Latest News

হেনস্থার ভয়ে স্কুলমুখো হচ্ছেন না রাঁধুনিরা, জলপাইগুড়ির স্কুলে বন্ধ মিড ডে মিল

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: অভিভাবকদের কাছে হেনস্থার শিকার হয়ে সর স্কুলমুখো হচ্ছেন না রাঁধুনিরা। যার ফলে বেশ কিছুদিন ধরে পড়ুয়াদের জন্য তৈরিই হচ্ছে না মিড ডে মিল (mid-day meal)। দু’মুঠো ডালভাতের বদলে কেক কিংবা বিস্কুট খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাচ্চাগুলোকে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই অচলাবস্থা চলছে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) মাড়োয়ারি বালিকা বিদ্যালয়ের (school) প্রাথমিক বিভাগে। সেই জটিলতা আজও কাটেনি।

এর আগে এক শিক্ষিকাকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। আর এবার মিড ডে মিল তৈরি করার বরাত নিয়ে বড়সড় অভিযোগ উঠল। সবমিলিয়ে সমস্যা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা জলপাইগুড়ি মাড়োয়ারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগে।

জানা গেছে, জলপাইগুড়ি মাড়োয়ারি বালিকা বিদ্যালয়য়ের প্রাথমিক বিভাগে প্রায় ৮০ জন পড়ুয়া রয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর তারিখ থেকে ওই স্কুলে আর মিড ডে মিল রান্না করা হচ্ছেনা। এর বদলে পড়ুয়াদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে কেক কিংবা বিস্কুট ইত্যাদি। কিন্তু এই শুকনো খাবারে খুশি নয় পড়ুয়ারা। তাদের দাবি, স্কুল থেকে আবার আগের মতো ভাত, ডিম, তরকারির মতো পেট ভর্তি খাবার দেওয়া হোক।

কিন্তু রান্না হচ্ছে না কেন? জানা গেছে, সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল, স্কুলের দুই রাঁধুনিকে হেনস্থা করেছিল স্কুলের অভিভাবকরা। তারপর তাঁরা বিষয়টি বিভিন্ন দফতরে লিখিতভাবে জানিয়ে আর স্কুলে রান্না করতে আসছেন না। ফলে খাবার তৈরি করা যাচ্ছে না কচিকাঁচাদের জন্য। টিআইসি সরিতা চৌধুরী জানান, গত ২২ তারিখ থেকে স্কুলে রাঁধুনিরা আসছেন না। তাই পড়ুয়াদের জন্য রান্না করা হচ্ছে না। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশেই শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।

নতুন পোশাক পরব না! নয়া নীল-সাদা ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলে দিল কোচবিহারের পড়ুয়ারা

রাঁধুনি আশা রজক বলেন, ‘আগে স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িতে ছিল টিআইসি। তখন খাবারের মান নিয়ে বার বার অভিযোগ উঠতো। এর তদন্তে একটি টিম আসতেই আমি অভিযোগ জানিয়েছিলাম, বাচ্চাদের রান্নার জন্য যেই পরিমাণ তেল, ডাল, মশলা প্রয়োজন তা আমাদের সরবরাহ করা হয়না। ফলে রান্না খারাপ হয়। এরপর টিমের সদস্যরা আমাদেরকেই মিড ডে মিল বানিয়ে খাওয়ানোর নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশ পেয়ে আমরা খাবার দিচ্ছিলাম। এরপর একদিন আমাদের রান্নাঘরে কিছু অভিভাবিকাকে পাঠিয়ে দেন টিআইসি সরিতা চৌধুরী। তাঁরা এসে আমাদের হেনস্থা করে। এরপর আমরা বিষয়টি লিখিত জানিয়ে দিয়েছি। আমরা হেনস্থার ভয়ে আর স্কুলে আসছি না।’

এই বিষয়ে অভিলাশা ঝাঁ নামের এক পড়ুয়া বলে, ‘আগে রান্না করা খাবারের মান খুব খারাপ ছিল। কিছুদিন ধরে রান্না ভালই হচ্ছিল। কিন্তু এখন সব বন্ধ। ভাতের বদলে আমাদের কেক, বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। এসব খেতে ভাল লাগে না। আমরা চাই আবার আগের মতো খাবার রান্না হোক।’

You might also like