Latest News

চাঁদে পৌঁছল চিনের মহাকাশযান চ্যাং’ই-৫, করোনা নিয়ে কোণঠাসা হওয়ার পরে বড় সাফল্য বেজিংয়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদে পৌঁছে গেল চিনের মহাকাশযান চ্যাং’ই-৫। চাঁদের মাটি খুঁড়ি নুড়ি-পাথর-মাটি সংগ্রহ করে আনার কাজ করবে সেটি। এই যানে কোনও মহাকাশচারী থাকছেন না। চিনের মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই চন্দ্রাভিযান সফল হলে চার দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনও মহাকাশচারী ছাড়া শুধু যন্ত্রের মাধ্যমেই চাঁদের মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজে সফল হবে চিন।

চিনের জাতীয় সংবাদপত্রের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর তিনটে দশে চিনের ওয়েনচ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে সফলভাবে উড়ে যায় চন্দ্রযানটি। চিনের চন্দ্রদেবতার নামানুসারে এই যানটির নাম রাখা হয়েছে চ্যাং’ই-৫। জানা গিয়েছে, চ্যাং’ই-৫ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করার পরে তা থেকে দুটি রোবোটিক যন্ত্র অবতরণ করেছে চাঁদে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই মহাকাশযানকে বর্তমানে পৃথিবী থেকেই রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন চিনের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। এর পরে একটি যন্ত্র চাঁদের মাটি খুঁড়বে। আর অন্য যন্ত্রটি সেই খোঁড়া অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ করবে। এর পরে কক্ষপথে দাঁড়িয়ে থাকা চন্দ্রযান মারফত সেই নমুনা পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেবে তারা। চিনের মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে সেই নমুনা নিয়ে চলবে আরও গবেষণা।

Chinese spacecraft carrying lunar rocks lifts off from moon

সেই সত্তর দশকে রাশিয়া অর্থাৎ তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন পরপর বেশ কয়েকটি মহাকাশযানে নভোশ্চারীদের পাঠিয়েছিল চাঁদে। তথ্য বলছে, সেই মহাকাশযানগুলি চাঁদের মাটি থেকে অন্তত ৩৮২ কেজি নুড়ি-বালি নিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছিল। তবে চিন কিন্তু রাশিয়ার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে চন্দ্র অভিযানের ব্যাপারে। এবার সেই ইতিহাসেই নতুন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে চায় চিন। সেই উদ্দেশেই বেজিং এই চন্দ্রাভিযানের আয়োজন করেছে।

চিনের স্টেট ব্রডকাস্টার সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চাঁদে পৌঁছেও গিয়েছে যানটি। চিনের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদ থেকে ফিরে আসার আগে চাঁদের মাটিতে চিনের পতাকা উড়িয়ে আসবে যানটি।

Chang'e-5 probe unfolds Chinese national flag, takes off from moon with  lunar surface samples - Global Times

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ নিয়ে গবেষণা চলছে সেই কত বছর ধরে। চাঁদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কী, তার প্রকৃত চেহারাই বা কেমন, কীভাবে জন্ম এ উপগ্রহের, তার মাটির নীচে কোন কোন সম্পদ লুকিয়ে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই মহাকাশবিজ্ঞানীদের। এবার সে জন্যই চাঁদ নিয়ে গবেষণায় জোর দিয়েছে জিনপিং সরকার। তারই ফল আসন্ন চ্যাং’ই-৫ অভিযান। সব ঠিক থাকলে, চাঁদের যে এলাকা ঝঞ্ঝাপ্রবণ সেই ‘ওশিয়ান অফ স্টর্মস’ থেকে দু’কেজি নমুনা সংগ্রহ করবে এই চন্দ্রযানটি।

তবে এটি কেবলই শুরু। এর পরে চন্দ্র গবেষণায় আরও বড় পরিকল্পনা আছে চিনের। আগামী ১০ বছরের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অর্থাৎ যেদিকটা প্রায় অন্ধাকার, সেদিকে বেশ কয়েকটি রোবোটিক বেস স্টেশন তৈরি করা হবে চিনের তরফে। এর ফলে ২০৩০-এর মধ্যে চাঁদে চিনের মহাকাশচারী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হয়ে যাবে।

করোনা সঙ্কটের মাঝে কিছু স্বস্তিতে চিন


আপাতত এই অভিযান সফল হওয়াটা বেজিংয়ের কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতোই একটা বিষয়, এমনটাই জানিয়েছে চিনা সংবাদমাধ্যম শিনহুয়া। কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমানে করোনা ভাইরাসকে ঘিরে যেভাবে আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা হয়েছে চিন, চন্দ্রযানের এই সাফল্য চিনকে সেই অবস্থা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পারে।

You might also like