Latest News

অনুব্রতর হাতে দেড় কোটি দিয়েছিলাম, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে: বিস্ফোরক ব্যবসায়ী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচার মামলায় (Cow Smuggling) সিবিআই হেফাজতে থাকা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে সিউড়ির ব্যবসায়ী অরূপ ভট্টাচার্য যে অভিযোগ করলেন সংবাদমাধ্যমে তা বিস্ফোরক বললেও কম বলা হবে। সিউড়ির এই ব্যবসায়ীর দাবি, একটি টেন্ডার পাওয়ার জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal) পাঁচ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছিল। এবং পুরোটাই নগদে।

অরূপ সংবাদমাধ্যমে বলেন, “২০১৭ সালে তিলপাড়া ড্যাম সংস্কারের কথা বলেছিলেন তৎকালীন জেলাশাসক। তারপর আমি টেন্ডার পাওয়ার জন্য দরখাস্ত করি। ডিএম সাহেব অনেক চেষ্টা করেও কলকাতা থেকে সেই টেন্ডার পাশ করিয়ে আনতে পারেননি। তারপর আমি যাই অনুব্রত মণ্ডলের কাছে।”

এরপরেই অরূপ বলেন, “উনি (পড়ুন কেষ্ট মণ্ডল) সব করে দিয়েছিলেন। তারপর আমার থেকে ১০ কোটি টাকা চান। আমি বলি অত দিতে পারব না। তখন অনুব্রত বলেছিলেন, তোদের শিল্পপতি করে দিলাম। ২০০ কোটি টাকার কাজ আছে ওখানে।”

সিউড়ির এই ঠিকাদার দাবি করেন, “একবার অনুব্রতর হাতে দেড় কোটি টাকা দিয়ে এসেছিলাম। বাকি টাকা দিয়েছি সায়গলের হাতে।” প্রসঙ্গত অনুব্রতর একদা দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকেও গরু পাচার মামলায় মাস দুয়েক আগে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।

শুধু কি তাই? শুক্রবার বোলপুরে অনুব্রতর ভোলে বোম রাইস মিলে হানা দিয়েছিল সিবিআই। দেখা যায় সেই রাইস মিলের গ্যারাজে সারি সারি দামি এসইউভি দাঁড় করানো। সেই গাড়িগুলির মধ্যে একটি ছিল, ফোর্ড এনডেভার। অরূপ ভট্টাচার্য বলেন, ওই গাড়িটিও তাঁর কিনে দেওয়া। তাঁর ব্যবসার শরিক প্রবীর মণ্ডলের নামে কেনা গাড়িটি। ভিআইপি নম্বর-সহ ওই এনডেভার গাড়িটি কিনতে খরচ হয়েছিল ৪৬ লক্ষ টাকা!

প্রবীর মণ্ডলও সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, একটা সময়ে তিনি গাড়ি ফেরত চেয়েছিলেন। সেই সময়ে হুমকি দিয়ে অনুব্রত বলেছিলেন, “গাড়ি নিবি নাকি গাঁজার কেস নিবি ঠিক কর। তারপর আর ভয়ে কিছু বলিনি।”

অরূপ ভট্টাচার্য এও বলেন, সারা বাংলার পরিবহণ ক্ষেত্রকে ধ্বংস করেছেন অনুব্রত। পাথরের গাড়ি এবং বালির থেকে যে ভাবে তোলা আদায় চলেছে আজকে গাড়ির মালিকরা কাঁদছেন। তাঁর কথায়, “আমরা শেষ হয়ে গিয়েছি। আমাদের আর ব্যবসা করার ক্ষমতা নেই!”

পর্যবেক্ষকদের মতে আইনের চোখে ঘুষ নেওয়া যেমন অপরাধ তেমন ঘুষ দেওয়াও সমান দোষের। এদিন অরূপ এবং প্রবীর সংবাদমাধ্যমে যা বলেছেন তারপর তাঁদের নিয়ে টানাটানি হয় কিনা এখন সেটাই দেখার। তবে অরূপ-প্রবীরদের স্পষ্ট দাবি, কোটি কোটি টাকা অনুব্রতকে দিয়ে আজ তাঁরা নিঃস্ব! প্রবীরের কথায়, “কেউ ভিখারি থেকে কোটিপতি হল, কেউ কোটিপতি থেকে ভিখারি!”

আরও পড়ুন: বাংলায় কমছে গরুর দাম, আগে কত ছিল এখন কত যাচ্ছে

You might also like