Latest News

দেশে পেট্রল, ডিজেলের দাম বেড়েছে তালিবানের জন্য, দাবি কর্নাটকের বিধায়কের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পেট্রপণ্যের (Petrol, Disel, Cooking gas) মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। শনিবার কর্নাটকের বিজেপি বিধায়ক অরবিন্দ বেল্লাদ বলেন, আফগানিস্তানে তালিবান সংকটের জন্য অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে সমস্যা হচ্ছে। সেজন্য বেড়েছে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম। বেল্লাদের মতে, ভোটাররা যথেষ্ট পরিণতবুদ্ধি। তাঁরা জানেন, কেন তেলের দাম বেড়েছে।

কর্নাটকের হুবলি-ধারওয়াদ ওয়েস্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বেল্লাদের ওই মন্তব্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে নানা মহলে। বিরোধীদের বক্তব্য, যে দেশগুলি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তাদের মধ্যে ভারতের স্থান তৃতীয়। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে ভারত খুব বেশি তেল কেনে না। গত জুলাইতে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ভারত মূলত যে ছ’টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে, তাদের মধ্যে আছে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নাইজেরিয়া, আমেরিকা ও কানাডা। সুতরাং আফগানিস্তানে যাই ঘটুক না কেন, ভারতে তেল আমদানি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গত জুন মাসে রয়টার্স জানায়, তার আগের আট মাসের তুলনায় তখন সবচেয়ে কম তেল আমদানি করছে ভারত। করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের সময় তেল পরিশোধন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য গত মাসে কংগ্রেসকে দোষ দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেন, ইউপিএ সরকারের আমলে বিভিন্ন কোম্পানির জন্য অয়েল বন্ড ইস্যু করা হয়েছিল। সেজন্যই সরকার এখন তেলের দাম কমাতে পারছে না।

গত জুলাই মাসে তেলের চড়া দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সৌদি আরবের যুবরাজ প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সলমন আল সৌদের সঙ্গে কথা বলেন পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। জ্বালানির দাম রেকর্ড চড়ার পর থেকে তেল উত্পাদনকারী দেশগুলির সঙ্গে কথা বলে হরদীপ তা আমজনতার সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন। সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে হরদীপ ট্যুইট করেন, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক এনার্জির মার্কেটে বড় শক্তি। বিশ্ব তেলের বাজারে যাতে স্থিতাবস্থা আসে, আরও ভাল পূর্বাভাস দেওয়া যায়, হাইড্রোকার্বন আরও সহজলভ্য হয়, সেজন্য যুবরাজ প্রিন্স আবদুলআজিজের সঙ্গে কাজ করার বাসনার কথা জানিয়েছি। আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ, উষ্ণতায় ভরা ছিল বলে জানিয়েছেন হরদীপ।
তিনি বলেন, আলোচনা কেন্দ্রীভূত ছিল আন্তর্জাতিক শক্তির বাজারে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া, অগ্রগতি জোরদার করার ওপর। আগামী বছরগুলিতে ভারতে ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উল্লেখ করেছি। ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে আমাদের দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত শক্তি সংক্রান্ত পার্টনারশিপে আরও বৈচিত্র্য আনতে যুবরাজের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা জানিয়েছি।

You might also like