Latest News

CBI TMC: হাঁসখালি তদন্তে সিবিআই, ‘ওরা সর্বরোগহর নয়, নিরপেক্ষও নয়’: তৃণমূল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাঁসখালিতে (Hanskhali) নাবালিকা ধর্ষণের (Rape) মামলায় মঙ্গলবারই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায় নিয়ে সরসারি কোনও প্রশ্ন না তুললেও সিবিআইয়ের যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সওয়াল করল তৃণমূল কংগ্রেস (CBI TMC)।

আরও পড়ুন: তপন কান্দু খুনে প্রথম গ্রেফতার সিবিআইয়ের, কে তিনি

বুধবার দলীয় তরফে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা রাজ্যসভায় উপ দলনেতা সুখেন্দু শেখর রায়। সুখেন্দুবাবু পেশায় আইনজ্ঞ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত আইনজ্ঞের মতোই সওয়াল করে তিনি বলেন, কোনও মামলায় বিচারপতি যখন রায় দেন, তখন তার কার্যকারণ লিখে দেন। আদালতের রায় নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। তবে আমাদের মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে। তা হল, সিবিআই কি সর্বরোগহর (CBI TMC)? এই কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির উপর কি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরও আস্থা আছে? নইলে কেন তিনি সম্প্রতি সিবিআইকে নিরপেক্ষ থাকার পাঠ পড়ালেন।

সুখেন্দুবাবু আরও বলেন, সিবিআই যে রাজনৈতিক প্রভুদের শাসিত একটি ব্যর্থ তদন্ত প্রতিষ্ঠান তা বারেবারে প্রমাণিত হয়েছে। জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার দায়িত্ব সিবিআই নিয়েছিল। দুর্নীতি না নাশকতা হয়েছিল, তা এখনও প্রমাণ করতে পারেনি। নেতাই গণহত্যা কাণ্ড ২০১১ সালে ঘটেছিল। ১১ বছর হয়ে গিয়েছে। ১১৬ জন সাক্ষী ছিল। কেবল ২৬ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। বাকি ৯০ জনের জবানবন্দিও এখন নিতে পারেনি। তা হলে এ বার ঐকিক নিয়মে হিসাব করুন, ২৬ জনের জবানবন্দি নিতে ১১ বছর লাগলে ৯০ জনের জবানবন্দি নিতে কত বছর লাগবে? তা ছাড়া বিনীত নারায়ণ মামলায় ১৯৯৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সিবিআইকে স্বশাসিত সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর উপর কোনও প্রশাসনিক এক্তিয়ার থাকবে না। একমাত্র নজরদারির অধিকার থাকবে সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনের।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গত এক মাসে ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন ঘটনায় আদালত যে ভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে, তাতে রাজ্য পুলিশের উপর অনাস্থা বারবার প্রকট হয়ে যাচ্ছে। যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ও তৃণমূলের পক্ষে ভাল নয়।

বস্তুত সেই ধারণা তৈরির বিরুদ্ধে এদিন তৃণমূল আঘাত হানতে চেয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, বাংলায় সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। পুলিশকে ব্যর্থ প্রমাণ করে তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। নির্বাচনে জিততে না পেরে ষড়যন্ত্র করে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। এই নকশা অশুভ। অথচ ভাল করে দেখলে দেখা যাবে, কিছুদিন আগে মালদহে এক ধর্ষণের ঘটনায় এক মাসের মধ্যেই তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ৬ মাসের মধ্যে আদালতে তাদের শাস্তি ঘোষণাও হয়ে গিয়েছিল।

হাঁসখালির ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যাও এদিন দিতে চেয়েছেন সুখেন্দুবাবু। দুদিন আগে ওই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছিলেন, তা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। সুখেন্দুবাবু এদিন বলেন, ২০১৭ জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ৩৪ হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ ঘটনার জন্য দায়ী ছিল পরিবারের ভিতরের লোকজন। মুখ্যমন্ত্রী সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন, এ হল সামাজিক অবক্ষয়। পরিবারের মধ্যেই মেয়েরা যদি সুরক্ষিত না হয়, তা হলে কী হবে। শুধু আইন করে এর সমাধান করা যাবে না। সমাজকে শুধরোতে হবে।

You might also like