Latest News

দামি জুতোর সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ টাকা ব্যাগের দাম! ৯,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে বাটাকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুতোর সঙ্গে তার ক্য়ারি ব্যাগের দামটাও ধরে নিয়েছিল বাটা। তারই খেসারত দিতে হলো ভয়ঙ্কর ভাবে। তিন টাকার কাগজের ব্যাগের জন্য গুনে গুনে ৯,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হলো বাটা ইন্ডিয়াকে।

ঘটনা চণ্ডীগড়ের। জুতোর দাম তো ঠিক ঠিক গুনে নেয় সংস্থা, কোনও ডিসকাউন্ট নেই, তার উপর ব্যাগের দামও ধরে দিতে হবে? একেবারেই মেনে নিতে পারেননি দীনেশ প্রসাদ রাতুরি। তাও এমনি ব্যাগ নয়, রীতিমতো ব্র্যান্ডের নাম সাঁটানো কাগজের ব্যাগ। ‘‘জুতোও কিনবো, দামও দেবো, আবার ব্র্যান্ডের প্রচারও করবো,’’ রাগে চণ্ডীগড় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে নালিশ ঠুকে দিয়েছিলেন দীনেশ। তুরন্ত তার জবাবও দেয় কমিশন।

দীনেশ জানিয়েছেন, সেক্টর ২২ডি-র বাটা শোরুম থেকে একজোড়া জুতো কিনেছিলেন ৫ ফেব্রুয়ারি। জুতোর দাম ছিল ৩৯৯ টাকা। তিন টাকা ব্যাগের দাম সমেত তাঁকে দিতে হয় ৪০২ টাকা। তাতেই বেজায় চটেছেন তিনি। টাকাটা বড় কথা নয়, অনিয়মটাই প্রধান। যে কোনও সংস্থা তার নামের ট্যাগ লাগানো ব্যাগের জন্য আলাদা করে দাম নিতে পারে না। এই নিয়মই ধার্য করেছে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর। সুতরাং কমিশনের কাছে তাঁর আর্জি ছিল, অভিযোগ খতিয়ে দেখে যেন ব্যবস্থা নেন কমিশনের কর্তারা। পাশাপাশি, এই হেনস্থার জন্য তাঁকে যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়।

দীনেশ প্রসাদের পক্ষেই রায় দিয়ে চণ্ডীগড় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন জানিয়েছে, গ্রাহককে ব্যাগ জোগানোর দায়িত্বও দোকানেরই। ব্যাগের জন্য নেওয়া বাড়তি তিন টাকা দীনেশকে ফেরত দিতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ দিতে হবে এক হাজার টাকা। মানসিক ভাবে হেনস্থা করার জন্য আরও তিন হাজার টাকা দিতে হবে বাটাকে। পাশাপাশি, রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা দফতরে জমা দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা।

দিল্লির আইনজীবী সাগর সাক্সেনার কথায়, ‘‘ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের রায় সারা ভারতেই প্রযোজ্য। বেশির ভাগ সংস্থাই অন্যায় ভাবে তাদের প্রোডাক্টের পাশাপাশি ক্যারি ব্যাগের জন্য আলাদা দাম ধরে নেয়। এটা একেবারেই অনুচিত। এমন কিছু হলে গ্রাহকদের তুরন্ত রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে অভিযোগ জানানো উচিত।’’

একই দাবি আইনজীবী নিখিল মাজিতিয়ারও। তিনি বলেছেন, “ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের কিছু নিয়ম আছে। সেটা সব সংস্থারই মেনে চলা উচিত। বিশেষত নিজেদের ব্র্যান্ডের লোগো দেওয়া ব্যাগের জন্য গ্রাহকদের থেকে আলাদা টাকা নেওয়ার প্রক্রিয়া সারা দেশেই চলছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।”

You might also like