Latest News

নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যে ভেসে গেছে সেতু, দুর্ভোগের শেষ নেই ৩০টি গ্রামের বাসিন্দাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: বিনপুরের ওড়গোন্দা থেকে ভেলাইডিহা যেতে তারাফেনী নদী পার হতে হয়। দুই এলাকার মধ্যে সংযোগ রাখতে সাত কিলোমিটার রাস্তা উপর সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছিল অনেকদিন ধরেই। গ্রামবাসীদের দাবি মতো সেতু তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু রাস্তা তৈরির এক সপ্তাহের পরেই নদীর জলে ভেসে যায় সেই রাস্তা ( Binpur Road Problem) । ফলে বিচ্ছিন্নই থেকে গেছে বিনপুরের ওই দুই এলাকা।

বাঁশগড় এলাকায় তৈরি হয়েছিল সেতু ( Bridge )। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ( Road Project ) থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছিল। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সামান্য বৃষ্টি হতেই নদীর জলে ভেসে যায় সেটি। ফলে এখন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ৩০ টি গ্রামের বাসিন্দাদের। মুগবেড়িয়া, বাঁশগড়, মহুলবনি, কেঁদবনি, খামার, আদগাড়ি ও ভেলাইডিহা সহ বাঁকুড়া জেলা লাগোয়া গ্রামগুলির মানুষের অবস্থা, যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থেকে গেছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগাম পরিকল্পনা না নিয়ে তড়িঘড়ি রাস্তা নির্মাণের কাজ হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তাই ঠেকেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা দীনবন্ধু পালের অভিযোগ, সেতু নির্মাণ টাকা নয়ছয় করেছে সরকার পক্ষের নেতা কর্মীরা। তাঁদের জন্যই অসুবিধায় পড়েছেন ১৫-১৬টি গ্রামের মানুষ।

Image - নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যে ভেসে গেছে সেতু, দুর্ভোগের শেষ নেই ৩০টি গ্রামের বাসিন্দাদের

দীনবন্ধুর মতোই একই অভিযোগ রঞ্জিত সাহুরও। প্রতিদিন তিনি ওই রাস্তা থেকে যাতায়াত করেন। জল-কাদার ভরা রাস্তা থেকে যেতে গেলে অসুবিধায় পড়তে হয় তাঁকেও। তিনি জানান, সেতু নির্মাণের পর আশার আলো দেখে ছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু নির্মাণের সাত দিনের মধ্যে জলের তোড়ে ভেসে গেল সেতুটি। ফলে দুর্ভোগ কমেনি তাঁদের। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাস্তা ঠিক না হলে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন।

সেতু প্রসঙ্গে বিনপুর দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাহালা হাঁসদার বক্তব্য, নির্মাণের কয়েকদিন পরে কেন সেটি ভেঙে গেল, সেবিষয়ে ইঞ্জিনিয়াররাই বলতে পারবেন। যাতে তাড়াতাড়ি সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা যায় বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

লুকোচুরি খেলতে খেলতে ট্রেনে চেপে ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায়! আড়াই বছর পর বাড়ি ফিরল খুদে

যদিও মানুষের এই দুর্ভোগের জন্য শাসকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ঝাড়গ্রামের বিজেপি জেলা সভাপতি তুফান মাহাতো বলেন, শুধু বিনপুর দুই ব্লক নয়, এভাবে দুর্নীতি করে ঝাড়গ্রাম জেলার সমস্ত জায়গায় কোটি কোটি টাকা লুঠ করা হয়েছে। মানিকপাড়া এলাকায় সেচ নালা এবং ফলের বাগান তৈরি করার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। কোথাও এক কোদাল মাটিকাটা হয়নি। ফলের গাছও লাগানো হয়নি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলার মানুষ তার জবাব দেবেন।

You might also like