Latest News

মোদীর রাজ্যে গেরুয়া গর্জন, নাড্ডার রাজ্য হাতছাড়া, দেবভূমে ফিরল কংগ্রেস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গোটা দেশের নজর ছিল দুই রাজ্যের বিধানসভা ভোটের গণনার দিকে। তাতে শীতসকাল থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হচ্ছিল, গুজরাতে (Gujarat) বিজেপি (BJP) সপ্তমবার সরকার গড়তে চলেছে। আর হিমাচল প্রদেশে (HimachalPradesh) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কংগ্রেস (Congress)।

সূর্য মাঝআকাশে যেতে না যেতেই বোঝা যায়, বিজেপি গুজরাতে যে শুধু জিততে চলেছে তাই নয়, বিরোধীদের কার্যত নাস্তানাবুদ করে গান্ধীনগরের গদিতে বসছে তারা। সেইসঙ্গে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হতে থাকে, হিমাচলপ্রদেশ হাতছাড়া হতে চলেছে গেরুয়া শিবিরের। দেবভূমে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস।

সন্ধেবেলা যখন ফলাফল মোটামুটি একজায়গায় চলে এসেছে তখন তার নির্যাস এই, নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে ঐতিহাসিক জয় পেল বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার রাজ্য হাতছাড়া হল পদ্মশিবিরের। হিমাচলে অস্তাচলে বিজেপি। ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস।

নরেন্দ্র মোদীকে গুজরাতের মানুষও তাঁদের পরিচিতির প্রতিভূ হিসেবে দেখেন। কিন্তু নাড্ডার ক্ষেত্রে তা নেই। বরং বলা ভাল, গুজরাতকে যতটা ‘মোদীর রাজ্য’ হিসেবে বিজেপি সাংগঠনিক ব্র্যান্ডিং করেছিল, হিমাচলকে সেভাবে ‘নাড্ডার রাজ্য’ হিসেবে তুলে ধরেনি গেরুয়া শিবিরও।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, মোদী যেমন গুজরাতের মুখ তেমন নাড্ডা নন। হলে আগেই নাড্ডা হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন। অনেকে বলেন, রাজ্যে যদি রাজা হওয়ার সুযোগ থাকত তাহলে কেউ দিল্লি গিয়ে নায়েবি করতেন না।     

ভোটের ফল নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানান ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, দেবেনও। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তা হল, পাঁচ বছরে বিজেপি-র বিরুদ্ধে গুজরাতের মাটিতে কোনও আন্দোলন না গড়ে তোলার, মাটি কামড়ে পড়ে না থাকার খেসারত দিতে হল কংগ্রেসকে। হিমাচলে ধারাবাহিক লড়াই ফসল দিল সাবেক দলকে। আরও একবার এও প্রমাণ হল, মোদীর মুখ দিয়ে রাজ্যের ভোটে লাভ হচ্ছে না বিজেপির।

গুজরাত মোদীর নিজের রাজ্য। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এবারের প্রচারেও কার্যত প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। হিমাচলে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, ভূপেশ বাঘেল, শচীন পাইলটরা ধারাবাহিকভাবে পড়েছিলেন। সে রাজ্যে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলেও কোনও সুরাহা করতে পারল না।

এবার হিমাচলে যেমন কংগ্রেস এবং বিজেপি-র কড়া টক্কর হয়েছে, পাঁচ বছর আগে গুজরাতের ভোটে এমনই লড়াই হয়েছিল দু’দলের। গুজরাতে কংগ্রেস এবারে ৭৮ থেকে ১৭-তে নেমে এসেছে। প্রথম নির্বাচনে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি। ৯৯ থেকে ১৫৬ হয়েছে বিজেপি।

হিমাচলে ১৯টি আসন কমেছে বিজেপির। একই পরিমাণ আসন বেড়েছে কংগ্রেসের। ৬৮টি আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস ৪০টি আসন পেয়েছে।

 রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, গুজরাতের জয় বিজেপির কাছে ইতিবাচক এই কারণে, সেখানে দীর্ঘদিন তারা সরকার চালাচ্ছে। সময়ের নিয়মে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা থাকা স্বাভাবিক। তারপরেও এই জয় গেরুয়া শিবির ও মোদীর জন্যও স্বস্তির শুধু নয়, চব্বিশের জন্য অক্সিজেনও বটে।

পাঁচ বছর আগে গুজরাত ভোটের যে প্রেক্ষাপট ছিল এবার তা ছিল না। সেবার জাতি আন্দোলন গুজরাতকে তপ্ত করেছিল। বিরোধী পরিসরে তরুণ নেতা হিসেবে হার্দিক প্যাটেল, জিগনেশ মিভানিদের উত্থানও ছিল উল্কার মতো। পাঁচ বছর আগে কংগ্রেসের টিকিটে জেতা হার্দিক এবার বিজেপির বিধায়ক হলেন। মন্ত্রিসভাতে জায়গা পেতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

গুজরাতে বিজেপি পাঁচ বছর যেভাবে আঁটোসাঁটো ছিল, হিমাচলে সেই দৃশ্য দেখা যায়নি। বরং বারবার কোন্দল বেআব্রু হয়েছে। সামাজিক প্রকল্প, পেনশন ইত্যাদি নিয়েও জনমানসে ক্ষোভ ছিল। ভোটে সেসব প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মত অনেকের।

একটা রাজ্যে বিজেপি যেমন আগ্রাসী জয়ে ক্ষমতায় ফিরল, তেমনই অন্যটি হারাল। জিতল কংগ্রেস।   

You might also like