Latest News

শিশু পাচার রুখতে ভরসা শিক্ষাই, সারা রাজ্যের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ কনফারেন্স

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশু পাচার এবং কমবয়সি মেয়েদের বিয়ে রুখতে স্কুলের ভূমিকা নিয়ে মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজিত কনফারেন্সে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার ২০০জন প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা। পশ্চিমবঙ্গের ‘দ্য স্টেট ফোরাম হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন’-এর মিলিত উদ্যোগে এই কনফারেন্সের ব্যবস্থা করা হয়।

কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন টেকনিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের মিনিস্টার ইন চার্জ শ্রী পূর্ণেন্দু বসু, কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটসের চেয়ারপার্সন শ্রীমতী অনন্যা চক্রবর্তী চ্যাটার্জী, কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিঃ চন্দন কুমার মাইতি প্রমুখ। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল, স্কুলের পরিবেশ কীভাবে আরও উন্নতমানের করা যায়, যাতে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার প্রতি আরও আগ্রহ বাড়ে। শিক্ষার প্রসারে এবং স্কুলের উন্নত পরিকাঠামোয় ভবিষ্যতে শিশু পাচার, শিশু নির্যাতন আস্তে আস্তে কমে আসবে বলেই তাঁরা মনে করছেন।

‘কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস’-এর চেয়ারপার্সন শ্রীমতী অনন্যা চক্রবর্তী চ্যাটার্জী বলেন, “শিক্ষকরাই সমাজ গড়ার কারিগর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষকরাই সঠিক পথ দেখিয়ে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। দারিদ্র্য ছাড়াও আরও বহু কারণে স্কুলে যাওয়া হয় না এ দেশের বহু বাচ্চার। তার মধ্যে রয়েছে বাড়ির পরিবেশ, শিশু নির্যাতন, শিশুশ্রম। এভাবেই শিশু পাচার বাড়ে। তাই ছোট থেকেই তাদের শেখাতে হবে, ছেলেমেয়ে উভয়েই সমান। প্রত্যেকরই প্রত্যেককে সম্মান জানানো উচিত। আর এই ধরনের ভাবনার উন্মেষ ঘটাতে এবং সঠিক পথে চালনা করতে একমাত্র শিক্ষকরাই পারেন।”

ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশনের ডিরেক্টর মিঃ সাজি ফিলিপ এই প্রসঙ্গে জানান, “ছোট থেকেই পড়াশোনার মাধ্যমে শিশুদের এবং তাদের পরিবারের সকলকে সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে সচেতন করাটা আবশ্যিক। কখনও কখনও দেখা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা শিশু নির্যাতন বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। স্কুল বিমুখ হলেই, নানা কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত করিয়ে তাঁদের অন্য দেশে পাচার করেও দেওয়া হয়। আগামী দিনে এই ধরনের অপরাধ রোধ করার উদ্দেশ্যে আজকে সমস্ত বর্ষীয়ান শিক্ষকদের সঙ্গে এই প্রসঙ্গেই আলোচনা চলে।”

দ্য স্টেট ফোরাম হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস-এর জেনারেল সেক্রেটারি মিঃ চন্দন কুমার মাইতি এই কনফারেন্সের পরে জানান, “আজকে একুশ শতকে দাঁড়িয়েও শিশু পাচার এবং নাবালিকাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা রোধ করা যায়নি। স্কুলের মধ্যেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শিশুদের আরও সচেতন করাটা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে পরীক্ষায় পাশের হার বাড়লেও, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর একটিও না ঘটে সেই উদ্দেশ্যেই আজকে কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে।”

You might also like