুক পেজে উল্লেখিত হল না সেই ‘কংগ্রেস’ শব্দ। আবার পার্টির উল্টো পথে হাঁটল শ্রমিক সংগঠন সিটু। সেন্টার অফ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নের টুইটার হ্যান্ডল থেকে লেখা হয়েছে, “সফদর খুন হয়েছিলেন কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে। ভুলছি না, ভুলব না।”

অনেকের মতে, সিপিএমের সর্বভারতীয় ফেসবুক পেজের পোস্টে প্রতিফলিত হয়েছে সীতারাম ইয়েচুরিদের লাইন। আবার সিটু এখন কট্টরপন্থী তপন সেনদের হাতে। পার্টি কংগ্রেসের আগে ট্রেড ইউনিয়ন যেন বার্তা দিতে চাইল পার্টির নরমপন্থীদের।

সফদরের জন্ম দিল্লিতেই, ১৯৫৪ সালের ১২ এপ্রিল। সেখানেই পড়াশোনা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতক হওয়ার পর গারওয়াল, কাশ্মীর-সহ বিভিন্ন জায়গায় পড়িয়েছেন। দিল্লিতে নিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য আধিকারিক হিসেবেও কাজ করেছেন বেশ কিছু দিন। তারপর আটের দশকের মাঝামাঝি সিপিএমের সর্বক্ষণের কর্মী হন সফদর। সাংস্কৃতিক ফ্রন্টেই কাজ করতেন। তৈরি করেন জনম। জননাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি রয়েছে সফদরের।

 

 

You might also like