Latest News

সেতলাবাদের মুক্তি চান বাঁকুড়ার রাধানগরের দোকান কর্মচারী গঙ্গাধরও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দুপুরে আচমকাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বাঁকুড়ার যুবক (Bankura Youth)। ঘুরতে ঘুরতে চলে গিয়েছিলেন গুয়াহাটি। এক দিন সেখানে ধরল পুলিশ। সন্দেহ, বিদেশি। ফলে থানা ঘুরে স্থান হল বিদেশিদের রাখার ক্যাম্পে। সেখানেই চার বছর কাটে।

হয়তো বাকি জীবনটাই কেটে যেত। কিন্তু অসমের সেই ক্যাম্প থেকে ছাড়া পেয়ে এখন তিনি ফের আবার বাঁকুড়ার বাড়িতে। এখনও গুজরাতের পুলিশের হাতে বন্দি তিস্তা সেতলাবাদের (Teesta Setlavad) মুক্তি (Free) চান বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম রাধানগরের বাসিন্দা সেই যুবক গঙ্গাধর প্রামাণিক। তিস্তার এনজিও সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (সিজেপি) তাঁকে সাহায্য করেছিল অসমের জেল থেকে বেরোতে। তিস্তা তাঁর মতো অনেককেই আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করেছেন।

গঙ্গাধর, এখন রাধানগর বাজারে একটি মিষ্টির দোকানের কর্মী। মাসে চার হাজার টাকা আয় করেন। বাড়িতে শুধু তিনি আর তাঁর মা থাকেন। সংবাদমাধ্যমকে গঙ্গাধর জানান, তিনি অন্যদের কাছ থেকে সেতলাবাদের নাম শুনেছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি।

গঙ্গাধরের কথায়, ‘সেতলাবাদের এনজিও আমাকে নরক থেকে টেনে এনেছে। আমি চার বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছি। আমাকে বেধড়ক মারধর করা হত। খাবার দেওয়া হত না। ক্যাম্পে নোংরা অবস্থায় থাকতাম। আমিও চাই এই মহিলাকে মুক্তি দিক গুজরাত পুলিশ।’

গঙ্গাধর যে দোকানে কাজ করেন, তার মালিক বাপ্পা লায়েক বলেন, ‘ওঁর ট্রমা অনেকটাই কমেছে এখন। অসম থেকে ফিরে আসার পর যারা ওঁকে দেখেছে, তাঁরা জানেন যে কী অবস্থা হয়েছিল। মানসিক রোগীর মতো আচরণ করছিল গঙ্গাধর। এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।’

গঙ্গাধর ফিরে আসায় সেতলাবাদের উপর কৃতজ্ঞ গোটা গ্রাম। ওই গ্রামেরই আশিস দে নামে গঙ্গাধরের এক সহকর্মী বলছেন, ‘সেতালবাদকে গ্রেফতারের ঘটনা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। আমরা তাঁর জন্য ন্যায়বিচার দাবি করছি। কারণ আমরা দেখেছি যে, তিনি এবং তাঁর দল আমাদের গ্রামের এক যুবকের জন্য কী করেছে।’

প্রসঙ্গত, সেতলাবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গুজরাত দাঙ্গায় পরিকল্পনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম জুড়ে দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর ওই ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এর পরই গ্রেফতার হন তিস্তা।

রাধানগরের বাসিন্দারা চান দেশের নাগরিক হিসেবে তাঁরা সেতলাবাদের পাশে থাকতে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ‘আমরা দরিদ্র গ্রামবাসী… তবে তিনি এবং তাঁর সংস্থা সাধারণ মানুষের জন্য গঙ্গাধরের জন্য যা করেছেন, তা ভোলার নয়। আমরা তাঁর হয়ে প্রচার করতে চাই।’

সিজিপি-র অসমের ইনচার্জ নন্দ ঘোষ বলেছেন, তাঁরা সকলেই ‘বাংলার গ্রামবাসীদের এই সমর্থন এবং সংহতিকে সম্মান করেন।’

রেণুর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, মমতার পা ছুঁলেন হাত হারানো নার্স

You might also like