Latest News

CBI-ED: নিজামে হুলুস্থূলের এক বছর, কেন্দ্রীয় এজেন্সির নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাথমিক ভাবে আইনি জয় হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত ইডিকে জানিয়েছে, অভিষেক ও রুজিরাকে জেরা করতে হলে কলকাতাতেই করতে হবে। তবে সুপ্রিম কোর্ট ইডি অফিসারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি কলকাতায় জেরা করলে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকে। কোনও গণ্ডগোল বা হেনস্তার ঘটনা ঘটলে এদিনের নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে শীর্ষ আদালত (CBI-ED)।

অনেকের মতে, এমন দিনে এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট যা সামগ্রিক ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্যও বার্তা (CBI-ED)।

কেন?

গত বছর ১৭ মে-র কথা মনে পড়ে? ভোটের ফল বেরিয়েছিল ২ মে। ঠিক ১৫ দিনের মাথায় নারদ কাণ্ডে চারজনকে গ্রেফতার করে সিবিআই। রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় (প্রয়াত), তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র এবং প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে কার্যত তুলে নিয়ে নিজাম প্যালেসে চলে যান সিবিআই অফিসাররা।

ঘুষের অভিযোগ, কার্তি চিদম্বরমের বাড়িতে ও অফিসে সিবিআই হানা

তারপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আইন মন্ত্রী মলয় ঘটকরা পৌঁছে গিয়েছিলেন নিজামে। আর এজেসি বোস ফ্লাইওভারের নীচে তখন হাজার হাজার তৃণমূলকর্মী। পক্ষকাল আগে দুর্ধর্ষ জয় পাওয়া সেই তৃণমূলের জমায়েত ছিল আগ্রাসী। তাঁরা কার্যত ঘিরে ফেলেছিলেন নিজাম প্যালেসকে। এমন অবস্থা হয় যে, নিজাম থেকে বের করে ধৃত চার জনকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে নিয়ে যেতে পারেনি সিবিআই। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেদিন শুনানিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ববি, মদনদের হাজির করায় এজেন্সি। তারপর আদালতের রায়ে রাতে তাঁদের প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যায় এজেন্সি।

তবে অনেকের মতে, সেদিন দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইট করে তৃণমূলকর্মীদের আর্জি জানিয়েছিলেন, নিজামের সামনে থেকে জমায়েত হালকা করে দেওয়ার জন্য। তিনি বলেছিলেন, এই লড়াই আদালতে এবং রাজনীতির মাঠে লড়তে হবে। এভাবে ঘেরাও করে তা হয় না। তা ছাড়া তখন কোভিডের বাড়বাড়ন্ত ছিল। জনস্বাস্থ্যের প্রসঙ্গে সেই কথাও উল্লেখ করেছিলেন অভিষেক।

প্রসঙ্গত, কয়লা মামলাতেও কয়েক মাস আগে দিল্লিতে ইডি দফতরে গিয়ে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু তাঁর ছোট ছেলের জন্য রুজিরা যেতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছিল এজেন্সিকে। অভিষেক বলেছিলেন, রাজনৈতিক কারণে হেনস্থা করতেই বারবার দিল্লিতে টানাহেঁচড়া করা হচ্ছে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে। কলকাতায় তো এত অফিস আছে। সেখানে দশ বার ডাকলে তাঁরা দশ বার যেতে রাজি।

অভিষেকের এই আর্জি দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করে দিলেও সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই মামলায় এদিন সুপ্রিম কোর্ট দুটি কথা বলেছে। এক, অভিষেক, রুজিরাকে কলকাতায় জেরা করতে হবে। এবং দুই, এজেন্সিকে নিরাপত্তা দিতে হবে পুলিশকে। শীর্ষ আদালত বলেছে, অভিষেক বা রুজিরাকে জেরা করতে হলে ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে ইডিকে। সেইসঙ্গে ২৪ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও। তবে অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতিরা এও বলেছেন, জেরার জন্য ইডি ডাকলে সেখানে যদি কোনও অশান্তি হয়, তা হলে এই নির্দেশ আমরা প্রত্যাহার করে নেব। অর্থাৎ ইডিকে যে কলকাতায় গিয়ে জেরা করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

You might also like