Latest News

মন্দার বাজারে বিশ্বকর্মা ‘শর্ট হাইট’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্দার বাজারে যেমন কমেছে কুমোরটুলির ব্যস্ততা, তেমনই কমেছে বিশ্বকর্মা ঠাকুরের উচ্চতা। বলাই চলে মন্দার বাজারে ঠাকুর আজ ‘শর্ট হাইট’ হয়ে গেছে। কুমোরটুলি ঘুরলে এমনই চিত্র চোখে পড়ে।

থরথরে বিশ্বকর্মা ঠাকুর সাজানো কুমোরটুলির রাস্তার দুই ধারে। কিন্তু বেলা বাড়লেও খদ্দেরের ভিড় কোথায়? বড় বড় বিশ্বকর্মা ঠাকুরের দেখা মেলাই ভার কুমোরটুলির গলিতে। ছোট ছোট ঠাকুরের ভিড়ই বেশি। সবের দাম আকাশ ছোঁয়া, বাড়ছে দাম। আর সেই দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে কমেছে ঠাকুরের উচ্চতা!

শুনতে অবাক লাগলেও কুমোরটুলির গলিতে ছোট উচ্চতার ঠাকুরের চাহিদা বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে বড় বিশ্বকর্মা ঠাকুরের চাহিদা। আড়াই ফুটের ঠাকুরের চাহিদাই বেশি। হাজার দেড়র নিচে ঠাকুর নেই, বড় ঠাকুরের দাম ৫ হাজার। উচ্চতা বাড়লে দাম তো বাড়বেই। কিন্তু পকেটের টানে খদ্দেরদের পছন্দ ‘ছোট ঠাকুর’। তাই বেশি মাত্রায় কম উচ্চতার ঠাকুর তৈরি করছেন শিল্পীরা।

রাত পোহালে বিশ্বকর্মা পুজো। পুজোর আগের দিনে কুমোরটুলির ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। দুর্গা প্রতিমা গড়ার মাঝেই বিশ্বকর্মা গড়ার ব্যস্ততা এসে পড়ে। তবে পুজোর আগের দিনে কুমোরটুলির চিত্র যেন একটু অন্য রকম। ‘ব্যবসা কোথাও? জিনিসের যা দাম বেড়েছে, কুলিয়ে উঠছে না’। এমনই কথা উঠে আসছে কুমোরটুলির গলি থেকে।

 

আরও পড়ুন: প্রতিমা শিল্পের পীঠস্থানেই পুজো পায় না বিশ্বকর্মা, কেন?

কুমোরটুলিতে বিশ্বকর্মা ঠাকুরের চিত্রটা কেমন? ‘বিশ্বকর্মা ঠাকুর তৈরি করে সেভাবে লাভ পাচ্ছে না শিল্পীরা। তাই শিল্পীরা গণেশ বা দুর্গা প্রতিমা গড়তেই বেশি আগ্রহী। আগে এখানে ৫-৭ হাজার ঠাকুর তৈরি হত, এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে হাজার দুয়েক।” জানালেন কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সংস্কৃতি সমিতির জয়েন্ট সেক্রেটারি বাবু পাল।

কেন এমন অবস্থা? “সবেরই দাম বাড়ছে। মাটি থেকে খড়। কিন্তু সেভাবে আমরা দাম বাড়াতে পারছি না ঠাকুরের। কম লাভে তাই বিক্রি করতে হচ্ছে। তারওপর আছে কর্মচারীদের মজুরি। সব কিছু মিটিয়ে লাভ হয় না। যা ঠাকুর করা আছে তা বিক্রি করতে হবে তাই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।” বললেন মৃৎশিল্পী অশোক পাল। তবে তিনি আশাবাদী পুজোর দিন সকালেও কিছু ক্রেতা মিলবে।

আশাটা অমূলক নয়, বিকেল গড়াতে খদ্দেরের সংখ্যা বাড়ল দেখা গেল। কিন্তু পরিমাণ যে কমেছে আগের থেকে সে কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন এখানে আসা খদ্দেররা। বিগত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বকর্মা ঠাকুর কিনতে কুমোরটুলিমুখী হন প্রবীর দত্ত। কিন্তু তার কাছেও যে এবারের কুমোরটুলি বেশ ফাঁকাই ঠেকছে।

“এত ফাঁকা থাকে না কুমোরটুলি। বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিতা এখানে গম গম করত। গাড়ি লাগানোর জায়গা থাকে না। তবে এবার একদমই ফাঁকা।” জানালেন প্রবীর। তবে দাম নিয়ে অভিযোগ নেই কারও। সামান্য দাম বাড়লেও তা সামঞ্জস্যর মধ্যে আছে বলে মত খদ্দেরদের। “যেটুকু দাম বাড়ানোর নয় তা বেড়েছে, সেটা না দিলে এঁদের চলবে কী করে।” এমনই মত সঞ্জীব চৌধুরীর।

“দেখতেই পাচ্ছ খদ্দের নেই। চাহিদা কমে গেছে অনেকদিনই। বিক্রি না হলে কারিগরদের পয়সা দেব কোথা থেকে আর আমরাই খাব কোথা থেকে। তাই আর বেশি ঠাকুর গড়িনি। বিক্রি না হলে তখন কী হবে! রাখব কোথায়? গঙ্গায় ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।” আক্ষেপের সুরে বললেন মৃৎশিল্পী অখিল পাল।

এই কুমোরটুলিতেই দীর্ঘদিন পসার সাজিয়ে বসেন সুকুমার সুরাই। তাঁর কথায়, “চাহিদা একদমই নেই। যে কটা ঠাকুর তুলেছি, তা বিক্রি করতেই হবে। সেই আশাতেই আছি।” লাভ না উঠলেও আসলটা তোলার জন্য খদ্দেরের অপেক্ষায় শিল্পীরা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like