Latest News

Chancellor Mamata: নজির গড়ছেন মমতা, দেশে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হচ্ছেন

অমল সরকার

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্কে কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান রেগেমেগে মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়নকে চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘‌আপনিই বরং রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য হয়ে যান।’‌ (Chancellor Mamata)

কেরলের রাজ্যপালের এমন বিষোদ্গারের কারণ হল, উপাচার্য নিয়োগে তাঁর অধিকারকে পদে পদে অস্বীকার করছিল কেরলের সিপিএম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যপালকে জানিয়ে দেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হওয়ার কোনও বাসনা তাঁর নেই। রাজ্যপালই আচার্য থাকুন। (Chancellor Mamata)

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের। গত এপ্রিলে বিধানসভায় বিল এনে উপাচার্য নিয়োগে আচার্য রাজ্যপালের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।

তামিলনাড়ুর সংশ্লিষ্ট আইনে চারটি রাজ্যের উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের উল্লেখ করেছে স্টালিন সরকার। এরমধ্যে আছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাত। বাকি তিন রাজ্য হল— কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা। ওই চার রাজ্যে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত আইনে  বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। রাজ্য সরকারের তৈরি তিনটি নামের প্যানেল থেকে উপাচার্য বেছে নিতে হবে আচার্য–রাজ্যপালকে।

আরও পড়ুন: আমফানের মতো আজকেও নবান্ন কাঁপছিল, সঙ্গে গোঁ গোঁ আওয়াজ: মমতা

ওই একই বিতর্কে গতবছর ডিসেম্বরে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা–এনসিপি–কংগ্রেস জোট সরকার বিধানসভায় বিল এনে উপাচার্য নিয়োগে রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করে দিয়েছে।

তবে কোনও রাজ্যেই রাজ্যপালকে আচার্যের ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। রাজ্যপালেরাই আচার্য রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ এই ব্যাপারে ব্যতিক্রম হতে চলেছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হতে চলেছেন। এজন্য কিছুদিনের মধ্যেই বিধানসভায় রাজ্য সরকার বিল এনে আইন পরিবর্তন করবে। শিক্ষামহলের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হতে চলেছেন।

উপাচার্য নিয়োগে আচার্য রাজ্যপালের ক্ষমতা আগেই খর্ব করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০১৭ সালে এব্যপারে বিধানসভায় আইন পরিবর্তন করে যাবতীয় ক্ষমতা উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রী আচার্য হলে উপাচার্য নিয়োগের উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে।

আচার্য হিসেবে রাজ্যপাল শুধু উপাচার্য নিয়োগ করেন না, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী হিসেবে সমাবর্তনে তিনিই হন প্রধান অতিথি। তাঁর হাত দিয়েই পড়ুয়াদের শংসাপত্র, পদক ইত্যাদি দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী আচার্য হওয়ার পর রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের পরিবর্তে সেই ভূমিকা পালন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যপালদের সাংবিধানিক ক্ষমতার পরিধি নিয়ে বিতর্কে অন্যতম পুরনো ইস্যু হল তাঁদের আচার্য হিসেবে ভূমিকা। একটা সময় পর্যন্ত এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পশ্চিমবঙ্গ। গত শতকের আটের দশকের গোড়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৎকালীন রাজ্যপাল বিডি পাণ্ডের সঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের বিরোধ চরমে উঠেছিল। সিপিএম রাজ্যপাল বিডি পাণ্ডেকে ‘‌বাংলা দমন পাণ্ডে’‌ বলে বিদ্রুপ করত।

তবে এই ইস্যুতে বিরোধ চরমে ওঠে এপি শর্মা রাজ্যপাল হয়ে আসার পর। ১৯৮৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে বামফ্রন্ট সরকার তখন অধ্যাপক রমেন পোদ্দারের নাম আচার্য–রাজ্যপাল এপি শর্মার কাছে পাঠিয়েছিল। তিনটি নামের তালিকায় তৃতীয় নামটি ছিল অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্যের। আচার্য–রাজ্যপাল শর্মা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সন্তোষ ভট্টাচার্যকে মনোনীত করেন।

সেই সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, আচার্যের কাছ থেকে নিয়োগপত্র পেয়ে উপাচার্যের আসনে বসেন সন্তোষ ভট্টাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে সিপিএমপন্থী শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠনের অসহযোগিতার মুখে পড়েন তিনি। তবে ওই পর্বেও সিপিএম সরকার কখনও মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য ঘোষণা করেনি।

বস্তুত এই বিতর্কে রাজ্যপালের ভূমিকার পক্ষে নয় কংগ্রেস বাদে আর কোনও দলই। কংগ্রেস বরাবর আচার্য হিসাবে রাজ্যপালের ভূমিকার পক্ষে। তবে কোনও দলই মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার পথে হাঁটেনি। বরং, শিক্ষা জগতের কাউকে ওই পদে বসানোর কথা নানা সময়ে এসেছে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ওই পদে তাঁর হাতে বিশেষ কোনও ক্ষমতা নেই। তাছাড়া কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আচার্যের উপরে পর্যবেক্ষক হিসাবে আছেন রাষ্ট্রপতি।

You might also like