Latest News

Citizenship: ফেব্রুয়ারিতে অনুপ্রবেশকারী, মে মাসে ভারতীয়, চোয়াল চাপা লড়াই আকলরানির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ বছর আগে তাঁর ছেলেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছিল নাগরিকত্বের (Citizenship) উৎকণ্ঠায়। সেই অর্জুন নমঃশূদ্রের মা আকলরানি নমঃশূদ্র ছেলেকে হারিয়েও ভেঙে পড়েননি। অসমের শিলচর ফরেনার্স ট্রাইবুনালে রাষ্ট্রের দেওয়া ‘বিদেশি তকমা’র বিরুদ্ধে লড়েছিলেন চোয়াল চেপে। শেষ পর্যন্ত জিতলেন আকলরানি। শিলচর ফরেনার্স ট্রাইবুনালের বিচারক ধর্মানন্দ দেব রায় দিলেন, আকলরানি ভারতীয়।

তিনি ১৯৬৫ সাল-সহ ৮০ সাল পর্যন্ত ভোট দিয়েছিলেন (Citizenship)। সেই ভোটার তালিকা জোগাড় করতে ৮৩ বছরের আকলরানিকে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরেছিলেন। তিনি এবং তাঁর পরিবার যে ৭১-এর পর বাংলাদেশ থেকে আসেননি সেটাই ছিল প্রমাণ। আদালতে সেসব ভোটার তালিকা পেশ করার পর তা পাঠানো হয়েছিল নির্বাচনী দফতরে। তারাও জানিয়েছে, ওইসব তথ্যে কোনও অসছ্বতা নেই।

পুকুরে স্নানের সময় কানে ঢুকল মৌরলা মাছ! জ্যান্ত বের করে আনলেন ডাক্তারবাবুরা

আকলরানি জানিয়েছেন, ‘আমার ছেলেটাকে মরতে হয়েছিল এই প্রমাণ করার উৎকণ্ঠায়। আজ অর্জুনের মৃত্যুর ১০ বছর পর প্রমাণ হল, আমরা ভারতীয়ই ছিলাম। ভারতীয়ই আছি। কিন্তু তবু এই বয়সে এসব পোহাতে হল, আদালতে ছুটতে হল, ছেলেটাকেও রাখতে পারলাম না।’ অসমের শিলচর ফরেনার্স ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, আকলরানি তো বটেই, তাঁর প্রয়াত ছেলে অর্জুন এবং মেয়ে অঞ্জলি—সকলেই ভারতীয়।

২০০০ সালে প্রথম অর্জুনকে নোটিস ধরিয়েছিল পুলিশ। নোটিসে বলা হয়েছিল, অর্জুনকে প্রমাণ করতে হবে তিনি ভারতীয়। কাগজ হাতড়ে বেড়ানো অর্জুন কিচ্ছুটি না পেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েছিলেন ২০১২ সালের ৮ জুন.।ছেলের লাশ ছুঁয়ে হয়তো সেদিনই আকলরানি শপথ নিয়েছিলেন, যতই কঠিন হোক, লড়াইটা তিনি শেষপর্যন্ত লড়বেন।

অর্জুনের আত্মহত্যা একটা সময়ে অসমের রাজনীতির ইস্যু হয়ে উঠেছিল। ২০১৪-র ভোটের প্রচারে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত ওই আত্মহত্যা নিয়ে সরব হয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছিলেন। যদিও মোদী জমানাতেই নতুন করে এনআরসি-র বিষয়টি গতি পায়। অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের নেতৃত্বে তা আরও দ্রুত গতি সম্পন্ন।

এত বছর দৌড়েবেড়ানো আকলরানি জেতার পরে যেন ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। শুধু বলছেন, এগুলো যারা করাল, যাদের জন্য আমার ছেলেটাকে মরতে হল, তাদের কি ভাল হবে?

You might also like