Latest News

মূল্যবৃদ্ধি: বাংলা-সহ বিরোধী শাসিত রাজ্যকে সংসদে টার্গেট করতে চলেছে মোদী সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী সোমবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি (Price Hike) নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হবে। পরদিন মঙ্গলবার হবে রাজ্যসভায়। দুই সভাতেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দেবেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় নির্মলা বেশ কিছুদিন সংসদে হাজির থাকতে পারেনি। বৃহস্পতিবার তিনি সংসদে (Parliament) যোগ দিয়েছেন।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকার আলোচনা এড়াতে চাইছে অভিযোগ করে বিরোধীরা গত ১৮ জুলাই থেকে সংসদে প্রতিবাদ জানিয়ে চলেছে। তার জেরে এ পর্যন্ত সব দিনই অধিবেশন মাঝপথে স্থগিত করে দিতে হয়। গতকাল দু’দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। ফের চালু হবে সোমবার। গোলমালের জেরে দুই কক্ষ মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলগুলির ২৭ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিজেপির (BJP) দাবি, ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ওই সাংসদদের চলতি অধিবেশনে যোগ দিতে দেওয়া হবে না।

ফলে সোমবার লোকসভায় জিনিসপত্রের দাম নিয়ে বিতর্ক তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সূত্রের খবর, সরকার ও শাসক দল জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যের দায় বিরোধীদের উপর চাপিয়ে দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে। সরকারের তরফে যে তথ্য হাজির করা হবে তা হল, জিনিসপত্রের দাম এক এক রাজ্যে এক এক রকম এবং তার কারণ জ্বালানি তেলের উপর রাজ্যগুলির চাপানো কর। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে করের পরিমান কম। এমনকি এক মাস আগে মহারাষ্ট্রে বিজেপি শিবসেনা (শিন্ডে গ্রুপ) সরকার ক্ষমতায় আসার পরই জ্বালানি তেলের উপর করের বোঝা অনেকটাই কমিয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে বিজেপি শাসিত সব রাজ্যই কম-বেশি কর হ্রাস করেছে।

সংসদে অচলাবস্থা চলাকালেই রাষ্ট্রপতি পদে দ্রৌপদী মুর্মুর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রীরা দিল্লিতে ছিলেন। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁদের সঙ্গে নিজের বাসভবনে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী দুটি বিষয়ে দলের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রীদের পরামর্শ দেন। এক, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পাশাপাশি সেগুলি সম্পর্কে মানুষকে বেশি করে জানাতে হবে। দুই, নতুন কর না চাপিয়ে চলতি করহার বজায় রেখে আদায় বাড়াতে। অর্থাৎ কর ফাঁকি যথাসম্ভব কমাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মতো মুখ্যমন্ত্রীরা রাজ্যে ফিরে গিয়ে বৈঠক করেছেন। আজকালের মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন। গতকাল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অর্থ দফতরের অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে ঘোষণা করেছেন, জ্বালানি তেলের উপর অদূর ভবিষ্যতে রাজ্য সরকার করের বোঝা চাপাবে না। অর্থাৎ দাম বাড়লে সরকারের ঘরে কর বাবদ যে বাড়তি অর্থ আসবে সেই অর্থ জনসাধারণকে দামে ছাড় দেওয়া হবে।

বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে বারে বারেই অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে টার্গেট করছে। এমনকি মাস দুই আগে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রসঙ্গে বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলা-সহ কয়েকটি রাজ্যের নাম করে অভিযোগ করেন, এই রাজ্যগুলি পেট্রল-ডিজেলের উপর বাড়তি কর চাপিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, দিল্লি, মুম্বইয়ের তুলনায় কলকাতায় জ্বালানি তেলের দাম বেশি কেন?

প্রধানমন্ত্রীর তোলা অভিযোগের কড়া জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার কীভাব বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে নানা খাতে বাড়তি অর্থ জোগান দিচ্ছে অ-বিজেপি দল পরিচালিত সরকারগুলিতে বঞ্চিত করে। তারপর গঙ্গা-যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। এখন একশো দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা আটকে দিয়েছে কেন্দ্র, অভিযোগ তৃণমূল সরকারের। এখন দেখার সংসদে বিরোধীরা কীভাবে সরকারকে মোকাবিলা করে। সরকারই বা কী জবাব দেয়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে প্রথম হিন্দু মহিলা পুলিশের শীর্ষ পদে, লিঙ্গবৈষম্য ঘোচাতে চান মনীষা

You might also like