Latest News

স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য বিদেশ যাচ্ছেন বন্ধু! কিছুতেই হতে দেবেন না বান্ধবী, সটান গেলেন আদালতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরেই ক্রনিক অসুখে ভুগছেন নয়ডার (Noida) এক ব্যক্তি। চিকিৎসা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এমন জায়গাতেই গিয়ে পৌঁছেছে, যে, ঘরের ভিতর দু-এক পা হাঁটাচলা বাদ দিলে নড়াচড়ারও শক্তি নেই তাঁর। যন্ত্রণার জীবন থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য স্বেচ্ছামৃত্যুই (Euthanasia) একমাত্ৰ উপায় বলে মনে হয়েছিল তাঁর। যেহেতু ভারতে স্বেচ্ছামৃত্যু আইনসিদ্ধ (Illegal) নয়, তাই বিদেশে (Europe) গিয়ে নিজের ইচ্ছায় জীবন শেষ করে দেবেন বলে ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু বাধ সাধলেন তাঁর বান্ধবী। বন্ধুকে (Friend) বাঁচাতে হলে তাঁর বিদেশ যাওয়া আটকাতেই হবে। মরিয়া হয়ে তাই এবার আদালতের (Delhi HC) দ্বারস্থ হলেন ৪৯ বছর বয়সী মহিলা।

গত বুধবার এই মর্মে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করেছেন তিনি। তাঁর পিটিশন থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৪ সাল থেকেই ‘ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম’ নামে বিশেষ অসুখে ভুগছেন তাঁর বন্ধু ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি প্রায় চলচ্ছক্তিহীন হয়ে পড়েছেন। বিছানাতেই দিন কাটে তাঁর। সেই কারণেই স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিতে চান তিনি।

পিটিশনে ওই মহিলা আরও জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি তাঁর বাবা-মার একমাত্র পুত্রসন্তান। তাঁর এক বোন রয়েছেন। বাবা-মা দুজনেই সত্তোরোর্ধ্ব। ২০১৪ সাল থেকেই ওই ব্যক্তি দিল্লির এইমসে ‘ফেকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ নামক চিকিৎসার অধীনে রয়েছেন। কিন্তু দাতার অভাবে করোনা অতিমহামারীর সময় থেকেই চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। এই অবস্থায় সুইজারল্যান্ডের একটি সংস্থার সাহায্যে ‘ইউথান্যাশিয়া’ বা স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সেই কারণেই কিছুদিন পর বিদেশ চলে যাচ্ছেন ওই যুবক।

আবেদনকারিনীর দাবি, চিকিৎসা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে ওই ব্যক্তির। তা সত্ত্বেও তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা অত্যন্ত যন্ত্রণা পাবেন। এছাড়া আরও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন ওই মহিলা। আদালতকে তিনি জানিয়েছেন, দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র আদায় করেছেন তাঁর বন্ধু। বেলজিয়ামে চিকিসা করাতে যাচ্ছেন, এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই ‘শেঙ্গেন ভিসা’ নামে একটি বিশেষ ভিসা আদায় করেছেন ওই ব্যাক্তি, যার সাহায্যে ইউরোপের ২৬টি দেশে বিনা বাধায় ঘুরতে পারবেন তিনি, এমনটাই দাবি করেছেন অভিযোগকারিণী। তিনি আরও জানিয়েছেন, গত জুন মাসে ইউথান্যাশিয়ার জন্য বেলজিয়াম হয়ে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ‘ডিগনিটাস’ নামের একটি সংস্থার সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলে এসেছেন ওই ব্যক্তি। উক্ত সংস্থাটি বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছামৃত্যুর সুযোগ করে দেয় বলে আদালতকে জানিয়েছেন তিনি।

বন্ধুত্বের হয় না কাঁটাতার! ভারত-পাক দুই বান্ধবীর গল্পে আপ্লুত সোশ্যাল মিডিয়া

অভিযোগপত্রের সঙ্গে তিনি বন্ধুর মেডিক্যাল রিপোর্টও জুড়ে দিয়েছেন, যেখানে এইমসের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, আরও পরীক্ষানিরীক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বেলজিয়াম যাচ্ছেন ওই ব্যক্তি। মহিলার দাবি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে দিগ্ভ্রান্ত করেছেন তাঁর বন্ধু। তাঁর ইমিগ্রেশনের ছাড়পত্র আটকে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে মরিয়া হয়ে আর্জি জানিয়েছেন ওই মহিলা।

মহিলার আইনজীবী সুভাষ চন্দ্রন জানিয়েছেন, ‘আমাদের আর কোনও উপায় ছিল না। আইন মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। উনি খুব সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যাচ্ছেন না। উনি কর্তৃপক্ষকে মিথ্যে কথা বলেছেন, যে কারণে আমরা প্রার্থনা করছি যাতে ওঁকে ইমিগ্রেশনের ছাড়পত্র না দেওয়া হয়।’

এদেশে স্বেচ্ছামৃত্যু আইনসিদ্ধ নয়। কিন্তু ২০১৮ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে যুগান্তকারী রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। স্বেচ্ছামৃত্যুকে আংশিকভাবে বৈধ ঘোষনা করে শীর্ষ আদালত। বাঁচার আশা নেই, এমন অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কোমায় চলে যাওয়া রোগী, যাঁদের আর সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই অনুমতি দেয় আদালত।

You might also like