Latest News

Bowbazar : এলাকা এখন ‘তাসের ঘর’‌, মেট্রো চালু হলে কী হবে?‌ আশঙ্কায় বাসিন্দারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো :‌ বউবাজারে (Bowbazar) এই পর্যন্ত ২৫টি বাড়ি খতিয়ে দেখেছেন যাদবপুরের বিশেষজ্ঞরা। বেশিরভাগ বাড়ির পরিস্থিতিই খারাপ। বিশেষজ্ঞদের তরফে তাঁদের জানানো হচ্ছে, (Bowbazar) কয়েকটি বাড়ি ভেঙে ফেলতে হবে। কিছু সংস্কার করতে হবে। যেহেতু বাড়ির তলা থেকে টানেল গেছে, তাই নতুন করে বাড়ি তৈরি করার পর ফের বিপর্যয় হতে পারে কী না, তার কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না তাঁরা।

(Bowbazar) দুর্গাপিতুরি লেনের ৬ নম্বর বাড়ির মালিক চিকিৎসক প্রদীপ লাহা। বাড়িতেই তাঁর চেম্বার। গতবারই তাঁর বাড়ি ছেড়ে তাঁকে উঠে যেতে হয়েছে। এদিন যাদবপুরের বিশেষজ্ঞদলের তরফে তাঁকে জানানো হয়েছে। ওই বাড়িতে আর ঢুকবেন না। বাড়ি ভেঙে ফেলতে হবে।

২/‌১ ঠিকানার বাড়িতেও ফাটল। বাড়ি ভেঙে ফেলার নিদান দিয়েছে যাদবপুর। বাড়ির মালিক প্রৌঢ় ফটিকচন্দ্র বড়াল বললেন, ‘‌কবে যে কী হবে, কে জানে। আমাদের বাড়িটাও ভাঙা পড়বে। কিন্তু কে ভাঙবে, কবে নতুন বাড়ি পাব। কতদিন আর গেস্ট হাউসে থাকব।’‌

যাদবপুরের বিশেষজ্ঞ দলের তরফে সম্রাট সেনগুপ্ত জানালেন, বেশিরভাগ বাড়ির পরিস্থিতিই খারাপ। একটা ভাঙতে গেলে অন্যটাও ভেঙে পড়তে পারে।‘ মেট্রো চালু হওয়ার পরও ঝুঁকি কি আরও বাড়বে?‌ এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‌সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।’‌

এলাকারই অন্নপূর্ণা গেস্ট হাউসে থাকছেন ফটিকবাবু–সহ আরও কয়েকটি পরিবার। গেস্ট হাউসের এক কর্মী জানালেন, ‌তাঁরা পড়েছেন সমস্যায়। মেট্রো থেকে যা ভাড়া দিচ্ছে তাতে লোকসান হচ্ছে।

ওই গলিরই ৯, ৯৫ আর ৯৮ নম্বর বাড়িগুলি এখনও অক্ষত রয়েছে। তবে সেখানকার বাসিন্দারাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। স্থানীয় বাসিন্দা অমিত সেন বললেন, ‘‌যে যাই বলুক মেট্রোর গাফিলতিতেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে।’ একই অভিযোগ অপর স্থানীয় বাসিন্দা পরিতোষ করেরও। তিনি বললেন, ‘আমাদের দুর্গাপুজোর পর নতুন বাড়ি করে দেওয়া হবে বলে শুনছি। কিন্তু কারও কথা বিশ্বাস হচ্ছে না। এই এলাকা এখন তাসের ঘর।’‌

স্থানীয় বাসিন্দা সুবীর কুমার দত্ত বললেন, ‘‌আমাদের বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেছিল মেট্রো। কিন্তু তার মধ্যেই এই ঘটনা। কবে ঘর পাব জানিনা। আমরা ভাড়া থাকতাম। এখানে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা ভাড়া। কেউ ৬০–৮০ টাকা ভাড়া দিয়েও বসবাস করছে। নতুন বাড়িতে তো ওই ভাড়ায় থাকতে পারব না। তখন ভাড়া অনেক বেড়ে যাবে। দুশ্চিন্তায় আছি।’‌

প্রতিদিনই মেট্রোর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে মানুষ হাজির হচ্ছেন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে–র কাছে। আসছেন বিধায়ক নয়না দাসও। অনেকেই যাদবপুরের বিশেষজ্ঞদের কথায় বিশ্বাস করছেন না বলে জানাচ্ছেন। বিষয়টিতে বিশ্বরূপ বললেন, ‘‌মেট্রোর তরফে আইআইটি রুরকি–র বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুরসভা যাদবপুরের কাছেই রিপোর্ট চেয়েছে। মেট্রো নিজের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। তবে এখন দোষারোপের সময় নয়।’‌

এলাকার একজন বললেন, ‘‌বউবাজারের এই টানেল তৈরির কাজ প্রথমে সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউয়ের কাছে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানকার মানুষ তীব্র প্রতিবাদ করে। সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ অবরোধ করা হয়। কিন্তু আমরা একজোট নই, তাই এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’‌

আরও পড়ুন : GT Road Block: তৃণমূলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জেরে স্তব্ধ জিটি রোড, চলল জন্মদিনের কেক কাটাও

You might also like