Latest News

পরীক্ষায় বানান ভুল, যোগীরাজ্যে উচ্চবর্ণের শিক্ষকের বেধড়ক মারে মৃত্যু দলিত ছাত্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরীক্ষার (examination) উত্তরপত্রে বানান ভুল (spelling mistake) পাওয়া গিয়েছিল। শুধুমাত্র সেই অপরাধে এক দলিত ছাত্রকে (dalit student) এমন মার মারল উচ্চবর্ণের (upper caste) এক শিক্ষক (teacher), যে মৃত্যু হল (beaten to death) ওই পড়ুয়ার।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (UttarPradesh) ঔরাইয়া জেলার আছলদার আদর্শ ইন্টার কলেজে। নিহত ছাত্রের নাম নিখিল ডোহরে। ১৫ বছর বয়সি নিখিল ওই স্কুলের দশম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল বলে জানা গেছে। জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর ক্লাসে একটি পরীক্ষা নেন সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক অশ্বিনী সিং। সেই পরীক্ষার মাল্টিপল চয়েজ প্রশ্ন ছিল, যার উত্তর দেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের একটি করে ওএমআর শিট দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, সেই ওএমআর শিটে একটি প্রশ্নের জন্য ভুউল করে দুটি উত্তর নির্বাচন করে ফেলেছিল নিখিল। তাছাড়া অন্য প্রশ্নের ক্ষেত্রে একটি শব্দের বানান ভুল লিখেছিল নিখিল। এরপরেই ওই পড়ুয়ার চুলের মুঠি ধরে টেনে এনে লাথি, ঘুষি মারতে শুরু করেন ওই শিক্ষক। এমনকি, লাঠি দিয়েও তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর শ্রেণিকক্ষেই অজ্ঞান হয়ে যায় ওই ছাত্র।

আহত পড়ুয়াকে এটাওয়া জেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ওই ছাত্রের চিকিৎসার খরচ দিচ্ছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। কিন্তু নিখিলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লখনউয়ের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তা জানতে পারার পত্রেই নিখিলের চিকিৎসার খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেন অভিযুক্ত শিক্ষক অশ্বিনী সিং। এদিকে নিখিলের অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। ঘটনার ২০ দিন পর, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবিবার মৃত্যু হয় নিখিলের।

নিখিলের বাবা রাজু ডোহরে জানিয়েছেন, ৭ তারিখের ওই ঘটনার পর তাঁরা সককুলে যান। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত সকলের সামনে জাত তুলে গালাগাল দেন তাঁদের। স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে বলার পাশাপাশি হুমকিও দেওয়া হয় তাঁদের।

ছেলের মৃত্যুর পর হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোস্ট নিয়ে আছলদা থানায় অশ্বিনী সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের ৩টি দল গঠন করা হয়েছে।

ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ গ্রামের দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজন। ভীম আর্মি নামে দলিতদের অধিকার রক্ষার একটি দল ইতিমধ্যেই নিহত ছাত্রের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে বেরিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত লকোর্টে গ্রামটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিখিলের বাবা রাজু পেশায় একজন কৃষক। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে ওই স্কুলে একাধিকবার উচ্চবর্ণের পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হয়েছে নিখিল। অবস্থা এমনই, যে, এরপর তাঁর বাকি দুই সন্তান রাঘব এবং অভিষেকককে পড়াশোনার করার জন্য স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন তিনি।

‘বয়ামে হাত ঢুকিয়েছিস কেন?’ শিশুকে বেধড়ক মার দোকানীর, বাঁচাতে গিয়ে মাথা ফাটল মায়েরও

You might also like