Latest News

CPM Party Congress: জঙ্গি আন্দোলন নেই, ক্ষইছে বাংলার পার্টি, কান্নুরে বিস্ফোরক কলকাতার কল্লোল

শোভন চক্রবর্তী

১৯৫৩ সাল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তখন বিধানচন্দ্র রায়। ব্রিটিশদের হাতে থাকা ট্রাম কোম্পানি এক পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছিল। তারপর বামেদের সেই আন্দোলন আজও বাংলার রাজনীতিতে মাইলফলক হয়ে রয়েছে। ট্রামের গুমটিতে বোমা মেরে, ট্রাম পুড়িয়ে বামেরা লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল কলকাতাকে। ’৫৯ ও ‘৬৬-তে খাদ্য আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের জমানায় বাংলায় বামপন্থীদের জঙ্গিরূপও ইতিহাসে লেখা।

কিন্তু সেই সিপিএমই ৩৪ বছর গদিতে কাটানোর পর যেন শীতঘুমে চলে গিয়েছে বলে দলের অনেকে মনে করেন। চড়া মেজাজ নেই। কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলেন, ভেজা পাউরুটি বা ন্যাতানো মুড়ির মতো। এ নিয়ে পার্টির নিচুতলায় ক্ষোভও বিরাট। পার্টি কংগ্রেসের (CPM Party Congress) মঞ্চে সেটাই যেন হাটখোলা করে দিলেন বাংলা সিপিএমের নেতা তথা কলকাতার জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার।

শুক্রবার কান্নুরে ২৩তম পার্টি কংগ্রেসের তৃতীয় দিনে পলিটব্যুরোর তরফে প্রকাশ কারাট সাংগঠনিক খসড়া দলিল পেশ করেন। তার উপরেই শনিবার বাংলার তরফে আলোচনা করেন কল্লোল। সিপিএম সূত্রের খবর, বাংলায় পার্টির শাখাস্তর ও পার্টি সদস্যদের ক্রমবর্ধমান নিষ্ক্রিয়তার কথা অকপটে মেনে নিয়েই কল্লোল বলেছেন, “পার্টি জঙ্গি আন্দোলনের পথে হাঁটছে না। ছাত্র-যুবদের কিছু আন্দোলন বাদ দিয়ে সেই মেজাজ অনুপস্থিত। সেটাই চুঁইয়ে পড়ছে নিচুতলায়। ফলে শাখাস্তর দুর্বল হচ্ছে, পার্টি মেম্বাররা নিষ্ক্রিয় হচ্ছেন।”

এর অর্থ কী?

অনেকের মতে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এই সদস্য পার্টি কংগ্রেসে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক ফ্রন্ট বাংলার মাটিতে আন্দোলনের সিলেবাসের বাইরে চলে গিয়েছে। যে আন্দোলন হচ্ছে, তা করতে হয় বলে করা।

এবার যখন সিপিএমের জেলা সম্মেলনগুলি চলছিল, তখনই একাধিক জেলায় সূর্য মিশ্র বলেছিলেন, আমাদের এমন আন্দোলন করতে হবে যাতে দাবি আদায় করা যায়। তা না হওয়া পর্যন্ত ছাড়া যাবে না। আবার দিল্লির কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা দলের পলিটব্যুরোর সদস্য হান্নান মোল্লা এসে বাংলায় বলে গিয়েছেন, কর্মসূচি করলে হবে না। আন্দোলনের মতো আন্দোলন করতে হবে।

বাংলা পার্টিতে ক্যাডার কমছে হুহু করে, ব্যতিক্রম কেরল, নিষ্ক্রিয়তা যেন ওমিক্রন

সিপিএমের তরুণ প্রজন্মের অনেক নেতাই ঘরোয়া আলোচনায় বলেন, গত ১১ বছর ধরে আমরা অনেক বাস মিস করেছি। তাঁদের কথায়, ইস্যুর পর ইস্যু এসেছে কিন্তু নেতৃত্বের দৃঢ়তার অভাবে তা ব্যাটে-বলে কানেক্ট করা যায়নি। সিপিএমের এক রাজ্যস্তরের নেতা একটি সেমিনারে বলেছিলেন, “আমাদের দুর্বলতা আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে। ভাবুন তো, বাম জমানায় যদি সিপিএমের কোনওমন্ত্রীকে তোয়ালে মুড়িয়ে কিংবা স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে টাকা নেওয়ার ফুটেজ সংবাদমাধ্যম দেখাত, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বিরোধী নেত্রী থাকতেন, কী হতো?”

সিপিএমের একটি বড় অংশের বক্তব্য, ৩৪ বছর সরকার চালিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে সরকারি মানসিকতা জাঁকিয়ে বসেছে। তাঁরা সাহস করে মাঠে ময়দানের আন্দোলনের সেই মুডটাই ভুলে গিয়েছেন। এদিন পার্টি কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি বলেন, কল্লোল যা বলেছেন সেটাই পার্টির নিচুতলার কথা। সামগ্রিক ভাবে বাংলার সম্মেলন থেকে এই কথাই উঠে এসেছে। সেটাই তিনি পার্টি কংগ্রেসের মঞ্চে তুলে ধরেছেন।

সিপিএমের দলিলে যা পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে গত পার্টি কংগ্রেস থেকে এ পর্যন্ত বাংলায় ৪৮ হাজারের বেশি পার্টি মেম্বারশিপ কমেছে। যা ভয়াবহ বলে মত দলের অনেক নেতার।

কিন্তু এখন প্রশ্ন, কল্লোল তো কান্নুরে দাঁড়িয়ে জঙ্গি আন্দোলনের অনুপস্থিতির কথা অকপটে বললেন। কিন্তু কোচি থেকে বিমান ধরে কলকাতায় যখন বঙ্গ সিপিএম ব্রিগেড নামবেন তারপর কি তারা সেই দুর্বার আন্দোলনের পথে হাঁটবেন? এক নেতার কথায়, এবার সেটা না করলে পার্টি কাঠামোটাই টিকিয়ে রাখা যাবে না।

You might also like