Latest News

বাংলায় কমছে গরুর দাম, আগে কত ছিল এখন কত যাচ্ছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচার মামলার (Cow Smuggling) তদন্ত করছে সিবিআই। এদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI Probe) এই গরু পাচার নিয়ে যত বেশি সক্রিয় হচ্ছে, ততই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে গরু ব্যবসায়ীদের কপালে। ব্যবসায়ীদের কথায়, হাটে যেমন কমেছে গরুর আমদানি তেমনই কমেছে কেনাবেচা! ফলে দাম পড়ছে হুড়মুড়িয়ে।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার কেতুগ্রাম থানা এলাকার পাচুন্দির পশুহাট (Pachundi Hat) হল সবচেয়ে বড় ও পুরনো হাট। শুধু বাংলা নয়, রাজ্যের বাইরে থেকেও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে ভিড় জমাতেন এই হাটে। চলত দেদার কেনাবেচা। কিন্তু এখন সেই ব্যবসার অবস্থা নিভু নিভু। জানা গেছে, একসময় এই হাট থেকেই গরুর নাম বদল করে বিক্রি হয়। এই হাটে যেমন ব্যবসায়ী ভাল দাম পেতেন, তেমন হাট মালিকেরাও গরু পিছু পান কিছু কমিশন। এই হাটেই একসময় একদিনে চলত কোটি টাকার ব্যবসা।

কিন্তু সেই বিক্রিতে এখন চলছে ভাটা। ব্যবসায়ীদের কথায়, সিবিআই তদন্ত শুরু করার পরেই বিক্রিবাট্টা কমেছে। তার ওপর রাস্তায় পুলিশের কড়া নজরদারি ও জুলুম সবমিলিয়ে হাটের অবস্থা সঙ্গীন। অনেকের কথাতেই, সিবিআইয়ের ভয়ে ব্যবসায়ীরা হাটের চৌহদ্দি মারাচ্ছেন না।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গরুর দরদাম

স্থানীয় সূত্রে খবর, ছেলে বাছুরের দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। তবে দিন কয়েক আগেও পাচুন্দি হাটে এই গরু বিকত চার-সাড়ে চার হাজারে। মেয়ে বাছুরের ক্ষেত্রে সেই দাম এখন আড়াই-তিন হাজার। যার দাম ছিল এক সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি।

এত গেল বাছুরের গল্প। ১০-১৫ কেজি দুধ দেওয়া বড় গরুর দাম এখন ৫০ থেকে ৮০ হাজার। আগে সেই গরুই বিক্রি হত লাখের ওপরে। মোষের (দুধ দেওয়া) দাম আবার অনেকটাই বেশি। এখন সেই মোষ বিক্রি হচ্ছে এক লাখ থেকে দেড় লাখে। সেই মোষই আগে পাওয়া যেত প্রায় দুই লাখ টাকায়। জার্সি গরুর ক্ষেত্রেও একই দামের হেরফের ঘটেছে।

আরও জানা গেছে, যে গরু যত বেশি দুধ দেয়, সেই গরুর দাম তত বেশি। তবে মন্দার বাজারে গরুর দাম পড়েছে অনেকটাই। বলা চলে বড় গরুর ক্ষেত্রে গড়ে হাজার চল্লিশ টাকা করে দাম কমেছে এখন।

পূর্ব বর্ধমান জেলার সীমান্তবর্তী থানা হল কেতুগ্রাম। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলার সঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবসা কেন্দ্র হল কেতুগ্রাম থানা এলাকা। একসময় পাচুন্দি পশুহাটে কোটি টাকার কাছে বেচা-কেনার নজির আছে। সিবিআই সূত্রের খবর, গরু পাচার কাণ্ডের তদন্ত শুরুর সময় থেকেই বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের কয়েকটি পশুহাটের উপর ‘রেইকি’ করেছিল সিবিআইয়ের বিশেষ দল।

সিবিআই সূত্রে আরও খবর, জলপথ ও সড়কপথে পাচুন্দি হাট থেকে গরু পাচার হত। প্রতি বৃহস্পতিবার হাটের দিন গরুগুলো গাড়িতে চাপিয়ে বা হাঁটিয়ে কেতুগ্রামের বন্দর চেকপোস্ট পার করে সোনারুন্দি দিয়ে সালার, কান্দি-বহরমপুর দিয়ে জলঙ্গির কাছে পৌঁছে যেত। অন্যদিকে, নৌকা করে ভাগীরথী নদী পার করে নদীয়ার হাঁপুকুরিয়া হয়ে বাংলাদেশ।

স্থানীয়রা জানাচ্ছে, একসময় এই দুই পথ দিয়েই গরু পাচার হত। এখন কী বন্ধ? সূত্রের খবর, না এখনও চলছে সেই হাট, হচ্ছে পাচার। তবে কাঁটাতার পেরিয়ে গরু কেনাবেচা বন্ধ হয়েছে। পাচুন্দির হাটের কর্মী বিশ্বনাথ দে বলেন, একসময় পাচুন্দির পশুহাটে রাতভর বেচা-কেনা চলত। তখন ভিনরাজ্যের গরু এখানে আসত। এখন আর বাইরের রাজ্যের গাড়িও আসে না, গরুও আসে না। সিবিআই ও পুলিশের সাঁড়াশির চাপে এখন মন্দায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু পাচুন্দি নয়, বাংলার প্রায় ছোট-বড় সব হাটেই একই হাল।

অনুব্রতর চালকলেই কি আসল গ্যাঁড়াকল, গ্যারাজে সার সার কালো এসইউভিতে অশনিসংকেত

You might also like