Latest News

বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষতি নৈহাটিতে, ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৈহাটিতে শুক্রবার বিস্ফোরণের পরে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে গিয়েও বিপত্তি! বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার সাড়ে বারোটা নাগাদ যে বিস্ফোরণ ঘটে তার অভিঘাতে কেঁপে ওঠে নৈহাটির ছাইঘাটের কাছে অন্তত পাঁচশো মিটার এলাকা। ভেঙে পড়ে বাড়ির ছাদ, ভেঙে যায় জানলার কাচ। ফাটল ধরেছে বহু বাড়িতে।

মধ্যমগ্রামে থাকাকালীন এই বিস্ফোরণের খবর পান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমার কাছে খবর এসেছে নৈহাটিতে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে কয়েকটা বাড়িতে ফাটল ধরেছে, বিধায়ক পার্থ ভট্টাচার্য ও জেলাশাসককে বলে যাচ্ছি, যদি কারও কোনও ক্ষতি হয়ে থাকে তা খতিয়ে দেখে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আগুন ধরে যায় পুলিশের দু’টি গাড়িতে, ভেঙে যায় পুলিশের চারটি গাড়ির কাচ। গাড়িগুলি বিস্ফোরণস্থলের ১২০ মিটারের মধ্যে ছিল।

বিস্ফোরণের শব্দে ও তার অভিঘাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষজন। গত শুক্রবারের স্মৃতি তাঁদের মনে ফিরে আসে। তাঁরা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। উদভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করতে থাকেন এলাকার লোকজন।

আরও পড়ুন: নৈহাটি বিস্ফোরণ: বাড়ল মৃতের সংখ্যা, এনআইএ তদন্তের দাবি বিজেপির

আরও পড়ুন: নৈহাটি বিস্ফোরণ: শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল মানছে পুলিশও, গ্রেফতার বাজি কারখানার মালিক

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে গঙ্গার অপর পারও কেঁপে ওঠে। চুঁচুড়াতেও ভেঙে পড়ে বাড়ির ছাদ, যায় জানলার কাচ। ক্ষতি হয়েছে চুঁচুড়া পুরসভা ভবনেরও।

আরও পড়ুন: নৈহাটিতে বিস্ফোরণ, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল চুঁচুড়ায়

ঘটনার পরে এলাকার লোকজন দোষ দিতে থাকেন পুলিশকে। ইতিমধ্যে খবর রটে যায় যে হুগলি-চুঁচুড়ায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নৈহাটির লোকজনও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে থাকেন। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ জনরোষ গিয়ে পড়ে পুলিশের উপরে। পুলিশ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তখন ঘোষপাড়া রোড অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দা। অবরোধ বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলতে থাকে।

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় বিধায়ক পার্থ ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন যে কারও কোনও ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার। সরকারের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ উঠে যায়, এলাকাও শান্ত হয়।

গত শুক্রবার সকালে বাজি কারখানার ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল নৈহাটির দেবক এলাকা। বিস্ফোরণে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও সাত জন। বাজি কারখানার বিস্ফোরণের তীব্রতা যে মামুলি নয় তা বোঝা গিয়েছিল স্থানীয়দের কথাতেই। শুধু নৈহাটি নয়, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল গঙ্গার ওপারের হুগলিও। চুঁচুড়ার আখনবাজার, প্রেমনগর এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন তাঁরাও কম্পন টের পেয়েছেন। ছ’দিন পরে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ফিরে এল সেই দিনের স্মৃতি।

You might also like