Latest News

কুসংস্কার, না সত্যি! কেন অশুভ শক্তির প্রতীক ভাবা হয় কালো বেড়ালকে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে গ্রিক ঐতিহাসিক হিরোডোটাসের লেখা থেকে প্রাচীন মিশরের অধিবাসীদের বেড়ালপ্রীতি সম্বন্ধে অনেক কিছু জানা যায়। প্রাচীন মিশরে বেড়ালকে বলা হত ‘মাউ’। ইজিপ্সিয়ানরা বিশ্বাস করত কালো বেড়ালের মধ্যে কিছু আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে। তারা কালো বেড়ালকে পুজোও করত। বেড়ালের মুখধারী সেই মিশরীয় দেবীর নাম ছিল বাস্ট বা বাসটেট। তিনি ছিলেন প্রাচীন মিশরের উর্বরতা ও মাতৃত্বের দেবী। কালো বেড়ালকে আঘাত করলে বা তাকে মেরে ফেললে মানুষের জীবনে অশুভ আঘাত নেমে আসে বলে বিশ্বাস করত ইজিপ্সিয়ানরা। কিন্তু ইউরোপে এসে একেবারে আমূল বদলে গেল সেই ইতিহাস। বেড়াল, বিশেষত কালো বেড়াল হয়ে গেল অশুভ শক্তির প্রতীক (Black Cat Myth)।

Image - কুসংস্কার, না সত্যি! কেন অশুভ শক্তির প্রতীক ভাবা হয় কালো বেড়ালকে?
দেবী বাসটেট

ডাকিনী চর্চার বাড়বাড়ন্ত ঘটেছিল মধ্যযুগের ইউরোপে। যাঁরা এইজাতীয় ডাকিনীবিদ্যা চর্চা করতেন, তাঁদের অনেকেই কালো বেড়াল পুষতেন। সেই থেকে সাধারণ মানুষের মনে প্রেতাত্মা, অশুভ আত্মা বা ডাইনির প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় কালো বেড়াল। গল্প, উপন্যাস, নাটকের পাতাতেও বারবার ফিরে এসেছে কালো বেড়ালের অশুভ শক্তির কথা (Black Cat Myth)।

অষ্টাদশ শতক নাগাদ গোটা ইউরোপ জুড়ে মহামারীর আকার নেয় প্লেগ। অদ্ভুতভাবে অসুখ ছড়ানোর সব দায় এসে চাপে বেড়ালের ঘাড়ে। শুরু হয় বেড়াল নিধন-যজ্ঞ। অবশ্য শুধু কালো বেড়াল নয়, মার্জারমাত্রই মানুষের নির্মম কুসংস্কারের বলি হয়েছিল সেবার। অত্যাচার এতোটাই চরমে ওঠে যে ইউরোপ তখন প্রায় বেড়াল-শূন্য হবার উপক্রম।

কেউ কেউ কালো বেড়ালকে অতিলৌকিক জগতের প্রতিনিধি বলে মনে করেন। ১৯ শতকের জলদস্যুরা বিশ্বাস করত কোনও মানুষের পোষা কালো বেড়াল হারিয়ে গেলে তা ওই মানুষটির বা গোটা দলের দুর্ভাগ্য দূর হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। জুয়াড়িরা জুয়া খেলতে যাওয়ার পথে কালো বেড়ালের দর্শনকে অশুভ বলে মনে করে (Black Cat Myth)। এমনটা ঘটলে সেদিনের খেলায় তারা নির্ঘাৎ হারবে বলেই ধরে নেয়।

কালো বেড়াল নিয়ে আমাদের দেশেও রয়েছে নানান বিশ্বাস। জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি বিশেষ শাখা স্বগুণ শাস্ত্র। স্বগুণ শাস্ত্র এমন একটি শাস্ত্র, যাতে রোজকার জীবনের নানা অশুভ লক্ষণ নিয়েই চর্চা করা হয়। এই শাস্ত্রমতে, কালো বেড়ালকে অশুভ মনে করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কালো বেড়াল আসলে শনির প্রতীক (Black Cat Myth)। সূর্যপুত্র শনি ন্যায়বিচার আর প্রতিশোধের দেবতা। তাঁর দৃষ্টিকে অশুভ মনে করা হয়, শনির নজর কাজে বিঘ্ন ঘটায় বা ব্যর্থতা আনে। কালো বেড়াল শনিদেবের প্রতীক। কাজেই পথে বেরিয়ে কালো বেড়ালের মুখোমুখি হওয়ার অর্থ হল, শুভ কাজ করতে যাওয়া মানুষটির উপর শনির কুদৃষ্টি পড়া। সেক্ষেত্রে সাফল্য না আসার সম্ভাবনা কমে যায় বলে বিশ্বাস করেন এ দেশের মানুষ। তাই পথেঘাটে কালো বেড়ালকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার শনির দোষ কাটাতে কোথাও কোথাও কালো বেড়াল, কালো কুকুর বা দাঁড়কাককে খেতে দেওয়ার রীতিও চালু আছে। একুশ শতকে দাঁড়িয়েও আজও বহু মানুষ বিশ্বাস রাখেন এইসব অন্ধ ধারণায়।

You might also like