Latest News

কাশ্মীরে সংখ্যালঘু হত্যা, ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নিতে তৈরি কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েকদিনে কাশ্মীরে হিন্দু (Hindu) ও শিখ সম্প্রদায়ের কয়েকজনকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। একটি সূত্রে জানা যায়, অন্তত চারটি সন্ত্রাসদমন ও গোয়েন্দা টিমকে পাঠানো হয়েছে শ্রীনগরের আশপাশে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জঙ্গিদের মডিউলগুলিকে ধ্বংস করতে হবে। এর পাশাপাশি সক্রিয় হয়েছে সিআরপিএফ। বিএসএফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে কোনও মূল্যে অনুপ্রবেশ রুখতেই হবে।

গত শুক্রবার রাতে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ শোপিয়ানে আকিব বশির নামে এক জঙ্গিকে গুলি করে মারে। সে লস্কর ই তৈবার সদস্য ছিল। তার দেহের কাছে একটি এ কে ৪৭ রাইফেল ও কয়েকটি ম্যাগাজিন পাওয়া গিয়েছে। এদিন সংঘর্ষের মধ্যে পালিয়েছে এক পাকিস্তানি জঙ্গি। পুলিশের দাবি, সংখ্যালঘুদের ফের হত্যা করার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া গিয়েছে।

গত কয়েকদিনে যে সংখ্যালঘুরা জঙ্গিদের হাতে মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন কাশ্মীরী পণ্ডিত মাখন লাল বিন্দ্রো। তিনি ছিলেন ফার্মাসিস্ট। এছাড়া মারা গিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুপিন্দর কাউর, স্কুলশিক্ষক দীপক চাঁদ এবং বিহার থেকে আসা হকার বীরেন্দ্র পাসোয়ান। কেন্দ্রীয় সরকার কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, সাধারণ মানুষকে কেউ ভয় দেখাতে চাইলে বরদাস্ত করা হবে না।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন, শ্রীনগরের আশপাশে রয়েছে জঙ্গিদের দু’টি মডিউল। তারা হালকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিরীহ মানুষকে আক্রমণ করছে। লস্কর জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিচ্ছে এক পাকিস্তানি নাগরিক। সেই স্থির করছে, কাকে হত্যা করা হবে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে গত ৭ অক্টোবর বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তখনি সিদ্ধান্ত নয়, জঙ্গি মডিউলগুলিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলতে হবে।

ইতিমধ্যে কাশ্মীর উপত্যকা ছাড়তে শুরু করেছেন ভীত, সন্ত্রস্ত পন্ডিতরা। ২০০৩ সালে বাদগাঁওয়ের শেখপোরায় কাশ্মীরী পন্ডিতদের ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন কলোনি তৈরি করা হয়। সেখানে ছেলে, ছেলে বউকে নিয়ে থাকতেন শান্তি দেবী। ছেলে ২০১৫-য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষিত স্পেশাল প্যাকেজে চাকরি পান। কিন্তু শান্তি দেবীরা আর সেখানে থাকার ভরসা করতে পারছেন না। শনিবার ভোরে ট্যাক্সি ভাড়া করে নিঃসাড়ে বাড়ি ছাড়েন তাঁরা। তাঁদের মতো কয়েক ডজন পন্ডিত পরিবার ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছেন। তবে কলোনি ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। গত কয়েকদিনের হত্যাকাণ্ডের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক পন্ডিত জানাচ্ছেন, কলোনির ভিতরে তাও নিরাপত্তা আছে। বাইরে বেরব কীসের ভরসায়?  অফিস-কাছারি আছে।  কতদিন এভাবে ঘরে বসে থাকব!

সরকার চাকরি দিয়েছিল, শেখপোরায় ফ্ল্যাটও। তাই ন’য়ের  দশকে উপত্যকা ছাড়া কাশ্মীরী পন্ডিত পরিবারগুলি ফিরে এসে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু ফের অনিশ্চয়তার মুখে তাঁরা।

শোপিয়ান ছেড়ে আসা এক কাশ্মীরী পন্ডিত জানিয়েছেন, ন’য়ের দশকের সেই অন্ধকার সময়েও উপত্যকা ছাড়িনি। কিন্তু যেভাবে সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করে খুনখারাবি শুরু হল, তাতে আর ভরসা  রাখতে পারলাম না।

You might also like