Latest News

আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, পাওয়া যাচ্ছে না পালস! কীভাবে সিপিআর দেবেন, দেখুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির বয়স্ক সদস্যর হঠাৎ বুকে ব্যথা মাঝরাতে, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ! কিংবা হঠাৎ করেই খেতে গিয়ে গলায় খাবার আটকে ফেলে দম আটকে গেছে ছোট্ট বাচ্চার! এমন আচমকা বিপদের মুখে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন সকলেই। বুঝেই উঠতে পারেন না, কী করবেন। ডাক্তার, হাসপাতালের বন্দোবস্ত করতেও যে সময়টুকু লাগে, সে সময়টুকুই অনেক সময় অমূল্য হয়ে উঠতে পারে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বেসিক লাইফ সাপোর্ট’ (basic life support) জানা থাকলে।

তথ্য বলছে, বিশ্বে যত এমন আচমকা বিপদ ও তার জেরে মৃত্যু ঘটে, তার ৫০ শতাংশই এড়ানো যেতে পারত, পরিবারের সদস্যরা বা বিপদের সময়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা যদি বেসিক লাইফ সাপোর্ট জানতেন। আবার, পৃথিবীতে যত এমন ঘটনা ঘটে, তার ০.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত প্রাণে বেঁচে যান, কেবল বেসিক লাইফ সাপোর্টটুকু পাওয়ার জন্যই।Short Course: Basic Life Support | ICL

সল্টলেকের মণিপাল হাসপাতালের এমার্জেন্সি মেডিসিনের চিকিৎসক, ডক্টর পারমিতা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী হাতেকলমে শেখালেন এমনই কিছু বেসিক লাইফ সাপোর্ট।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে সিপিআর

আচমকা যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যান, তাঁর হৃদস্পন্দন বা নাড়ির গতি থেমে যায়, সাড়া না দেন, তাহলে ঠিক কী করতে হবে। এরকম কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ নানা কিছুই হতে পারে। সবসময় যে হার্ট অ্যাটাকই হবে, তা নয়। হাই ভোল্টেজের শক খেয়ে বা জলে ডুবে গিয়েও কারও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

যে কোনও ক্ষেত্রেই যদি সিপিআর অর্থাৎ কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ বুকে চাপ দিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস চালাতে হয়, তা কীভাবে করতে হবে।How to Perform CPR

  • ১. প্রথমে রোগীকে শোয়াতে হবে সমতল কোনও জায়গায়।
  • ২. পরীক্ষা করতে হবে ক্যারোটিড পালস। এই পালস কোথায় থাকে? গলার মাঝে যে শক্ত হাড় অর্থাৎ অ্যাডামস অ্যাপেল, তাতে দুটি আঙুল রেখে যে কোনও একপাশে আঙুল ঘষে সরাতে হবে। যে নিচু জায়গায় আঙুল পৌঁছবে, সেখানেই থাকে এই বিশেষ পালস।
  • ৩. ক্যারোটিড পালসের স্পন্দন না মিললে তবেই রোগীকে সিপিআর দিতে হবে।
  • ৪. মেঝেতে বা কোনও নিচু, শক্ত জায়গায় রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে, তার বুকের ঠিক মাঝখানে বিশেষ ছন্দে চাপ দিতে হবে। এই মাঝখান জায়গাটি চিহ্নিত করার পদ্ধতি হল, দুই স্তনবৃন্ত সংযোগ করা যে রেখা, সেই রেখার ঠিক মাঝখানে দিতে হবে সিপিআর।
  • ৫. ডানহাতি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডান হাতের তালুর নীচের অংশটি রাখতে হবে বুকে, সেই হাতের উপরে রাখতে হবে অন্য হাত। তার পরে এমনভাবে বুকে চাপ দিতে হবে, যাতে ৫-৬ সেন্টিমিটার নিচু হয় বুকের খাঁচা। আবার হাত ছাড়তে হবে, যাতে খাঁচা আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
  • ৬. এই পদ্ধতি এতটাই দ্রুত করতে হবে, যাতে এক মিনিটে ১০০-১২০ বার ঠিক এরমভাবে পাম্প করা যায়। এই ভাবে অন্ততপক্ষে করতে হবে ২ মিনিট।
  • ৭. তাতেও যদি রোগীর হৃদস্পন্দন না ফেরে, তাহলে মোট ২০ মিনিট ধরে এই সিপিআর দেওয়া যেতে পারে।
  • ৮. ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অর্থাৎ ৮ বছরের নীচে হলে, তাদের এই সিপিআর দিতে হবে একটানা ৩০ বার। বড়দের চেয়ে কম জোর দিয়ে।

দেখুন ভিডিও।

মুখ দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর চেষ্টা

কোভিড পরিস্থিতিতে খুব প্রয়োজন না পড়লে মুখে মুখ ঠেকিয়ে এই কাজ না করাই ভাল। এই কাজে অ্যাম্বুব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা না থাকলে একান্ত বাধ্য হয়ে মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস চালানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগীকে একই ভাবে চিৎ করে শুইয়ে, তার নাক দু’আঙুলে চেপে বন্ধ করে, মুখে মুখ ঠেকিয়ে ফুঁ দিতে হবে। দু’বার। খুব জোরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফুঁ দেওয়া নয়, শ্বাসবায়ু ঠেলে দেওয়ার মতো করে ফুঁ দেওয়া।Mouth To Rescue Breathing Photos - Free & Royalty-Free Stock Photos from Dreamstimeআর অ্যাম্বুব্যাগ থাকলে সেটি মুখে লাগিয়ে সেটির উপর দিয়ে একই ভাবে দুবার করে ফুঁ দিতে হবে।

আচমকা গলায় কিছু আটকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গেলে

  • ১. গলায় কিছু আটকালে অর্থাৎ শ্বাসনালী অবরুদ্ধ হলে রোগীকে কাশতে বলতে হবে জোরে জোরে।
  • ২. তাতে যদি না বেরোয়, তাঁকে একটি চেয়ারে বা টুলে বসাতে হবে। তার পরে তাকে পেছন দিক থেকে জাপটে, পেটের নাভির ঠিক উপরে শক্ত করে রেখে, ঊর্ধ্বমুখী একটা ধাক্কা দিতে হবে বুকের দিকে। পরপর কয়েক বার এটা করা গেলে ছিটকে বেরিয়ে আসবে শ্বাসনালীতে আটকানো বস্তুটি।
  • ৩. এই পদ্ধতির নাম হিমলিচ ম্যানুভার (heimlich maneuver)। তবে এটি একা একা টেবিলে বা চেয়ারে পেট রেখে করা একেবারেই উচিত নয়। অন্য কেউ করলেই তা নিরাপদ।
  • ৪. তাঁকে বসিয়ে সামনে ঝুঁকিয়ে পিঠের মাঝখানেও ঊর্ধ্বমুখী ধাক্কা দেওয়া যেতে পারে। তাতেও অনেক সময় কাজ হয়।
  • ৫. মনে রাখতে হবে, শ্বাসনালীতে কিছু আটকে বিষম খেলে জল খাওয়া একেবারেই অনুচিত। জল খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তেমনই অনুচিত মাথায় থাবড়া মারাও।
  • ৬. ছোটদের ক্ষেত্রে এমনটা হলে বাচ্চাটিকে উপুড় করে কোলে নিতে হবে এবং একই ভাবে বুকে চাপ দিয়ে হিমলিচ ম্যানুভার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে।How to Give the Heimlich Maneuver | First Aid Training - YouTube

ডিফিব্রিলেটর অর্থাৎ ইলেক্ট্রিক শক

  • ১. যান্ত্রিক সুবিধা থাকলে ডিফিব্রিলেশন অর্থাৎ ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে রোগীর স্পন্দন ফেরানো খুবই জরুরি লাইফ সাপোর্ট।
  • ২. আপদকালীন পরিস্থিতির কথা ভেবে এয়ারপোর্ট বা বিভিন্ন শপিং মলে অটোমেটেড ডিফিব্রিলেটর মেশিন রাখাই থাকে। সেটি অন করে, শক দেওয়ার দুটি প্যাড রোগীর বুকের নির্দিষ্টি জায়গায় বসিয়ে যন্ত্রটি চালু করে শক দেওয়া যেতে পারে।

Defibrillators can be lifesaving and it's important to have one in your school | BHF

সিনেমার পর্দায় প্রায়ই দেখা যায়, জলে ডুবে গেছেন কেউ, তাকে তুলে এনে মুখ দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। অথবা, আচমকা হার্টবিট বন্ধ হয়ে গেছে, তাঁর বুকে প্রাণপণে চাপ দিয়ে শ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ছোট্ট বাচ্চার গলায় কিছু আটকে গেলে তার পিঠে ধাক্কা মারার পদ্ধতি তো বহু পুরোনো। আবার রোগী কোলাপ্স করার মুখে নাটকীয় ভাবে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে রোগীকে বাঁচাতেও দেখা যায়।

কিন্তু এসবই দেখে যতটা সহজ এবং সাধারণ বলে মনে হয়, আদতে তা নয়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কিছু তাৎক্ষণিক সাপোর্ট দিতে পারলে, তবেই তা কার্যকর হতে পারে। এই সাপোর্ট আবার কখন, কার ক্ষেত্রে, কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে, তারও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এই নিয়মগুলি মেনে বেসিক লাইফ সাপোর্ট জেনে রাখা সকলেরই প্রয়োজন বলে মনে করেন ডক্টর পারমিতা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ               

You might also like