Latest News

লকডাউনে যত্রতত্র থুতু-কফ-পিক ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, কোভিড ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইনে কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ আগামী ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানোর কথা গতকালই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তখনই আন্দাজ করা যায়, এই লকডাউনে কিছু কিছু ক্ষেত্র হয়তো ছাড় পাবে খানিকটা সেই মতোই কোথায় কী করা যাবে আর কী নিষিদ্ধ– সেই সব মিলিয়ে আজ, বুধবার লকডাউনের এক নয়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। আর তাতে স্পষ্ট বলা রয়েছে, কোনও রকম পান-তামাক-গুটখার পিক বা যত্রতত্র থুতু ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও কাজের জায়গা– এই দু’ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ অমান্য করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।

ন্যাশনাল কোভিড ১৯ ম্যানেজমেন্টের গাইডলাইনে এ কথা আরও একবার বিশেষ ভাবে উল্লেখ করার আগেই অবশ্য সরকারি ভাবে বারবারই প্রচার করা হয়েছে, মুখে মাস্ক আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ রোধে জরুরি যত্রতত্র থুতু না ফেলা।

কিন্তু তার পুরোপুরি প্রয়োগ যাতে নিশ্চিত হয়, তাই এবার গুটখা, পানমশলা, খৈনি, এবং জর্দার মত লালারস সৃষ্টিকারী তামাকজাত দ্রব্য বা চিউইং টোবাকোর ব্যবহারই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র।

প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এখন মহামারী আইন (এপিডেমিক ডিজিজ অ্যাক্ট) চালু রয়েছে। এই আইনের আওতায় গাইডলাইন অমান্য করলেই তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও এই আইনের আগে থেকেই ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ফৌজদারি বিধি অনুযায়ী থুতু ফেলার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে রাজ্যগুলি। কিন্তু বলাই বাহুল্য, এখন করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এই নিয়ম আরও কড়া হল।

প্রসঙ্গত, সেই ২০১৩ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে আইন করে গুটখা নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু রাজ্যে পান মশলা ও জর্দার ব্যবহার এখনও নিষিদ্ধ না হওয়ায় সেগুলির নাম করে গুটখার দাপট একই ভাবে বজায় থেকেছে। পানমশলা হিসেবে গুটখা এবং আলাদা করে জর্দা বিক্রি শুরু হয়েছে আইনি ফাঁদ এড়াতে। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাছাড়া খৈনি. চিউয়িং টোব্যাকো– এসব তো আছেই।

এবার এই সবটা নিয়েই নতুন করে কড়া অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে দেশজুড়ে। মারণ করোনাভাইরাস ড্রপলেটসের মাধ্যমে রোগীর শরীর থেকে অন্য রোগীর শরীরে ছড়ায় সহজেই। ফলে যেখানে সেখানে থুতু ফেললে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। সব দিক ভেবেই নতুন গাইডলাইনে পাবলিক প্লেস ও কাজের জায়গা– এই দু’ক্ষেত্রেই থুতু-গুটখা না ফেলার কথা উল্লেখ করেছে কেন্দ্র।

You might also like