Latest News

তিন দিনের বাস ধর্মঘট স্থগিত, দাবি পূরণের আশ্বাস রাজ্যের, ১৪ ফেব্রুয়ারি অবধি সময় দিল সংগঠনগুলি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষমেশ হল না বাস ধর্মঘট। আজ, কাল, পরশু অর্থাত ২৮, ২৯, ৩০ তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল মোট তিনটি সংগঠন। জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে তাদের কাছে ৭ দিন সময় চেয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। জানিয়েছে, সরকারের কাছে তাদের যে সব দাবি রয়েছে তা পূরণ করা হবে। আশ্বাস পেয়ে আপাতত ধর্মঘট তুলে নিয়েছে বাস সংগঠনগুলি।

উল্লেখ্য, এই ৫টি বাস সংগঠনের সঙ্গে আগেও দু-দফায় বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সেখানে কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি। এবার সাত দিনে কিছু বদলায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। জানা গেছে, রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছেও যা যা দাবি করা হয়েছিল সংগঠনগুলির তরফে, সেসব রাজ্য সরকার আবারও কেন্দ্রকে পাঠাবে।

বাস সংগঠনগুলি জানিয়েছে, তারা শেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবটা দেখবে। যদি তাদের দাবিগুলি পূরণ না করে রাজ্য এবং কেন্দ্র, তাহলে ১৫ তারিখ থেকে লাগাতার বৃহত্তম ধর্মঘটে যাবে তারা।

তারা জানিয়েছে, ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং ডিজেলের উপর জিএসটি বসানো ও কর কমিয়ে দেওয়ার দাবিতে একাধিক বার সরকারকে জানানো হয়েছে। কোনও সদর্থক জবাব না মেলায় তারা বাধ্য হয়েছিল ২৮, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি রাজ্যব্যাপী বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে। আপাতত সে সিদ্ধান্ত মুলতুবি রাখা হচ্ছে, তবে এর পরেও যদি তাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আর কোনও রকম আপস করবে না তারা।

কয়েক মাস আগেই করোনার কারণে বাস তেমন চলছিল না। তার উপর বাসের ভাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে এখন সমস্ত কিছু স্বাভাবিক হলেও বেশ কিছু বাসের ভাড়া বর্ধিতই আছে, যা নিয়ে প্রায়ই অশান্তি চলে বাস চালক ও যাত্রীদের মধ্যে। সংগঠনগুলির পক্ষে জানানো হয়েছে, কোভিড পরিস্থিতিতে বাস ও মিনিবাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আগের মতো যাত্রী হচ্ছে না। তাই ভাড়া বৃদ্ধির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাস ও মিনিবাস সংগঠনগুলির কর্তারা।

বস্তুত, বাস ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে অনেক দিন ধরেই গলা তুলেছেন বেসরকারি বাস মিনিবাসের মালিকরা৷ এর উপর ডিজেলের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে বাস চালিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেই দাবি তাঁদের৷ লকডাউনের পর রাজ্য সরকারের তরফে বেসরকারি বাস মিনিবাসের বর্তমান ভাড়া খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল রাজ্য সরকার৷ কিন্তু সেই কমিটির রিপোর্টও এখনও জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।

মিনিবাস অপারেটর্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি, জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস, ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস অ্যান্ড মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেট এবং ইন্টার অ্যান্ড ইনট্রা রিজিয়ন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন– এই পাঁচটি সংগঠন শেষমেশ আন্দোলনের পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

You might also like