Latest News

জলপাইগুড়ির রাস্তায় রক্তাক্ত পায়ের ছাপ, ভাল্লুকের ভয়ে কাঁপছে সবাই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : একটা-দুটো নয়, পথের ওপর বেশ কয়েকটি রক্তাক্ত পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে। লালচে, গাঢ় এবং ফিকে। সাদাচোখে সেই ছাপ দেখে মানুষের পায়ের ছাপ বলে মনে হচ্ছে না। বরং তা কোনও জন্তুর পায়ের ছাপ বলেই বোধ হচ্ছে। তবে সেটা কোন প্রাণীর পায়ের ছাপ আর তা রক্তাক্তই বা কেন, স্পষ্ট নয়। তাহলে এগুলো কীসের পায়ের ছাপ? ভাল্লুকের নাকি? পরিষ্কার বোঝা না গেলেও সেই পায়ের ছাপ ঘিরেই মঙ্গলবার ভাল্লুকের আতঙ্ক ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে। জেলাশাসকের বাংলো সংলগ্ন তিস্তা উদ্যানের সামনের রাস্তায় অজানা প্রাণীর রক্তাক্ত পায়ের ছাপের পরীক্ষা না হলেও ভাল্লুকের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েছেন বনকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকালে তখনও বোধহয় পুরোপুরি কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠেনি জলপাইগুড়ি শহর। সবে ধীরে ধীরে ব্যস্ততা শুরু হচ্ছে জেলাশাসকের বাংলোয়। হঠাৎই হইহই রব পড়ে যায়। খবর ছড়ায়, জেলাশাসকের বাংলো সংলগ্ন তিস্তা উদ্যানের সামনের রাস্তায় কোনও হিংস্র প্রাণীর রক্তাক্ত পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছে! ব্যাস, সেই পায়ের ছাপ ভাল্লুকের ধরে নিয়েই চলতে থাকে নানান জল্পনা। উৎসাহী লোকজন সেই রক্তাক্ত পদচিহ্ন দেখতেও ছুটে আসেন। এলাকায় ভাল্লুক ঘুরছে বলে রটে যায় সর্বত্র। ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে পড়েন শহরবাসী। খবর যায় বন দফতরে। তাদের কর্মীরা এসে ভাল্লুকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন।

আতঙ্ক ছড়ানোর অবশ্য যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ইতঃস্তত ভাল্লুক ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। গত ২৪ নভেম্বর মেটেলি চা-বাগানে এক কিশোরের ওপর হামলা চালায় ভাল্লুক। গুরুতর জখম সেই কিশোর শেষ পর্যন্ত মারা যায়। তিস্তা উদ্যানের জনৈক কর্মী জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় ভাল্লুক দেখা গিয়েছে। এই অবস্থায় তিস্তা উদ্যানের সামনের রাস্তায় রক্তাক্ত পায়ের ছাপ দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভাল্লুকের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় তিস্তা উদ্যান। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। বনকর্মীরা তল্লাশি চালালেও ভাল্লুকের কেনও হদিশ মেলেনি।

You might also like