Latest News

কয়েক মাসের মধ্যে চিদম্বরমের বিনিয়োগ সাড়ে ৬ কোটি থেকে বেড়ে ৬৬ কোটি, জানাল ইডি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আইএনএক্স মামলায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম, তাঁর ছেলে কার্তি, তাঁদের চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এস ভাস্কররমন ও আরও কয়েকজনকে চার্জশিট দিল এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট (ইডি)। তাতে বলা হয়েছে, চিদম্বরমদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েক মাসে সাড়ে ছয় কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছিল ৬৫.৯ কোটি। আইএনএক্স মিডিয়ার থেকে টাকা পেয়েই তাঁদের বিনিয়োগের পরিমাণ আচমকা ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। গত বুধবার দিল্লির এক বিশেষ আদালত ওই চার্জশিট গ্রহণ করেছে। চিদম্বরমদের আগামী ৭ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওইদিন তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, “এখনও অবধি যতদূর জানা গিয়েছে, কার্তি চিদম্বরমের কয়েকটি ভুয়ো কোম্পানিকে আইএনএক্স মিডিয়া দিয়েছিল সাড়ে ছয় কোটি টাকা। প্রথম দফায় স্প্যান ফাইবার ও সত্যম ফাইবার নামে দু’টি কোম্পানির মাধ্যমে এএসসিপিএল, ক্রিয়া ও সিবিএনপিএমসি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল ৩ কোটি টাকা। ওই তিনটি কোম্পানির মালিক কার্তি। পি চিদম্বরমও কোম্পানিগুলির বোর্ড অব ডিরেক্টরসে আছেন।”

ইডি-র অভিযোগ, ২০০৭-০৮ সালে আইএনএক্স মিডিয়া কার্তির কোম্পানিগুলিকে বেআইনিভাবে টাকা দেয়। সেই টাকা থেকে এএসসিপিএলের নামে ভাসন হেলথ কেয়ারের দেড় লক্ষ শেয়ার কেনা হয়। সেজন্য খরচ হয়েছিল দেড় কোটি টাকা। পরে ভাসন হেলথ কেয়ারের ৩০ হাজার শেয়ার বেচে দেওয়া হয় সিকোইয়া নামে এক সংস্থাকে। তাতে পাওয়া গিয়েছিল ২২.২ কোটি টাকা। আরও ৩৬ হাজার ২৪৫ টি শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল ভাসন মেডিক্যাল হলকে। তাতে পাওয়া গিয়েছিল ১৮.৬ কোটি টাকা। দু’দফায় শেয়ার বিক্রি করে কার্তি পেয়েছিলেন ৪০.৮ কোটি টাকা।

এএসসিপিএল এরপরে এজিএস হেলথকেয়ারের শেয়ার কেনে ১১ কোটি টাকায়। তা ২৯.৪ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। ইডি-র দাবি, এই লেনদেন হয়েছিল দু’বছরের মধ্যে। এর পরে আইএনএক্স মিডিয়া আরও দু’দফায় কার্তিকে টাকা দেয়। সব মিলিয়ে কার্তির ভুয়ো কোম্পানিগুলির সম্পদের পরিমাণ হয় ৬৫.৯ কোটি টাকা।

আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় চিদম্বরমদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিবিআই-ও। গতবছর ওই সংস্থা আদালতে জানায়, প্রথম ইউপিএ সরকারের অর্থমন্ত্রী থাকার সময়ে আইএনএক্স মিডিয়ার কর্ণধার পিটার মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন চিদম্বরম। তার বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগে ছাড় দিয়েছিলেন বেআইনি ভাবে। অর্থমন্ত্রীর ক্ষমতা ব্যবহার করে চিদম্বরম তা করেছিলেন বলে অভিযোগ। যদিও কংগ্রেসের তরফে বারবারই বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নির্লজ্জ কায়দায় ব্যবহার করছে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী সরকার।

You might also like