Latest News

পাকিস্তানের কাছে ৭০০ কোটি টাকা চাইল চিন, কেন কী এমন হল!

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  পাকিস্তানের শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্তের বন্ধু চিন। আর সেই চিনেরই এক কন্ট্রাক্টর কিনা পাকিস্তানের (pakistan) দাসু বাঁধ প্রকল্পে (dasu dam project) গত বছরের জুলাইয়ে বিস্ফোরণের (blast) জেরে ক্ষয়ক্ষতির জন্য পাকিস্তানের কাছে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ (compensation) চাইল! দাসু জলবিদ্যুত্ প্রকল্পস্থলে বাসে চিনা প্রযুক্তিবিদ, কর্মীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আচমকা বাসে বিস্ফোরণে ১০ চিনা নাগরিক নিহত, ২৬ জন জখম  হন। চিনের (china) দাবি, তাদের ওই ৩৬ নাগরিকের (citizens) জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পাকিস্তানকে। বিভিন্ন পাক মিডিয়ার খবর, ইমরান খান সরকার ভারতীয় মুদ্রায় ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দিতে রাজি হয়েছে, যদিও তাঁর সরকারের কোনও আইনি বা চুক্তি সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা নেই।

সেই  বিস্ফোরণের পর চিনা কন্ট্রাক্টর প্রকল্পস্থল থেকে সরে যায়, সেখানে ফের কাজ শুরু করার জন্য একাধিক শর্ত পেশ করে, যার মধ্যে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি চিনা নাগরিকদের আরও নিরাপত্তার দাবি আছে।

পাক মিডিয়ার খবর, চায়না  গেঝাউবা গ্রুপ কর্পোরেশন নামে চিনা সংস্থাটি থমকে থাকা দাসু হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের কাজ ফের চালু করার প্রাক শর্ত হিসাবে আরও ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্যিক ক্ষতিপূরণও চেয়ে বসেছে। পাক সরকারের আশা, চিনের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বোঝাপড়া আর কয়েক সপ্তাহেই মিটে যাবে, প্রকল্পের কাজ ফের শুরু হবে। ওদিকে চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়ান বেজিংয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, দাসু  প্রকল্পের কাজ আবার শুরু হয়েছে। চিনা মুখপাত্রটি বিপুল পরিমাণ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া পাকিস্তানের কাছ থেকে বিরাট বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার, কিছুই করেননি। চিনা সংস্থাটি বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি রূপায়ণ করছে।

এদিকে আরেকটি পাক মিডিয়া রিপোর্টে পাক রেলমন্ত্রী আজম স্বাতীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এক বছর আগে চিনের কাছে একটি রেল প্রকল্পের জন্য ২.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোন চেয়েছিল, কিন্তু আজও চিনের তরফে  সাড়া মেলেনি। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, গত সাড়ে তিন বছরে চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডর প্রকল্পের কাজ নাকি খুব মন্থর হয়ে পড়েছে। ভারত বরাবারই ওই প্রকল্পে আপত্তি জানিয়েছে কেননা তা  তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক সংহতির পরিপন্থী।

চিনা মুখপাত্রটি অবশ্য পাক মিডিয়ার রিপোর্টকে ‘পুরোপুরি অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি উল্টে কোভিড ১৯ পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেছেন, এটা বিরাট বিনিয়োগের প্রকল্প। দুদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ  এ নিয়ে কথাবার্তা চালাচ্ছে।

You might also like