Latest News

Bengal CPM: বঙ্গ সিপিএমের গুরুত্ব বজায় রাখল দিল্লি, পিছিয়ে পড়া অংশকে নেতৃত্বে আনল পার্টি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ দিন আগে কেরলের কান্নুরে সিপিএমের পার্টি ২৩তম পার্টি কংগ্রেস শুরু মুখে অন্যতম আলোচ্য ছিল বঙ্গ সিপিএমের (Bengal CPM) ভবিষ্যৎ। একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবি এবং দলের সদস্য সংখ্যায় বড় ধরনের ভাঙনের জেরে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এই রাজ্য কতটা গুরুত্ব পাবে, সেটাই ছিল চাপা আলোচনার বিষয়। রবিবার পার্টি কংগ্রেসের শেষ দিনে এ রাজ্যের বঙ্গ সিপিএমের নেতারা যেন স্বস্তির বাতাস পেলেন।

স্বস্তির এক নম্বর কারণ, সীতারাম ইয়েচুরির (Sitaram Yechuri) পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদকের পদে থেকে যাওয়া। এ রাজ্যের সিপিএমের সিংহভাগই সীতারামের কর্মধারার সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন। বঙ্গ সিপিএমের একাংশ এখনও মনে করেন, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, দলকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যেমন আশু লক্ষ্য তেমনই বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখনও কংগ্রেসকে পাশে নিয়ে চলা সময়ের দাবি। এই প্রশ্নে সীতারামের দিক থেকে আপত্তি ওঠার সম্ভাবনা কম।

দুই, রামচন্দ্র ডোমকে পলিটব্যুরোয় এবং দেবলীনা হেমব্রমকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেওয়া। কমিউনিস্ট পার্টির আসল শক্তি গরিব মানুষ। ক্ষমতাসীন সিপিএমে পার্টির দুর্গে পরিণত হয়েছিল বাকুঁড়া, বীরভূম-সহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকা। নানা কারণে সেই সম্পর্কে ছেদ পড়েছিল। এবার রাজ্য সম্মেলন এবং তার আগে নিচুতলার সম্মেলনগুলিতে অনেক প্রতিনিধিই বলেন, দলের আসল চ্যালেঞ্জ হল গরিব মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নীবিড় করা। শ্রেণি সংগ্রামের কথা বলা পার্টির সঙ্গে সমাজের দরিদ্র, পশ্চাৎপদ অংশের সম্পর্ক ছিন্ন থেকে গেলে ভোটের লড়াইয়েও হার অবশ্যম্ভাবী।

গরিবের রাম ডাক্তার পলিটব্যুরোয়, এই প্রথম কোনও দলিত সিপিএমের সর্বোচ্চ স্তরে

সেই প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়েই রামচন্দ্র ও দেবলীনাকে সর্ব ভারতীয় নেতৃত্বে আনা হল। দু’জনেই পশ্চাৎপদ সম্প্রদায় ও দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে কাজ করেন। ফলে এক সঙ্গে সমাজের ওই অংশের প্রতিও বার্তা দিল পার্টি। রামচন্দ্র এর আগে সাংসদ ছিলেন। সেই সূত্রে সর্বভারতীয় রাজনীতির সঙ্গে বা়ড়তি যোগ ছিলই। অন্যদিকে, দেবলীনা ছিলেন মন্ত্রী। পরে দলের রাজ্য কমিটিতে জায়গা হয় তাঁর। ধারাবাহিকভাবে তাঁকে নেতৃত্বে তুলে আনা হয়েছে।

এ রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে এবার স্থান হয়েছে দুই জেলা সম্পাদক দক্ষিণ ২৪ পরগনার শমীক লাহিড়ী এবং নদিয়ার সুমিত দেকে। সুমিতের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা যথেষ্ট। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সমস্যা সঙ্কুল জেলা সম্পাদক থাকার সুবাদে শমীকের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা যেমন আছে, তেমনই প্রাক্তন এই সাংসদ সুবক্তা এবং পরিশীলিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ।

নদিয়া থেকে বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন মৃদুল দে। তাঁকে এবার বাদ দিয়ে আনা হয়েছে সুমিতকে। একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবির মধ্যে সুমিতের জেলা নদিয়ায় পুরভোটে বলতে গেলে স্রোতের বিরুদ্ধে মাটি কামড়ে থেকে একটি পুরবোর্ড সিপিএম দখল করেছে। জেলার বাকি পুরসভাগুলিতেও দলের প্রাপ্ত ভোট এই মন্দার সময়ে একেবারে মন্দ নয়। দু’বারের জেলা সম্পাদক সুমিতকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়ে খানিক এই বার্তাও দেওয়া গেল, যৌথ নেতৃত্বের লাইনে স্থির থেকেও নেতার কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হল, যা আসলে বাকি সকলের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করাও বটে।

এবারের পার্টি কংগ্রেসে জাতীয় রাজনীতি নিয়ে বড় কোনও বিতর্কের অবকাশ ছিল না। বরং মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যে রাজ্যে পার্টির পুনরুজ্জীবন। তারমধ্যে অন্যতম ছিল বাংলা। পার্টি কংগ্রেসে যে সাংগঠনিক পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে তাতে বাংলা একপ্রকার অগ্রাধিকার পেয়েছে বলা চলে। রাজ্যের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে এ রাজ্য থেকে দলের পলিব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিত্ব। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোট বিপর্যয় এবং তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানতে না পারা, পুরনোদের বসে যাওয়ার মতো নানাবিধ সমস্যা, সংকট মাথায় রেখেই গোটা দেশের নিরীখে পার্টির কাছে বাংলার সিপিএমের গুরুত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয়েছে।

You might also like