Latest News

Bimal Gurung-Mamata Banerjee: মমতাকে চিঠি গুরুংয়ের, এখনই চান না জিটিএ ভোট, আমলই দিচ্ছে না নবান্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতমাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড় সফরে গিয়ে সবকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে জিটিএ ভোট দ্রুততার সঙ্গে করানোর কথা বলেছিলেন মমতা। তার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। কিন্তু ঘটনা হল মমতার পাহাড় সফরের সময়ে কার্যত ঘরে ঢুকেছিলেন বিমল গুরুং। এখন যখন প্রশাসনিক স্তরে জিটিএ তথা গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ভোট করানোর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে ঠিক সেই সময় নির্বাচন স্থগিত করা হোক বলে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন গুরুং (Bimal Gurung-Mamata Banerjee)।

মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফরে সেখানকার নতুন দল হামরো পার্টি থেকে শুরু করে প্রায় সব দলই বলেছিল তারাও চান জিটিএ ভোট হোক দ্রুত। তবে বিমল গুরুং সেখানে না গেলেও তাঁর দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা রোশন গিরি জানিয়েছিলেন, তাঁরা এখনই ভোটাভুটি চান না। তাঁরা রাজ্যের মধ্যে থেকেই পাহাড়ের জন্য আরও স্বশাসন চান। তার পর এ বার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ভোট পিছনোর দাবি তুললেন গুরুং (Bimal Gurung-Mamata Banerjee)।

জন্মের ন’বছর পর হাঁটা শুরু আজমিরার, চাঁচল হাসপাতালের চিকিৎসায় আলো দেখল দিনমজুর পরিবার

নবান্ন অবশ্য গুরুংয়ের এই চিঠিকে বিশেষ আমল দিতে চাইছে না। এমনিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার যা স্থির করেন তা থেকে পিছিয়ে যান না। উপরি নবান্ন কর্তারা মনে করছেন, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়ং, মিরিক—পাহাড়ের সর্বত্র গুরুংয়ের নিয়ন্ত্রণ এখন ক্রমশই ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে। আগের নিয়ন্ত্রণ আর নেই। ফলে গুরুং হয়তো বুঝতে পারছেন, ভোট হলে তাঁর দুর্বল জনভিত্তি বেআব্রু হয়ে পড়বে। ক্ষমতা যাতে অন্য কোনও নেতার নিয়ন্ত্রণে না যায় সে কারণেই এখনই ভোটের বিরোধিতা করছেন।

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে গুরুং এদিন স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন যে তাঁরা বিজেপির সংশ্রব ত্যাগ করেছেন। আবার এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথাও খোলাখুলি ঘোষণা করেছে জিজেএম। অর্থাৎ ঘুরিয়ে গুরুং বলতে চেয়েছেন, এবার তাঁর দাবিও শোনা হোক।

বছর তিনেক আগের ঘটনা। পাহাড় তখন জ্বলছে। সেই অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের নেতা ছিলেন গুরুং। পাতলেবাসে তাঁকে ধরতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন এসআই অমিতাভ মালিক। তারপর থেকে বিমল গুরুং যে আবডালে চলে গিয়েছিলেন তাঁর টিকি পাওয়া যায়নি। ২০২০ সালের দুর্গাপঞ্চমীর বিকেলে হঠাৎ গুরুং কলকাতায় প্রকাশ্যে আসেন। তারপর সল্টলেকের গোর্খাভবন থেকে তাঁর বেরিয়ে যাওয়া, গ্র্যান্ড হোটেলের সাংবাদিক বৈঠক, বিজেপির তুলোধনা করে তৃণমূলকে সমর্থনের ঘোষণার পর আন্দোলিত হয়েছিল বাংলার রাজনীতি।

কিন্তু বিধানসভা ভোটে দেখা যায়, গুরুং তৃণমূলের সঙ্গে থেকেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। পাহাড়ে তাঁর আবেদনে আর সাড়া মিলছে না। বরং পুরভোটে স্যুইপ করেছে হামরো পার্টি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাহাড়ে একদা গুরুংয়ের দাপট ছিল ঠিকই। কিন্তু মর্যাদায় গুরুং কখনও সুভাষ ঘিসিংয়ের স্তরে যেতে পারেনি। বরং তাঁর ছল্লিবল্লিতে মোহভঙ্গ হয়েছে পাহাড়বাসীর। অনেকের কাছেই স্পষ্ট, পাহাড়ের স্বার্থর তুলনায় গুরুংয়ে ব্যক্তি স্বার্থই বড় হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত সেই কারণেই এই গুরুংকে আর গুরুত্ব দিচ্ছে না নবান্নও।

You might also like