Latest News

সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল না হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘অতি প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রকল্প’। দিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রজেক্ট সম্পর্কে সোমবার এমনই মন্তব্য করল দিল্লি হাইকোর্ট। করোনা পরিস্থিতিতে ওই প্রকল্প বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন অন্য মালহোত্রা নামে এক অনুবাদক এবং সোহেইল হাশমি নামে এক ইতিহাসবিদ ও তথ্যচিত্র নির্মাতা। গত ১৭ মে হাইকোর্ট জানায়, ওই আবেদনের ওপরে রায় দেওয়া হবে আগামী ৩১ মে।

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি এন প্যাটেল এবং বিচারপতি জ্যোতি সিং এদিন ওই আবেদন নাকচ করে দেন। আবেদনকারীদের জরিমানা করা হয় ১ লক্ষ টাকা। বিচারপতিদের বক্তব্য, যে শ্রমিকরা সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রকল্পে কাজ করছেন, তাঁরা নির্মাণস্থলেই রয়েছেন। ফলে সেখানে করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই।

ওই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শাপুরজি পালোনজি গ্রুপকে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। তাতে বলা হয়েছিল, নতুন ত্রিকোণাকৃতি সংসদ ভবন বানানো হবে। সেখানে স্থান হবে ৯০০ থেকে ১২০০ সাংসদের। ২০২২ সালের অগাস্টে দেশ যখন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে তখনই সম্পূর্ণ হবে নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের কাজ।

গত ৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে বলে, আগামী ১০ ডিসেম্বর সেন্ট্রাল ভিস্টা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যাবে। কিন্তু আদালত রায় দেওয়ার আগে কোনও নির্মাণ করা যাবে না। পুরানো কাঠামো ভাঙাও যাবে না। নির্ধারিত দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন সংসদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

শিলান্যাসের পরে মোদী বলেন, “আজ একটা ঐতিহাসিক দিন। আজকের দিনটা আমাদের ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন। বর্তমান সংসদ ভবন যদি ১৯৪৭ সালের পর থেকে স্বাধীন ভারতকে এক দিশা দেখিয়েছে তাহলে নতুন সংসদ ভবন এক নতুন ও আত্মনির্ভর ভারতের দলিল হয়ে থেকে যাবে।”

বর্তমান সংসদ ভবনেরও স্মৃতিচারণ করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, “এই গণতন্ত্রের মন্দিরের অংশ আমি যেদিন হয়েছিলাম সেই দিনটা আমার কাছে খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ। আমার প্রথম দিন এখানে আসার কথা মনে আছে। এই ভবনে অনেকবার মেরামতি হয়েছে। কিন্তু এবার এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এবার এই ভবনের বিশ্রাম দরকার।”

বর্তমান সংসদ ভবনটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল। তাঁর আকৃতি গোলাকার। ভারতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভবনগুলির মধ্যে পার্লামেন্ট ভবন অন্যতম। এই ভবনটিও মেরামত করা হবে। তারপর তা ব্যবহৃত হবে অন্য কাজে।

১৯২১ সালে বর্তমান পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তা সম্পূর্ণ হতে লাগে ছ’বছর। ১৯৫৬ সালে তাতে দু’টি তলা নির্মাণ করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে সরকার জানায়, বর্তমান সংসদ ভবনটি অতি ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে পড়েছে।

You might also like