Latest News

মোদীর মন্ত্রীর ফোন দিদির মন্ত্রীকে, ‘একশ দিনের টাকা এবার পেয়ে যাবেন, প্রসেস শুরু হয়েছে’

রফিকুল জামাদার

পঞ্চায়েত ভোটের আগেই কি চলে আসবে একশ দিন কাজের বকেয়া টাকা? মঙ্গলবার রাতে সেই সম্ভাবনার আশা জাগিয়ে নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার সদস্যের (Central Minister) ফোন এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের মন্ত্রীর কাছে। সূত্রের খবর, সেই ফোনালাপে বাংলাকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, একশ দিনের কাজ প্রকল্পের বকেয়া টাকা দেওয়ার ব্যাপারে ‘প্রসেস’ শুরু হয়েছে। শিগগির তা এসে যাবে।

একশ দিনের কাজ প্রকল্প শুরু হয়েছিল সংসদে আইন পাশ করিয়ে। মানুষের কাজের অধিকারকে নিশ্চিত করতে এই আইন প্রনয়ণ করেছিল মনমোহন সিং সরকার। তাতে বলা হয়েছিল, কাজ চাইলে মানুষের কাজ পাওয়া ও তার মজুরি পাওয়া মৌলিক অধিকার। কিন্তু অনেকের মতে, কেন্দ্র যে ভাবে অনিয়মের অভিযোগ দেখিয়ে একশ দিনের প্রকল্প খাতে বকেয়া টাকা আটকে রেখেছে তাতে সাধারণের তথা প্রান্তিক মানুষের অধিকার খর্ব হচ্ছে। এটা বেশিদিন চলতে পারে না।

Image - মোদীর মন্ত্রীর ফোন দিদির মন্ত্রীকে, ‘একশ দিনের টাকা এবার পেয়ে যাবেন, প্রসেস শুরু হয়েছে’

সম্ভবত সেটা হয়তো আঁচ করতে পারছে কেন্দ্রও। ১০০ দিনের প্রকল্পে কেন্দ্রের কাছে ৬০০০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে বাংলার দাবি। এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তারপর তাগাদা দিতে গত পরশু প্রদীপবাবু গিরিরাজ সিংকে দু’বার ফোন করেন। সূত্রের খবর, সেই সময়ে গিরিরাজ ফোন ধরেননি। তবে একদিন পর অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে গিরিরাজ রিং-ব্যাক করেন প্রদীপবাবুকে। ফোনে প্রদীপবাবু গিররাজ সিংকে বলেন যে একশ দিনের বকেয়া টাকাটা এখনও আসেনি। আপনি যদি আর একবার বিষয়টা নিয়ে কথা বলেন তাহলে হয়তো টাকাটা চলে আসবে। এরপর গিরিরাজ প্রদীপবাবুকে আশ্বস্ত করেন বলেন, “ফাইল মুভ করছে, প্রসেসও শুরু হয়েছে। শিগগির বকেয়া টাকা পেয়ে যাবেন”।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বাংলা বিজেপি এতে খুব একটা হয়তো খুশি হবে না। কারণ, সাম্প্রতিক কালে শুভেন্দু অধিকারীদের বক্তব্য থেকে এটা প্রায় পরিষ্কার যে তাঁরা চান না দিল্লি বাংলাকে বিভিন্ন প্রকল্প খাতে টাকা দিক। হতে পারে তাঁরা আশা করছেন যে একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির ধরপাকড় আর অন্যদিকে আর্থিক অবরোধের ফলে বাংলার সরকার বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাতে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে তাঁদের সামনে।

কিন্তু অনেক সময়েই চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া যায় না। সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি তৈরির প্রকল্পে কেন্দ্র তাঁর অংশ বরাদ্দ করেছে। মোট সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে কেন্দ্রের দেওয়ার কথা ৮২০০ কোটি টাকা। বাকিটা দেবে রাজ্য। কেন্দ্রের তাঁর অংশ দেওয়ার কথা জানিয়ে অবশ্য বলেছে, প্রকল্পে যাতে অনিয়ম না হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারও অনিয়ম রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করেছে। এমনকি বাড়ি বন্টনে দুর্নীতি, অনিয়ম রুখতে পুলিশকে সুপারভাইজ করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। এক মাসের মধ্যে ১১ লক্ষ উপভোক্তাকে চিহ্নিত করে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোর বন্দোবস্ত করছে সরকার। এর মধ্যে একশ দিনের কাজের বকেয়া পাওনা টাকা এসে গেলে রাজ্যের পক্ষে তা ইতিবাচক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূল এমপিদের সঙ্গে দিল্লিতে আজ বৈঠকে মমতা, সংসদ অধিবেশন নিয়ে আর্জি মোদীর

You might also like