Latest News

বিপিনের শূন্য স্থানে কে? সিডিএস পদে আবেদনের সুযোগ বৃদ্ধি করল কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনা সর্বাধিনায়ক বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) বিপিন রাওয়াত প্রয়াত হয়েছেন গত বছর ডিসেম্বরে। সেই থেকে পদটি শূন্য। নরেন্দ্র মোদীর সরকার পদটি (Indian Army) পূরণের উদ্যোগ নিল। বিপিনকে সিডিএস (CDS) পদে বেছে নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেনা প্রধানের পদে কার্যকাল শেষ হওয়ার পর দিন সেনা সর্বাধিনায়ক হন তিনি।

কিন্তু সিডিএস পদে নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকার আবেদনের যোগ্যতা আরও বিস্তৃত করল। কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল, এয়ার মার্শাল, ভাইস অ্যাডমিরালরাও সেনা সর্বাধিনায়ক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সামরিক মহলের বক্তব্য, নতুন সিডিএস নিয়োগে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। তার কারণ দুটি। এক. পদটির গুরুত্ব। দুই. বিপিন পদটির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা দিয়ে। স্বভাবতই গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি বেশি দিন ফাঁকা রাখা যাবে না।

বিপিনের উত্তরসূরী বাছাই করা সহজ কাজ নয় বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তিন বাহিনীর মধ্য সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে পরবর্তী সিজিএস হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ তিনি নেভি এবং এয়ার ফোর্স প্রধানদের তুলনায় সিনিয়রিটিতে প্রায় দু বছর এগিয়ে।

কিন্তু লক্ষণীয় হল, সিডিএস পদের জন্য এমন নির্দিষ্ট কোনও শর্ত বেঁধে দেওয়া নেই। ফলে সরকার চাইলে তিন তারা বিশিষ্ট যে কোনও পদস্থ অফিসারকেই সিডিএস পদে বসাতে পারে। আগে শুধু চার তারা বিশিষ্ট অফিসারেরা বিবেচিত হতেন। তবে এই পদটির জন্য মূল বিচার্য হচ্ছে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা। তাই তিন বাহিনীর উপ প্রধান এবং অবসরপ্রাপ্তদেরও সিডিএস পদে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে সিডিএস পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে কারগিল যুদ্ধের ঠিক পরে। সেই সময় যুদ্ধের সেনার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে অটল বিহারি বাজপেয়ির সরকার কমিটি করে। কারগিল যুদ্ধ ভারতীয় সেনা সসম্মানে জয়লাভ করলেও দেখা যায় তিন বাহিনী অর্থাৎ আর্মি, নেভি এবং এয়ার ফোর্সের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তখনই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি সরকারকে বলেছিল চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা সেনা সর্বাধিনায়কের পদ সৃষ্টি করার জন্য। কিন্তু বাজপেয়ি সরকার তারপরে আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ওই সুপারিশ কার্যকর করেনি। পরে পর পর দুটি ইউপিএ সরকারও ১০ বছর ধরে ওই প্রস্তাব ফেলে রাখে। এমনকী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম সরকারও উচ্চবাচ্য করেননি।

বরং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে আর্মি প্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার মুখে স্বয়ং বিপিন রাওয়াত এই ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল
এই ব্যাপারে সহমত হন। তারপর বিপিন রাওয়াতকেই দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক পদে বসানো হয়।

তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা ছাড়াও সেনা সর্বাধিনায়কের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল তাঁকেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামরিক সচিবের দায়িত্ব সামলাতে হবে। আবার তিনিই হন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা। এছাড়া তিন বাহিনীর উচ্চ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

গুলি করে জামাইকে খুন করল শ্বশুর! মেয়ের প্রেম মানতে পারেনি সে, প্রকাশ্যে মর্মান্তিক ভিডিও

You might also like