Latest News

Chief Justice: অধিকারের লক্ষ্মণরেখা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের সামনে সরব দেশের প্রধান বিচারপতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৯ মার্চ সমস্ত অ-বিজেপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিরোধী দলনেতাদের চিঠি লিখে বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আজ ৩০ এপ্রিল বিচারপতি ও মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে দেশের প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) এনভি রামানা যা বললেন তা শুনে অনেকে বলছেন, বিচার ব্যবস্থাকে যে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) উপস্থিতিতে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে দেশের প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সরকার, সংসদ এবং বিচার ব্যবস্থা—এই তিনের কার কী ক্ষমতা তা সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লিখিত রয়েছে। কর্তব্যপালনের ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্মণরেখা যাতে অতিক্রান্ত না হয় সে ব্যাপারে প্রত্যেকেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই আরও পোক্ত হবে।’’

অনেকের মতে, এই রকম একটি সম্মেলনে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, সব রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীরা রয়েছেন সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বৈকি। লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম না করার চেষ্টার কথা কেন বললেন প্রধান বিচারপতি? আইনজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, তার কারণ, তিনি হয়তো অনুধাবন করছেন, সেই প্রবণতা রয়েছে। না হলে তিনি কেন বললেন?

বাংলায় বিজেপি আছে শুধু ফেসবুকে, অর্জুনের তিরে ‘মোদী-বন্ধু’ আম্বানি-আদানিও

পর্যবেক্ষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ বিরোধীদের গলায় নতুন নয়। মহারাষ্ট্র থেকে বাংলা, কেরল থেকে ঝাড়খণ্ড—অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি নিয়ম করে এই অভিযোগ তোলে মোদী-শাহের বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করারও অভিযোগ। তারমধ্যে অন্যতম হল, বিচারপতি নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ। অনেক সময় আবার, অপছন্দ হলে বিচারপতি বদলে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র, রাজ্য দুই সরকারের বিরুদ্ধেই। বিচারপতির বদলিতে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগও নতুন নয়। সেই সঙ্গে আছে, বিচারালয়কে উপেক্ষা করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা।

সামগ্রিক সেই প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতির এই লক্ষ্মণরেখা মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত অনেকের।

এদিন প্রধান বিচারপতি আরও বলেছেন, আদালত যে নির্দেশ দিচ্ছে সরকার তা কার্যকর করছে না। তা শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব মিলিয়েই এই কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি। সম্প্রতি একাধিক মামলার পর্যবেক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টও বলেছে, আদালত যা নির্দেশ দিচ্ছে তা সরকার তথা প্রশাসন কার্যকর করছে না। গতকালই একটি মামলায় আদালতের নির্দেশ না মানার জন্য অবমাননার অভিযোগে রাজ্যের মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং পরিবহণ সচিবের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

তা ছাড়া জনস্বার্থ মামলার বহরও এখন বেড়ে গিয়েছে। সে ব্যাপারেও এদিন প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা বলেছেন, জনস্বার্থ মামলা যাতে ব্যক্তগত স্বার্থে না হয় তাও দেখতে হবে। তাঁর কথায়, পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন অনেক সময় পারসন্যাল ইন্টারেস্ট লিটিগেশনে পরিণত হচ্ছে।

অনেকের বক্তব্য, এদিন বিচার ব্যবস্থা নিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি যে উপসর্গগুলির কথা শুনিয়েছেন তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।

You might also like