Latest News

বিনামূল্যে নাগরিকদের কোভিড ভ্যাকসিন দেবে অস্ট্রেলিয়া, টিকা বাধ্যতামূলক করা নিয়ে বিতর্ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ঘোষণা করেন, তাঁর সরকার করোনা ভ্যাকসিন তৈরির জন্য অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে। পরে তিনি জানালেন, ভ্যাকসিন তৈরি হলে তা প্রত্যেক নাগরিককে দেওয়া হবে বিনামূল্যে। একইসঙ্গে তাঁর একটি মন্তব্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মরিসন বলেছেন, তিনি চান, ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হোক। তাতে অনেকে আপত্তি করেন। তখন মরিসন আগের অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, তিনি চান, ভ্যাকসিন নেওয়া ‘যতদূর সম্ভব’ বাধ্যতামূলক করা হোক।

রেডিওতে এক ভাষণে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব জুড়ে যে অতিমহামারী দেখা দিয়েছে, তাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতি। হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ায় মারা গিয়েছেন ৪৩০ জন। অস্ট্রেলিয়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।”

কয়েক ঘণ্টা পরে আর একটি রেডিও ভাষণে তিনি বলেন, “আমি সকলকেই করোনার টিকা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করব। কিন্তু কাউকে টিকা নিতে বাধ্য করব না।”

কোনও কোনও দেশের নাগরিকরা এখনও ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে নিশ্চিত নন। কারণ অত্যন্ত দ্রুত তা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ মানুষই বলছেন, তাঁরা টিকা নেবেন কিনা এখনও স্থির করেননি।

আমেরিকায় সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফৌজি বলেন, তিনি চান না আমেরিকায় ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হোক।

কয়েকদিন আগেই রাশিয়া দাবি করেছে, তারা ভ্যাকসিন বানিয়ে ফেলেছে। এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে নানা মহল। সেই সন্দেহ দূর করতে ভ্যাকসিন তৈরির ভিডিও প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ৪০ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রকাশ করেছে রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

বিশ্বে এইমহূর্তে ভারতেই করোনার সংক্রমণ বাড়ছে সবচেয়ে দ্রুত হারে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে প্রায় ৭০ হাজার। একদিনে মৃত্যুও হয়েছে ৯৭৭ জনের। দেশে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা পৌঁছে গেছে ২৮ লাখে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আজকের বুলেটিনে অনেকগুলো দিক আছে। প্রথমত, দৈনিক সংক্রমণ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। একদিনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৬৫২ জন। করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। ৬ লাখ ৮৬ হাজারের কাছাকাছি।

দ্বিতীয়ত, বুলেটিনের ইতিবাচক দিক হল করোনায় সুস্থতার হার বেড়েছে এবং মৃত্যুহার আরও কমেছে। একদিনে ৫৮ হাজার ৭৯৪ জন করোনা রোগী সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন। দেশে এখন করোনা জয়ীদের সংখ্যা ২১ লাখ ছুঁতে চলেছে। কেন্দ্রের হিসেবে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৪ জন। সেই সঙ্গেই কোভিড রিকভারি রেট বা সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৭৩.৯১%।

তৃতীয়ত, করোনায় মৃত্যুহার আরও কমেছে। গত কয়েকদিন ধরেই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে আশা জাগছে। মৃত্যুহার ২ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। আজকের হিসেবে কোভিড ডেথ রেট ১.৯০%। ভারতে করোনায় মৃত্যুহার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম। এর কারণ অনেক। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বক্তব্য, দেশে করোনা পরীক্ষা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোভিড চিকিৎসায় কী কী ওষুধ ব্যবহার করা হবে, কী থেরাপির প্রয়োগ হবে সেটা জানতে ক্লিনিকাল ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। কোভিড চিকিৎসা ও গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়ের খুঁটিনাটি খেয়াল রাখার জন্য তৈরি হয়েছে টাস্ক ফোর্স। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানাচ্ছে, কোভিড টেস্ট, কনট্যাক্ট ট্রেসিং ও ট্রিটমেন্ট এই তিন ‘টি’ ফর্মুলায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে দেশজুড়েই।

You might also like