Latest News

ট্রাম্প যাই বলুন, বিদেশিদের আমেরিকায় আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে না, জানালেন বাইডেনের ঘনিষ্ঠ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড সংক্রমণের ভয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও ব্রাজিল থেকে কাউকে আমেরিকায় আসতে দিচ্ছিল না ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কিন্তু বিদায় নেওয়ার ঠিক আগে, গত সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভাবী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখপাত্র জেন সাকি ঘোষণা করলেন, ট্রাম্প যাই বলুন, নিষেধাজ্ঞা উঠছে না। তিনি টুইট করে বলেন, ‘আমাদের মেডিক্যাল টিমের পরামর্শ অনুযায়ী প্রশাসন ২৬ জানুয়ারি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলবে না।’

পরে সাকি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে বিদেশভ্রমণের ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও মজবুত করে তোলা যায়।’ করোনা অতিমহামারী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। বিশ্ব জুড়ে কোভিডের এমন কয়েকটি স্ট্রেন দেখা গিয়েছে যা আরও ছোঁয়াচে। এইসময় বিদেশ ভ্রমণের ওপরে নিষেধাজ্ঞা তোলা সম্ভব নয়।’

আগামী ২০ জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেবেন বাইডেন। বাইডেনের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য তৈরি হয়েছে একটি কমিটি। শপথগ্রহণের থিম হবে ‘আমেরিকা ইউনাইটেড’। একটি সূত্রে খবর, এফবিআই বলেছে, ১৬ জানুয়ারির পর ট্রাম্পের সমর্থকরা হামলার চেষ্টা করবে। সেনেটর ক্রিস মার্ফি প্রতিরক্ষা দফতরের কার্যনির্বাহী সচিবকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, ১৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ডও রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। তিনি চান, বাইডেনের শপথের সময় ওয়াশিংটনে সেনা মোতায়েন করা হোক।

গত ৭ জানুয়ারি মার্কিন সংসদ ভবনে হামলা করে ট্রাম্পের সমর্থকরা। সেদিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত করা নিয়ে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ এবং সেনেটের বৈঠক চলছিল। সেই সময়েই বিক্ষোভকারীরা জোরজবরদস্তি বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছিল। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করলেই অশান্তি শুরু হয়ে যায়। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে, ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। তাতে চারজনের প্রাণ যায়। এর পরে মুখ খোলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, আজকের দিনটিকে ইতিহাস যথাযথভাবেই মনে রাখবে। এই হিংসার পিছনে আছেন একজন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পকে দোষ দিয়ে ওবামা বলেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইনসম্মত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যা বলে চলেছেন। তিনি যে কাজ করেছেন, তাতে অসম্মানিত হয়েছে পুরো আমেরিকা। কিন্তু ট্রাম্প আচমকা কিছু করেননি।

ওবামার মতে, বেশ কিছুদিন ধরে এই হিংসার প্রস্তুতি চলছিল। তিনি বলেছেন, “দু’মাস ধরে একটি রাজনৈতিক দল ও তার অনুগত মিডিয়া তাদের সমর্থক ও দর্শকদের সত্যি কথাটা জানায়নি। সত্যি কথাটা হল এই যে, বাইডেন মোটেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ট্রাম্পকে পরাজিত করেননি।” এরপরে ওবামা সরাসরি মিথ্যা খবর প্রচারের জন্য রিপাবলিকান পার্টি ও তার সমর্থক মিডিয়াকে দায়ী করেছেন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাল্পনিক খবর প্রচার করা হয়েছে। নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভে ইন্ধন দিয়ে তাঁদের একাংশকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে হিংসার পথে।

You might also like