Latest News

নরেন্দ্র গিরির মৃত্যুতে ধৃত প্রধান ভক্ত, অপরাধীরা শাস্তি পাবেই, বললেন যোগী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার বিকালে নিয়মমতো প্রয়াগরাজের বাগমবরি মঠে ভক্তদের দর্শন দেননি ভারতীয় আখড়া পরিষদের মহন্ত নরেন্দ্র গিরি (Narendra Giri)। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভক্তরা তাঁর আবাসে যান। দেখা যায়, তাঁর ঘর ভেতর থেকে বন্ধ আছে। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তাঁরা দরজা ভাঙেন। ভেতরে নরেন্দ্র গিরির মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দেহের কাছে পাওয়া গিয়েছে সুইসাইড নোট। সেখানে আনন্দ গিরি নামে এক ভক্তের কথা লেখা আছে। সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তিনি প্রয়াত মহন্তকে নানাভাবে উত্যক্ত করেছিলেন।

প্রয়াগরাজ পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসার কে পি সিং বলেন, “আমরা সুইসাইড নোটটি পড়ছি। সেখানে তিনি লিখে গিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর পরে আশ্রমে কী করতে হবে। কার্যত একপ্রকার উইল লিখে গিয়েছেন মহন্ত।”

অভিযুক্ত আনন্দ গিরি উত্তরাখণ্ড থেকে ধরা পড়েন। একসময় তিনি প্রয়াত নরেন্দ্র গিরির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। গত মে মাসে দু’জনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। জোচ্চুরির অভিযোগে আনন্দ গিরিকে মঠ থেকে তাড়িয়ে দেন মহন্ত। কয়েকদিন বাদে আনন্দ গিরি মহন্তের পয়ে পড়ে ক্ষমা চান। পুলিশের ধারণা, তখনকার মতো আনন্দ গিরি আশ্রমে ফিরলেও পরে ফের মহন্তের সঙ্গে তাঁর বিরোধ শুরু হয়।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, মহন্তের মৃত্যু নিয়ে নানা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধী ছাড়া পাবে না।

ধরা পড়ার আগে আনন্দ গিরি এক বিবৃতি দিয়ে বলেন, তাঁর সঙ্গে মহন্তের কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয়নি। তাঁর অভিযোগ, যারা তহবিল তছরুপ করেছে, তারাই মহন্তের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

মহন্ত অতীতে একাধিকবার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে তাঁর মতামত জানিয়েছেন। গত বছর মহন্তর সভাপতিত্বে আখড়া পরিষদের এক বৈঠক হয়েছিল। তাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রামজন্মভূমি আন্দোলনের ধাঁচে ফের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এবার লক্ষ্য হবে বারাণসী ও মথুরার হিন্দু মন্দিরগুলি ‘মুক্ত করা’। সম্প্রতি মহন্ত দাবি করেছিলেন, আখড়া পরিষদকে রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সদস্য হিসাবে নিতে হবে।

নরেন্দ্র গিরির মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি টুইট করে বলেছেন, “আখড়া পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্র গিরিজি-র মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। ঈশ্বর মহন্তকে তাঁর পায়ে স্থান দিন।”

You might also like