Latest News

কেরল সিপিএমে ‘নন্দীগ্রাম’ আশঙ্কা, সিলভারলাইন নিয়ে ক্ষোভ দলে, ফ্রন্টে

কেরলের (Kerala) জেলায় জেলায় ক্ষোভ বাড়ছে সিপিএমের (CPIM) অন্দরে। দলের রাজ্য কমিটির (State Committee) কাছে বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে, সিলভারলাইন  (Silverline) প্রকল্প নিয়ে এক কদম এগনো যাবে না। তাহলেই কিন্তু নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি হবে।

সিলভারলাইন প্রকল্প কী?

স্থির হয়েছে, তিরুবনন্তপুরম থেকে কাসারগড় পর্যন্ত রেলপথ নির্মিত হবে। সেই প্রকল্পের নাম সিলভারলাইন। ৫৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে পড়বে কোল্লাম, চেঙ্গান্নুর, কোয়াট্টাম, এর্নাকুলাম, ত্রিচুর, তিরুর, কোঝিকোড় ও কান্নুর। সেমি হাইস্পিড ট্রেন চলবে এই পথে। প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বলে অনুমান। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে নীতি আয়োগ। আর তারপরেই কেরলে এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। সেই অসন্তোষ যেমন রয়েছে শাসকদল সিপিএমের অন্দরে তেমন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের শরিক সিপিআই-ও এই প্রকল্পে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।

সিপিএমের একাধিক জেলার বহু এরিয়া কমিটি বৈঠক করে এই প্রকল্প বাতিলের দাবি তুলেছে। সংশ্লিষ্ট পার্টি কমিটির সেইসব সভার সিদ্ধান্ত পাঠানো হচ্ছে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর কাছে।

কেরলের সিপিআই বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ফ্রন্টে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অনেক মানুষকে উচ্ছেদ হতে হবে। নষ্ট হবে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও। সাবেক কমিউনিস্ট পার্টি এও বলেছে, কেরলকে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিভাজন রেখা টেনে দেবে এই রেল প্রকল্প। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

কেরলের পাথানামথিট্টার আদুর সিপিএমের এরিয়া কমিটি নাগরিক কনভেনশন করে জনমত সংগ্রহ করেছে। তাতে যা উঠে এসেছে তার মূল নির্যাস এই যে, কোনওভাবেই ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা চলবে না।

অন্যদিকে পিনারাই বিজয়নের সরকার ও কেরল সিপিএমের একটা বড় অংশ চাইছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে চাইছে। তবে জনমত নিয়েই তা করা হবে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। এ নিয়ে আগামী ৪ জানুয়ারি একটি সভাও করবেন পিনারাই। কেরল কংগ্রেস ও বিজেপি—দু’পক্ষই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় সরকার জুড়ে থাকায় বিজেপি সে ভাবে মুখ না খুললেও কংগ্রেস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই প্রকল্প গড়তে এক কোদাল মাটি কাটা হলে পিনারাই সরকারকে কবরে ঢোকানো হবে। ঘটনা হল, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে এই প্রকল্প নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন কেরলের কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। তবে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওটা তারুরের ব্যক্তিগত মত। দল এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে।

প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার দল বা স্থানীয় জনতার সঙ্গে কোনও কথা বলেনি। কিন্তু ১৯৯৩ সালে ঠিক এর উল্টোপথে হেঁটেছিলেন জ্যোতি বসু। সেই সময় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলপিতে বন্দর করার জন্য ২৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা করেছিল তৎকালীন সরকার। তা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তাকে প্রশমিত করতে যাদবপুরের কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সমস্ত পার্টি মেম্বারকে নিয়ে সভা করেছিলেন জ্যোতিবাবু। অনেকের মতে বিজয়নও হয়তো সেই পথে হাঁটতে চেয়েই একাধিক সভা করার পরিকল্পনা করেছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, কেরল সিপিএম ফ্যাসাদে পড়েছে। মানুষকে বোঝানোর আগে পিনারাই বিজয়নদের এখন দল ও ফ্রন্টের আগুন নেভানোই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, এ ব্যাপারে জেদাজেদি করতে গেলে, ইতিহাস গড়ে জিতে আসা পিনারাই সরকারকেও বিপদের মুখে পড়তে হবে।

You might also like