Latest News

বিবেচনায় বিকল্প, ‘বিদ্রোহী’ গেহলটকে সরতে হতে পারে কংগ্রেস সভাপতির পদের দৌড় থেকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী বদল নিয়ে রাজস্থানের পরিস্থিতি যে দিকে গড়িয়েছে তাতে স্তম্ভিত সনিয়া গাঁধী, রাহুল গান্ধীরা এখন দলীয় সভাপতি নির্বাচন নিতে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। কংগ্রেস (Congress) সূত্রে খবর, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক (Ashok Gehlot)। গেহলটকে আর গান্ধী পরিবারের পছন্দের প্রার্থী বলে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে না। সনিয়ার ডাক পেয়ে আজই দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কমলনাথ। তিনি কংগ্রেস সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন। ওদিকে রাহুল গান্ধী অবিলম্বে দিল্লি যেতে বলেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেনুগোপালকে। কেরলে ভারত জোড়ো যাত্রায় ব্যস্ত রাহুলও সাময়িক বিরতি নিয়ে দিল্লি যেতে পারেন।

কংগ্রেস সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ইতিমধ্যেই নমিনেশন পেপার তুলেছেন শশী তারুর। তবে, তিরুবন্তপুরমের তিনবারের সাংসদ এক বর্ণ হিন্দি বলতে পারেন না। তাঁর ইংরিজি উচ্চারণও দুর্বোধ্য। জনসংযোগ জিরো। ফলে তারুরকে সভাপতি করার সমস্যা আছে। অনেকেই মল্লিকার্জুন খড়্গর কথা বলছেন। কর্নাটকের এই নেতা কাজ চালানোর মত হিন্দি বলতে পারেন। কিন্তু তিনিও মিশুকে নন। কর্নাটক আর দিল্লির মধ্যে সীমাবদ্ধ তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড।

উত্তর ভারতের একধিক নেতার নাম নানা সময়ে শোনা গিয়েছে। সেই তালিকায় কুমারী শৈলজা আছেন। আছেন মুকুল ওয়াসনিক। শৈলজা মহিলা এবং ওবিসি। ওয়াসনিক তফসিলি সম্প্রদায় ভুক্ত। মধ্যপ্রদেশের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহও দলীয় সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চান। সব মিলিয়ে গেহলটের বিকল্প অনেক আছে কংগ্রেস।

গেহলটের বিদ্রোহে সায় না দিলেও তেরকংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, রাজস্থানে সরকারকে নিয়ে তানাহ্যাঁচড়া করা ঠিক হচ্ছে না। গেহলট প্রথম থেকেই বলেছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী থেকেই দলীয় সভাপতির পদ সামলাতে পারবেন। আর দলের তাতে আপত্তি থাকলে তাঁর পছন্দের লোককে মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। তিনি কিছুতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সচিন পাইলটকে মেনে নেবেন না। গেহলটের এই বায়নার থেকেও সনিয়া, রাহুলরা বিরক্ত তাঁর অনুগামীদের বিদ্রোহ নিয়ে। গেহলট এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়কদের আচরণের নিন্দা করেননি।

গান্ধী পরিবারের ঘরের মানুষ অশোক গেহলট যে অনুগামীদের সামনে রেখে এমন বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেন তা কল্পনাও করতে পারেননি সনিয়া, রাহুলরা। অনেকেই মনে করছেন, নিজের রাজ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে গেহলট কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সভাপতির চেয়ারে বসার আগেই বুঝিয়ে দিলেন গান্ধী পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার স্পর্ধা ধরেন। কংগ্রেসের অন্দরে এখন একান্তে অনেকেই বলছেন, গান্ধী পরিবারের এই দশা কল্পনাও করা যায় না। ছায়া সঙ্গীরা পর্যন্ত চোখ পাল্টি করে দিচ্ছে।

সনিয়া, রাহুলের প্রতিনিধি হয়ে মল্লিকার্জুন খড়গে এবং অজয় মাকেন গতকাল সন্ধ্যায় জয়পুর পৌঁছোন। তাঁদের দৌত্য ব্যর্থ হওয়ার পর রাতে রাহুল গান্ধীর নির্দেশে কেসি বেনুগোপাল অনেক রাত পর্যন্ত গেহলটের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাতে বরফ গলেনি। গেহলট জানিয়ে দেন বিধায়কদের ইস্তফার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁরা নিজেরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বিকালে জয়পুরে কংগ্রেস বিধায়ক দলের বৈঠক বসার কথা ছিল। সেখানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ে বিধায়কদের মতামত নেওয়ার কথা ছিল খাড়গে ও ওয়াসনিকের।

কিন্তু বৈঠকের শুরুর আগেই অশোক গেহলট প্রস্তাব করেন, এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কংগ্রেস হাইকমান্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়া হল, বৈঠকে শুধু এই মর্মে একটি প্রস্তাব নেওয়া হবে। প্রস্তাবটি পেশ করবেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি। এই প্রস্তাবে সব পক্ষই সায় দেয়।

গেহেলটের খেলা শুরু হয় এরপর। দেখা যায় গেহেলট সমর্থক বিধায়করা বৈঠকে যোগ দেননি। বেশি রাতে তাঁরা বাস বোঝাই করে এসে বিধানসভার স্পিকারের অফিসে ইস্তফা পত্র জমা করেন। মোট ৯৪ জন ইস্তফা পত্র পেশ করেছেন স্পিকারের অফিসে। অর্থাৎ, গেহলট দেখাতে চেয়েছেন, তিনি সব দায়িত্ব হাইকমান্ডের উপর ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিধায়কেরা বেঁকে বসেছেন।

আজ স্পিকার সিপি যোশীর সামনে নিয়ম মেনে সশরীরে হাজির হয়ে গেহলট সমর্থকেরা ইস্তফা নিশ্চিত করেন। তাঁদের বক্তব্য, সচিন পাইলট বাদে যে কাউকে তাঁরা গেহেলটের চেয়ারে মেনে নেবেন। কারণ সচিন ২০২০ – তে বিদ্রোহ করে বিজেপির হাত ধরে সরকার গড়তে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, ওই সময় বিদ্রোহী সচিনকে শান্ত করতে সনিয়া, রাহুলরা তাঁকে পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী করার কথা দেন। আজ রাতে সনিয়ার সঙ্গে সচিনের বৈঠক হওয়ার কথা। অশোক গেহেলট দলের সভাপতি পদে বসার প্রস্তাবে সায় দিতে গিয়ে শর্ত চাপান, তিনি একই সঙ্গে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী থাকতে চান।

রেশন দোকানেই মদ বিক্রির আবদার! কেন্দ্রকে চিঠি বাংলার ডিলারদের

You might also like