Latest News

চুঁচুড়ার সরকারি হাসপাতালে ভরদুপুরে গুলি! বন্দিদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে এনে বিপত্তি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যস্ত সময়ে চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতাল (Chinsura Imambara Hospital) চত্বরে চলল গুলি (Firing)! পুলিশ জানিয়েছে, রোগী সেজে হাসপাতালেই লুকিয়েছিল হামলাকারীরা। হাসপাতালে একটি পুলিশ ভ্যান ঢুকতেই চালানো হয় গুলি। ওই ভ্যানে ছিল কয়েক জন কুখ্যাত দুষ্কৃতী। জখম হয় তাদের এক জন।

Image - চুঁচুড়ার সরকারি হাসপাতালে ভরদুপুরে গুলি! বন্দিদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে এনে বিপত্তি

পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতী টোটন বিশ্বাস-সহ কয়েকজন বন্দিকে এদিন দুপুরে মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। আদালতে তোলার কথা ছিল তাদের আজ। পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে এনে তাদের প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময়েই আচমকা গুলি চালায় লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হয় টোটন বিশ্বাস নামের মূল দুষ্কৃতী।

জানা গেছে, চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা টোটোন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসংখ্য অপরাধের মামলা রয়েছে। সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় সে বন্দি ছিল হুগলির জেলে। এরই মধ্যে একটি পুরোনো কেসে তাকে রিমান্ডে নেয় চুঁচুড়া থানা। সেই কেসেই আজ আদালতে তোলার কথা ছিল তাকে। তার আগে ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য।

সূত্রের খবর, আগাম খবর পেয়ে হাসপাতালেই ঘাপটি মেরে ছিল টোটোনের বিরুদ্ধগোষ্ঠীর লোকজন। সঙ্গে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। এমার্জেন্সির সামনে প্রিজন ভ্যান পৌঁছনোর পরে টোটোনকে নামানোর সময়েই আচমকা চলে পরপর গুলি। টোটোনের পাঁজরের কাছে লাগে একটি গুলিতে। ওই ভ্যানে টোটোন ছাড়াও ছিল তার এক সঙ্গী সঞ্জয় হালদার এবং আরও কয়েক জন দুষ্কৃতী। জানা গেছে, সঙ্গে পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশকর্মী ছিলেন না।

গুলি চলার সঙ্গে সঙ্গে হইচই পড়ে যায় হাসপাতালে। ভয় পেয়ে টোটোন ফের প্রিজন ভ্যানে ছুটে উঠে যায়। কিছুক্ষণে হাসপাতালে চলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। টোটোনকে নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে।

Image - চুঁচুড়ার সরকারি হাসপাতালে ভরদুপুরে গুলি! বন্দিদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে এনে বিপত্তি

জানা গেছে, বাজারের ব্যাগ হাতে করে রোগী সেজে হাসপাতালে ঢুকেছিল তিন দুষ্কৃতী। ওই ব্যাগেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। বোমাও ছিল বলে অনুমান। তবে তাদের কাউকেই ধরা যায়নি। একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে কেবল।

টোটোনের বিরুদ্ধে একাধিক খুনের মামলা আছে। মূলত তোলাবাজি করত সে। ২০২১ সালে তাকে গ্রেফতার করেন সিপি হুমায়ুন কবীর। সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয় অনেক নগদ অর্থ ও আগ্নেয়াস্ত্র। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময় জেলেই থাকত টোটোন। সূত্রের খবর, জেলেও দাপটের সঙ্গে চালাত তোলাবাজি।

এদিকে হুগলিতে টোটোনের শত্রুর সংখ্যাও কম নয়। নেপো গিরি, রমেশ মাহাতো, বিশাল দাস– এই দুষ্কৃতীরাও মাথাচাড়া দিয়েছে টোটোনের বিরুদ্ধে। দুষ্কৃতী বিশাল দাস আবার টোটোনের দাদা তারক বিশ্বাসকে খুন করেছিল। স্থানীয় সূত্রের অনুমান, বিশাল দাসের গোষ্ঠীই আজকের এই হামলার পিছনে দায়ী।

বাগুইআটির আবাসনের নীচে যুবতীর রক্তাক্ত দেহ! খুন না আত্মহত্যা, তদন্তে পুলিশ

You might also like