Latest News

কোভিড ১৯ সংক্রমণ নিয়ে কিছু গোপন করেনি চিন, মন্তব্য শি জিনপিং-এর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা ও আরও কয়েকটি দেশ অভিযোগ করেছে, করোনা অতিমহামারী নিয়ে অনেক কিছু গোপন করেছে চিন। ঠিক কবে থেকে ওই রোগের সংক্রমণ শুরু হল, চিনে কতজন মারা গিয়েছেন, তা গোপন করা হয়েছে বলে আমেরিকার দাবি। মঙ্গলবার সেই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেন, চিনে কোভিড অতিমহামারীর মোকাবিলা করা হয়েছে প্রকাশ্যে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে। তার ফলে বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাঁরা চিনের রোল মডেল, এদিন তাঁদের সম্মানিত করেন শি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলির মধ্যে চিনই প্রথম অতিমহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠেছে। চিনের অর্থনীতি বিকশিত হচ্ছে। তা থেকে বোঝা যায়, চিন কী পরিমাণ শক্তির অধিকারী।

কিছুদিন আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোভিড প্রসঙ্গে বলেন, বেজিং আমাদের বড় ক্ষতি করে দিল। শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বকেই ভুগতে হচ্ছে এর জন্য।

করোনা সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যার নিরিখে বিশ্বের কোভিড তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। মৃত্যু প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি। আমেরিকার করোনা পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগের কারণ।

কিছুদিন আগে হোয়াইট হাউসে ‘স্পিরিট অফ আমেরিকা শোকেস’ নামে একটি অনুষ্ঠানেও চিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ ছিল, চিন এমন একটা মহামারী ছড়িয়ে দিয়েছে যার বলি হতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকেই। বেজিংকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ওরাই নিয়ে এসেছে এই মহামারী। যার কারণে মৃত্যু হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সংক্রমণ যখন চিনে মহামারীর পর্যায়ে যাচ্ছিল সে তথ্যও সঠিক ভাবে আন্তর্জাতিক মহলকে জানায়নি চিন। বরং মিথ্যা তথ্য দিয়ে গোটা বিষয়টাকেই লঘু করে দেখাবার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এই মারণ ভাইরাসের চক্রান্ত চিনের কমিউনিস্ট পার্টির। তারাই ভাইরাস ছড়িয়েছে, আর পরে সামাল দিতে পারেনি।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং এর বিধে শিকেয় তুলে নির্বাচনী প্রচারে বহু মানুষের জমায়েত হতেও দেখা গেছে। আমেরিকার করোনা পরিস্থিতির জন্য সরকারের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন অনেকে। সঠিক সময় ব্যবস্থা নিলে সংক্রমণ রোখা যেত বলেও কথা উঠেছে। তাই মনে করা হচ্ছে, সেদিক থেকে নজর ঘোরাতেই বারে বারে চিনের প্রসঙ্গ তুলে আনছেন ট্রাম্প। কারণ, এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে করোনা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

You might also like