Latest News

নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দুদের উদ্দেশে বললেন হাসিনা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিজেদের সংখ্যালঘু না ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (PM Sheikh Hasina)। তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার।’

তিনি বলেন, ‘এদেশের মাটিতে সকলের সমান অধিকার। আমার যতটুকু অধিকার আপনাদেরও ততটুকু অধিকার রয়েছে।’ জন্মষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সে দেশের জন্মষ্টমী (Janmashtami) উদযাপন পরিষদ এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এই কথা বলেন।

গতকাল ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির এবং চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানের ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়কে বলব আপনারা নিজেদেরকে সংখ্যালঘু মনে করবেন না। আপনারাও সমানভাবে নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন এবং আমরাও সেইভাবে আপনাদেরকে দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘কখনও নিজেদের মনে কোন হীনমন্যতা প্রশ্রয় দেবেন না। কারণ আপনারা যাঁরা এদেশের নাগরিক তাঁরা সবাই দেশের মালিক এবং নাগরিক হিসেবে সকলের সমান অধিকার রয়েছে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে যদি চলতে পারেন তাহলে আর দুষ্টু লোকেরা কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। আর দুষ্টু লোক সবধর্মেই রয়েছে। কাজেই এই ঐক্য ও বিশ্বাসটা সকলের মধ্যে থাকতে হবে এবং সেটা নিয়েই আপনারা চলবেন, সেটাই আমি চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি ধর্মের কথাই চিন্তা করি প্রত্যেক ধর্মই কিন্তু মানবতার কথা বলে গেছে। প্রত্যেক ধর্মই অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলে গেছে। শান্তির ও প্রগতির কথা বলেছে, মানুষের ক্ষতি করার কথা বলেনি, শ্রী কৃষ্ণও সে কথাই বলে গেছেন। আর এদেশে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সেভাবেই আমরা উৎসব উদযাপন করব। প্রধানমন্ত্রী দেশে বিদেশ অবস্থানকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।

‘ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে’: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে অগস্ট মাসকে শোকের মাস হিসাবে উদযাপন করা হয়। ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট সে দেশের জাতির পিতা মুজিবুর রহমানকে সেনাবাহিনীর একাংশ খুন করে। হাসিনা বলেন, এই মাটিতে যেন সকলে স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম-কর্ম পালন করে এবং নিজেদের ধর্মমত নিয়ে চলতে পারে সেই লক্ষ্যে জাতির পিতা এদেশ স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে সপরিবারে হত্যার পর এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরই আঘাতটা আসে সবচেয়ে বেশি। কেননা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী চক্র বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করার কথা ঘোষণা করে। কিন্তু জনমতের চাপে সেটা করতে পারেনি। আর পরাজিত শক্তি তো দেশের স্বাধীনতাই মেনে নিতে না পেরে বার বার এদেশের সুন্দর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে দেশে বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, যখনই একটা কিছু ঘটে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, যখন কোন ঘটনা ঘটে তখন দেশে বিদেশে সে জিনিসটাকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যে, দেশে হিন্দু ধর্মের মানুষের কোন অধিকারই নাই। কিন্তু আমরা সে যেই হোক, যে ধর্মেরই হোক তাদের যে গ্রেফতার করি বা ব্যবস্থা নেই সেটা কিন্তু তুলে ধরা হয় না। মন্দির রক্ষা করতে গিয়ে মুসলমানরা জীবন দিয়েছে সে কথাটাও কিন্তু বলা হয় না।

তিনি মানব ধর্মে বিশ্বাস করেন এবং আমাদের ইসলাম ধর্মেও সকল ধর্মের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কোরানের কিছু অংশ তুলে ধরে বলেন, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ঠিক নয়। অন্তত তাঁর সরকার এবং আওয়ামী লিগ সে নীতিতেই বিশ্বাসী এবং যথেষ্ট সচেতন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে এবং দেশের মানুষ সকল অধিকার সমানভাবে ভোগ করবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের সকল গৃহহীন-ভূমিহীনকে ঘর করে দেয়ার পাশাপাশি তাঁর সরকার জীবন-জীবিকারও ব্যবস্থা করে দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কোন সম্প্রদায় বেছে নয়, সার্বজনীনভাবে তা করা হচ্ছে। কেননা মানব প্রেম, মানবতার জন্য কাজ করা এবং মানবতার উন্নতি করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।

You might also like