Latest News

সাংবিধানিক সংস্থাগুলি মিডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে নিজেদের কাজে মন দিক, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মিডিয়ার ওপরে শৃঙ্খল পরানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। সাংবিধানিক সংস্থাগুলি মিডিয়ার বিরুদ্ধে আবেদন না করে বরং নিজেদের কাজ করুক। বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। গত ২৬ এপ্রিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য নির্বাচন কমিশনের ওপরে দোষারোপ করে। হাইকোর্টের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্বাচন কমিশন। তারা অভিযোগ করে, হাইকোর্টের মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর। নির্বাচনী মিছিল-মিটিং বন্ধ করার দায়িত্ব ছিল রাজ্য সরকারের। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার ছিল না।

সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলে, সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারায় কেবল নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা দেওয়া হয়নি, সংবাদমাধ্যমকেও ওই অধিকার দেওয়া হয়েছে। আমরা মিডিয়ার মুখ বন্ধ করতে পারি না। নির্বাচন কমিশনের কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট বলে, আমরা তাদের অভিযোগের কোনও সারবত্তা খুঁজে পাইনি।

একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, “আদালতেরও এমন মন্তব্য করা উচিত নয় যার ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে।”

দৈনিক কোভিড সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে দেশে। বগ্লাহীন ভাবে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলছে, বিশ্বের মোট কোভিড আক্রান্তের ৪৬ শতাংশই ভারতে। মৃত্যুর ২৫ শতাংশ হয়েছে ভারত থেকে। আমেরিকা ও ব্রাজিলের দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে ভারত। আমেরিকায় ১ লাখ বা তার কম নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে রোজ, কিন্তু ভারতে প্রতিদিনই ৪ লাখের বেশি নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে দৈনিক সংক্রমণের হার বেশি। এই রাজ্যগুলিতে করোনায় মৃত্যুহারও বাড়ছে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্নাটক, কেরল, উত্তরপ্রদেশে ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। মহারাষ্ট্রে এখনই ভাইরাস সক্রিয় রোগী সাড়ে ৬ লাখের বেশি। এদিকে দেশে ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দু’সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের ১৫টি জেলা, কেরলের ১০টি জেলা, অন্ধ্রপ্রদেশের ৭টি ও কর্নাটকের ৩টি জেলায় কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে।

করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কেন্দ্রের বিজ্ঞান উপদেষ্টা ডক্টর কে বিজয়রাঘবন বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছেন, কোভিড সংক্রমণ যে গতিতে বেড়ে চলেছে তাতে ‘থার্ড ওয়েভ’ অনিবার্য। তবে কখন এবং কোন সময়ে এই তৃতীয় ঢেউ ধাক্কা দেবে সেটা এখনই বলা মুশকিল। একই দাবি করেছেন দিল্লি এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়াও। তিনি বলেছেন, সংক্রমণের গতি থামাতে হলে কড়া লকডাউন দরকার। নাইট কার্ফু বা সপ্তাহ শেষের লকডাউন করে আখেরে কোনও লাভ হবে না। সাধারণ মানুষের সুযোগ সুবিধার দিকে খেয়াল রেখেই কড়া হতে হবে সরকারকে।

You might also like