Latest News

সিপিএমের ছক ভাঙা জয় চন্দননগরে, অথচ জয়ী অশোক ‘পার্টিতেই নেই’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকাল ন’টা থেকেই বাংলার বামকর্মীরা ফেসবুক কার্যত লালে লাল করে দিয়েছিলেন। চন্দননগরে (Chandannagar) একটি ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হয়েছিল। সেখানে জিতেছে সিপিএম (CPM)। ফরাসডাঙার এই জয়কে ‘ফরাসি বিপ্লব’-এর পর্যায়ে নিয়ে গেছিলেন বামেদের ডিজিটাল যোদ্ধারা। কিন্তু যিনি জিতেছেন, সেই অশোক গঙ্গোপাধ্যায় (Ashok Ganguly) সম্পর্কে যখন খোঁজ নেওয়া হল তখন জানা গেল তিনি পার্টিতেই নেই।

ব্যাপার কী?

অশোকবাবু দীর্ঘদিন ভদ্রেশ্বর পুরসভার কর্মচারী ছিলেন। কয়েক বছর আগে অবসর নেন। একসময়ে তিনি সিপিএমের জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু গত বছর তিনি আর পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ (Party Membership) নবীকরণ (Renew) করাননি।

কেন?

চন্দননগরের এক সিপিএম নেতার কথায়, দু’একজন নেতার উপর ক্ষোভে পার্টি মেম্বারশিপটা ছেড়ে দিয়েছিলেন অশোক গঙ্গোপাধ্যায়। তবে পার্টির ভিতরে না থাকলেও সমস্ত কর্মসূচিতে থাকা, পার্টির কাজ করা থামাননি। মানকুণ্ডু এলাকার এক সিপিএম নেতার কথায়, ‘অশোকদা মোর দ্যান পার্টি মেম্বার।’

বাড়িতে স্ত্রী-মাকে পেটালে তাড়াবে সিপিএম, গঠনতন্ত্রে যোগ হল ধারা

এমনিতে সিপিএমে পার্টি মেম্বার না হলেও ভোটে দাঁড়ানোর রেওয়াজ রয়েছে। পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে এমন উদাহরণ বহু রয়েছে। সিপিএমের পার্টি সদস্য নন এমন ব্যক্তি বিধায়কও হয়েছেন সেই নজিরও রয়েছে। যেমন ২০০৬ সালে আবদুল মান্নানকে হারিয়ে চাঁপদানির বিধায়ক হয়েছিলেন জীবেশ চক্রবর্তী। তিনি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু সিপিএমের পার্টি কাঠামোর ভিতরে ছিলেন না। সাধারণ সমর্থক ছিলেন মাত্র। তবে পার্টি মেম্বারশিপ ছেড়ে দেওয়ার পরেও তাঁকে প্রার্থী করা এবং জয় পাওয়া সাম্প্রতিক সময়ে বিরল বলেই মত সিপিএমের অনেকের।

চন্দননগরে ছক ভাঙা জয় পেয়েছে সিপিএম। ১৯৯০ সালে শেষবার এই কেন্দ্রে জিতেছিল বামেরা। তারপর কংগ্রেস ও তৃণমূলের দখলে ছিল এই ওয়ার্ড। ৩২ বছর পর চন্দননগর কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে লাল আবির উড়ল।

এখন প্রশ্ন হল, স্রোতের বিরুদ্ধে এই জয় এল কী করে? তৃণমূল হারল কেন?

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বুধবার সন্ধেবেলা মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমরা যা বুঝতে পারছি তাতে হারার পিছনে দুটি কারণ রয়েছে। এক, যিনি প্রার্থী হয়েছিলেন সেই সুজিত নাথকে দলেরই অনেকে পছন্দ করেননি। এবং দুউ, কংগ্রেস ও বিজেপির ভোটটা সিপিএম পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে ওরা গোপন আঁতাত করেছিল।”

তবে বিজেপির অবস্থা সত্যিই তথৈবচ। একুশের বিধানসভা ভোটে চন্দননগরের এই ওয়ার্ডটিতে গেরুয়া শিবির ভোট পেয়েছিল ৩৭২টি। উপনির্বাচনে সেই ভোট নেমে এসেছে ৬৭টিতে। যা দেখে অনেকেই মনে করছেন, বিধানসভায় বামেদের যে ভোট রামের দিকে চলে গিয়েছিল, আবার তা ফিরতে শুরু করেছে। যা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকেও রুপোলি রেখা দেখাবে বলে মত অনেকের।

You might also like