Latest News

করোনা-আক্রান্ত রোগী মারা গেলে কীভাবে হবে তাঁর সৎকার, গাইডলাইন প্রকাশ করল স্বাস্থ্য মন্ত্রক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর নিয়ম মেনে এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন প্রকাশ করল স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হয়ে কোভিড ১৯ রোগে মৃত্যু হতে শুরু করেছে এ দেশে। সেই সঙ্গেই উঠেছে নতুন এক প্রশ্ন। মারণ ভাইরাসের আক্রমণে মারা যাওয়ার পরে ঠিক কোন পথে সৎকার হবে মৃতদেহ। কারণ সংক্রমণের ভয় মাথায় রাখতে হবে সবসময়। যারা সৎকার করবেন বা যেখানে সৎকার হবে, পুরো বিষয়টিই ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর নিয়ম মেনে এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন প্রকাশ করল স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

কী বলা আছে সেই গাইডলাইনে?

১. কোভিড ১৯ অসুখটি ছড়ায় মূলত ড্রপলেটের মাধ্যমে। অর্থাৎ মানুষের শরীরের কফ, থুতু, হাঁচি-কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসা জলকণাতেই এই করোনাভাইরাসের বাস। তাই মৃতদেহের শরীর থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

২. মৃত্যুর পরে ময়নাতদন্ত এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। যদি বিশেষ প্রয়োজন হয় করার, তবে মনে রাখতে হবে, মৃতের ফুসফুস থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা সবচেয়ে থেকে যায়। যে চিকিৎসক করবেন, তাঁকে এন ৯৫ মাস্ক, চশমা, গ্লাভস, এপ্রন– সব নিয়ম মেনে পরতে হবে।

৩. যাঁরা মৃতদেহ বহন করবেন বা নিয়ে যাবেন তাঁদের জলনিরোধী এপ্রন, গ্লাভস, মাস্ক পরা জরুরি। থাকতে হবে চশমাও। খুব ভাল করে নিয়ম মেনে হাত ধুতে হবে তাঁদের। ধারালো জিনিস থেকে সাবধানে থাকতে হবে, যাতে কেটে-ছড়ে না যায়। মৃতদেহ বহন করতে হবে সংক্রমণ মুক্ত আলাদা ব্যাগে করে।

৪. সংক্রামক ব্যাধিতে মারা যাওয়া মানুষের শেষযাত্রা ও শেষকৃত্য কীভাবে হবে, তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকতে হবে কর্মীদের। আইসোলেশন থেকে সৎকারের জায়গায় দেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ে সমস্ত চ্যানেল, নল খুলে ফেলতে হবে দেহ থেকে। নল বা ছুঁচ খোলার পরে দেহে কোনও ক্ষত থেকে গেলে সেটাকে নির্দিষ্ট উপায় মেনে পরিষ্কার করতে হবে।

৫. মুখ এবং নাক ভাল করে বুজিয়ে দিতে হবে, যাতে কোনও ভাবেই রোগীর দেহ থেকে কোনও জলকণা বাইরে না বেরোতে পারে।

৬. যদি মৃতের পরিবার মৃতদেহ দেখতে চায়, তাহলে বিশেষ ব্যাগে বন্দি অবস্থাতেই দেখাতে হবে। প্রতিটি সদস্যকে নিয়ম মেনে স্যানিটাইজ় করতে হবে।

৭. প্রতি ক্ষেত্রেই দেহটিকে সংক্রমণ-মুক্ত করার জন্য হাইপোক্লোরাইট সলিউশন ব্যবহার করতে হবে।

৮. রোগীর যা যা মেডিক্যাল-ওয়েস্ট পড়ে থাকবে, অর্থাৎ ব্যবহৃত তুলো, সিরিঞ্জ– এ সব নিয়ম মেনে নষ্ট করতে হবে।

৯. রোগীর পরিবারের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মনোবিদের সাহায্য নিতে হবে।

১০. দেহ বার করার পরে আইসোলেশনে যা যা রয়েছে, সে সব কিছু সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট সলিউশন দিয়ে ৩০ মিনিট ধরে মুছতে হবে এবং হাওয়ায় শুকোতে দিতে হবে।

১১. যে যানটিতে করে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে সৎকারের জন্য, তাতে দেহটি অন্তত চার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ঠান্ডা অবস্থায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এর পরে সেই যানটিকে ফের জীবাণুমুক্ত করতে হবে নিয়ম মেনে।

১২. রোগীর পরিবার শেষে একবার শুধু মুখটা দেখতে পারবেন ব্যাগ খুলে। তার পরে আবারও স্যানিটাইজ় করতে হবে দেহ, নিজেকেও হতে হবে।

১৩. সৎকারের আগে কোনও ধর্মীয় মন্ত্রপাঠ বা রীতি পালন করতে চাইলে তা দেহ না ছুঁয়ে করা যেতে পারে।

১৪. দেহকে স্নান করানো, জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া চলবে না। দেহ ঘিরে কোনও জমায়েতও করা যাবে না।

১৫. সৎকারের পরে ছাই বা মাটি সংগ্রহ করা যেতে পারে ধর্মীয় রীতিপালনের উদ্দেশে, তাতে কোনও ঝুঁকি থাকবে না আর।

You might also like