Latest News

সিপিএম দম্পতিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তাঁদের ছেলে ওকালতি পাশ করে বললেন, ‘ওদের শাস্তি দেবই’

শোভন চক্রবর্তী

সাইকেলের প্যাডেল দুটোয় আরও জোরে জোরে চাপ দিচ্ছিলেন দীপঙ্কর। যতটা শক্তি দেওয়া যায়, ততটাই। আর সাইকেলের হ্যান্ডেলে ঝুলছিল আইসক্রিমের কাপ! দীপঙ্কর মধ্যরাতের অন্ধকারের আলপথ দিয়ে বোল্টের গতিতে সাইকেল ছোটাচ্ছিলেন। কারণ, আইসক্রিমটা গলে যাচ্ছে যে! মা খাবেন!

২০১৮ সালের ১৩ ও ১৪ মে-র মাঝের রাত। ক্যাটারিংয়ের কাজ সেরে কাকদ্বীপের বুদাখালি গ্রামে ফিরছিলেন বছর কুড়ির তরুণ। বাড়ির কিছুটা আগে থেকেই পোড়া গন্ধ নাকে আসছিল দীপঙ্করের। তারপর বাড়ির কাছে গিয়ে দেখলেন, ঘরটা পুড়ে গিয়েছে। আরও কিছুটা এগিয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশটা জ্বালতে দেখতে পেলেন দুটো মাংসপিণ্ড দলা পাকিয়ে পড়ে রয়েছে। একটি দলা দীপঙ্করের বাবা দেবু দাসের। অন্যটি মা ঊষারানি দাসের। যাঁর জন্য দীপঙ্কর আইসক্রিম নিয়ে ফিরছিলেন, জোরে প্যাডেল করছিলেন।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কাকদ্বীপের সিপিএম দম্পতি (CPM leaders) দেবু-ঊষারানিকে পুড়িয়ে মারার (burnt alive) ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল রাজ্যে। সেই ঘটনা যতটা মর্মান্তিক ছিল, ততটাই ছিল হাড়-হিম করা। আসলে কারও ঘর শুধু পোড়েনি, কারও দেহ শুধু পোড়েনি, সেদিন পুড়েছিল বাংলা।

কাকদ্বীপের সেই পুড়ে মরা বাপ-মায়ের ছেলে (son) দীপঙ্কর দাস সেদিনই চোয়াল শক্ত করেছিলেন। দীপঙ্কর এখন উকিল (lawyer) হয়েছেন। বুধবার ওকালতি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ৮১ শতাংশ নম্বর নিয়ে আইন পাশ করেছেন ‘দীপু’।

আঠারো সালে ওই ঘটনার পর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়দের কাছে বাবা-মায়ের খুনের মামলা নিয়ে এসেছিলেন দীপঙ্কর। সিপিএমের সূত্রেই হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন তিনি। তারপর সামগ্রিকভাবে সিপিএম দীপঙ্করের দায়িত্ব নিয়েছিল।

এদিন দ্য ওয়ালকে দীপঙ্কর বলেন, “বিকাশ স্যার, সব্যসাচী স্যাররাই উদ্যোগ নিয়ে আমার পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের কর্মচারী ইউনিয়ন আর্থিক সাহায্য করেছিল। তারপর আমি কিংস্টন ল কলেজে আইন নিয়ে ভর্তি হই!”

কেন আইন পড়লেন?
দীপঙ্করের কথায়, “বাবা-মায়ের খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই এতদূর আসা। সেটা করবই।” তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা ছিলেন সিপিএম পার্টির সক্রিয় সদস্য। যে রাতে বাবা-মাকে ওরা পুড়িয়ে মেরেছিল, তার পরের দিন সকালে ছিল পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন। ওরা আমার বাবা-মাকে খুন করে সারা এলাকায় ভয় ধরাতে চেয়েছিল। আজ পর্যন্ত দোষীরা শাস্তি পায়নি। সেটা আমিই এবার করব।”

সিপিএমের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী বলেন, “পার্টি দীপঙ্করের দায়িত্ব নিয়েছিল। ও খুবই ভাল রেজাল্ট করেছে। এবার বাবা-মায়ের খুনিদের শাস্তির জন্য ওই লড়বে।”

দীপঙ্কর এখন থাকেন সোনারপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের জুনিয়র হিসেবে কাজও করছেন বেশ কিছুদিন হল। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কাকদ্বীপে যান না? জবাবে পুড়ে মরা সিপিএম দম্পতির ছেলে বলেন, “যাই না। ওখানে কিছুই তো নেই। তবে একদিন ঠিক যাব। যেতে তো হবেই।”

কাল তো কন্ডোম চাইবে, পরদিন জিনস, ছাত্রী স্যানিটারি প্যাডের কথা বলতেই ঝাঁঝিয়ে উঠলেন আমলা

You might also like