Latest News

কংগ্রেসের দলীয় ভোট কবে, পরবর্তী সভাপতি রাহুল, অন্য কেউ, নাকি সনিয়াই থাকবেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ অগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর, এই এক মাসের মধ্যে হবে কংগ্রেসের (Congress) সাংগঠনিক নির্বাচন। কার্যনির্বাহী সভাপতি সনিয়া গান্ধী দলের দায়িত্বভার তুলে দেবেন নতুন নির্বাচিত সভাপতির হাতে। এক বছর আগে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। দু’দিনের মাথায় সেই সময়সীমা শুরু হবে। কিন্তু কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচন-সহ সাংগঠনিক ভোটের ব্যাপারে দলে কোনও সাড়াশব্দ নেই। শুধু তাই নয়, এখনও স্পষ্ট নয়, রাহুল গান্ধীই ফের সভাপতি হবেন কিনা।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির অনেক সদস্যই রাহুলকে ফের সভাপতি পদে চেয়েছেন। কিন্তু সনিয়া পুত্র নিজের অবস্থান বদলানোর কোনও ইঙ্গিত দেননি। অর্থাৎ দ্বিতীয়বার সভাপতি পদে এখনই ফিরতে চান না তিনি। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল। যদি সত্যিই শেষ পর্যন্ত রাহুল রাজি না হন তাহলে বিকল্প দুটি। এক. গান্ধী পরিবারের বাইরের কোনও বিস্বস্ত নেতাকে সভাপতি করা (Congress)।

এই তালিকায় বহুদিন ধরেই নাম আছে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলতের। তাঁকে ইদানীং দিল্লিতে বেশি দেখা যাচ্ছে। এআইসিসি-র দফতরে সাংবাদিক বৈঠকেও হাজির হচ্ছেন তিনি। এছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন, সনিয়া, রাহুলদের ইডির জেরার বিরুদ্ধে প্রতিবাদেও সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে রাজস্থানের এই প্রবীণ নেতাতে। বলা হয়, এই মুহূর্তে তাঁর মতো গান্ধী পরিবারের বিস্বস্ত নেতা আর একজনও নেই। গহলতের সঙ্গেই তালিকায় নাম আছে কুমারী শৈলজা, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং মুকুল ওয়াসনিকের। মধ্যপ্রদেশের দীগ্বিজয় সিংহের নামও আছে বিবেচনায় (Congress)।

দ্বিতীয় বিকল্প হল, সনিয়া গান্ধীকেই সভাপতি পদে রেখে দেওয়া। সনিয়ার শরীর-স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে দুই বা তিনজন কার্যকরী সভাপতি পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে, যা রাহুল গান্ধী দলীয় সভাপতি থাকাকালে রাজ্য কংগ্রেসে করেছেন। ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোর এই পরামর্শ দিয়েছিলেন কংগ্রেসকে (Congress)। তিনি একটি শক্তিশালী সংসদীয় কমিটি গড়ারও পরামর্শ দিয়েছিলেন সনিয়া গান্ধীকে।

প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ এবং উদয়পুরে কংগ্রেসের চিন্তন শিবিরের আলোচনার প্রেক্ষিতে সনিয়া কংগ্রেস সভাপতির জন্য একটি উপদেষ্টা মণ্ডলী গঠন করেন। যদিও তিনি নিজেই সেটির চেয়ারম্যান। কমিটিকে গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মার মতো বিক্ষুব্ধ নেতাদেরও রেখেছেন তিনি। এছাড়া কংগ্রেসের প্রচার কমিটি এবং নির্বাচন কমিটি পুনর্গঠন করেন তিনি। কিন্তু সভাপতির বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি। তিনি নিজেও আর থাকতে চান না, এমন ইঙ্গিতও দেননি। তবে এখনও স্পষ্ট নয় কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত কী করবে।

দলীয় নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মধুসূদন মিস্ত্রি বলেন, আমরা তৈরি। ভোটার তালিকা প্রস্তুত। কিন্তু ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। দলীয় সূত্রের খবর, রাহুলকে ফের সভাপতি করা হলে বিজেপি গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অস্ত্রটি আরও ধারালো ভাবে ব্যবহার করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইদানীং নিয়ম করে বলছেন, পরিবারবাদ ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিপদ। সে কথা স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকেও বলেছেন।

সনিয়া সভাপতি থেকে গেলেও বিজেপি পরিবারতন্ত্রের ইস্যুতে কংগ্রেসকে ঘায়েল এবং আরও ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। রইল বাকি গান্ধী পরিবারের বাইরে বিস্বস্ত কাউকে সভাপতি করা।

কংগ্রেস সূত্রে খবর, গহলত-সহ একাধিক নেতার নাম এলেও সনিয়া, রাহুলরা এখন কাউকেই পুরোপুরি ভরসা করেন না। এটাই গান্ধী পরিবারের প্রধান সমস্যা।

দলের একাংশের আবার মত হল, সনিয়া, বা রাহুল দলীয় সভাপতি হলে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার বেশি দূর এগনোর চেষ্টা করবে না। রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করলেও চূড়ান্ত কিছু করার আগে কংগ্রেস সভাপতি বলেই পাঁচবার ভাবতে হবে।

নিউইয়র্কে ফের ভাঙা হল মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি

You might also like